নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘আইটি-ডিপিটি’। মেসেজ প্রেরকের নাম স্ক্রিনে ভেসে উঠল। অর্থবর্ষ শেষে আয়কর দপ্তর কী মেসেজ পাঠাল দেখতে তড়িঘড়ি মেসেজ বক্স খুললেন শুভ্রদীপ চট্টোপাধ্যায় (নাম পরিবর্তিত)। চার লাইনের মেসেজ। তাতে লেখা—কিছুক্ষণের মধ্যেই আয়কর রিফান্ড ঢুকছে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। রিফান্ড বাবদ ১৫,৪৯০ টাকা ঢুকবে আপনার ****৬৭৫৫ অ্যাকাউন্ট নম্বরে। এই অ্যাকাউন্ট নম্বরটি যাচাই করে নিন। সঠিক না-হলে নীচে দেওয়া লিঙ্কে ক্লিক করে আপডেট করুন।
মেসেজের প্রথম দু’টি লাইনে রয়েছে প্রলোভনের টোপ। আর শেষ দুই লাইনে প্রতারণার ফন্দি। এই দুইয়ের মিশেলে অসতর্ক হয়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঞ্চিত অর্থ খোয়ালেন শুভ্রদীপ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানাচ্ছে, একা শুভ্রদীপ নন, দেশের বহু মানুষের কাছে এধরনের ‘আয়কর রিটার্ন’ সংক্রান্ত প্রতারণার মেসেজ যাচ্ছে। প্রতারণার বড়সড় ফাঁদ পেতেছে জালিয়াতরা। ইতিমধ্যেই প্রায় দেড় হাজারের বেশি আম জনতা প্রতারণা শিকার হয়েছেন। আয়কর রিটার্ন সংক্রান্ত প্রতারণা রুখতে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। পাশাপাশি, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার তরফেও এনিয়ে সতর্ক করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এই ধরনের মেসেজের ফাঁদে পড়ে জালিয়াতির শিকার হলে দেশজুড়ে সাইবার সংক্রান্ত অপরাধের হেল্পলাইন নম্বরে ১৯৩০-তে যোগাযোগ করতে পারবেন ভুক্তভোগীরা।
কীভাবে হচ্ছে এ ধরনের প্রতারণা? কলকাতা পুলিসের সাইবার বিভাগ সূত্রের খবর, প্রতি অর্থবর্ষের শেষদিকে আয়কর সংক্রান্ত নতুন নতুন ‘মোডাস অপারেন্ডি’ খুঁজে বের করে প্রতারকরা। চলতি বছরের ট্রেন্ড— ‘ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর যাচাই প্রক্রিয়া’। গ্রাহককে যে মেসেজ করা হচ্ছে সেটিতে প্রেরকের নামে লেখা থাকছে ‘আইটি-ডিপিটি’। প্রথমেই গ্রাহকের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা হচ্ছে। পরবর্তীতে আয়কর রিটার্নের টোপ দিয়ে মোটা টাকার প্রলোভনে পা দিচ্ছেন অনেকেই। মেসেজে লেখা সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বরটি ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল রয়েছে। ফলে ভুল অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে যাবে, তা দেখামাত্রই তড়িঘড়ি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বরটি সঠিক করতে যাচ্ছেন গ্রাহক। সেই লিঙ্কের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ‘স্ক্রিন শেয়ারিং অ্যাপ’। ক্লিক করলেই প্রতারকের কাছে গ্রাহকের মোবাইলের অ্যাকসেস চলে যাবে। সেই সুযোগেই চোখের পলকে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট!
সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আয়কর দপ্তর থেকে কখনও এধরনের মেসেজ পাঠানো হয় না। অন্যদিকে, আয়কর সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের প্যান নম্বর ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বরের সঙ্গে যুক্ত। ফলে অ্যাকাউন্ট নম্বর ভুল হওয়ার অবকাশ প্রায় নেই বললেই চলে।