নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: মহাশূন্য, মহাকাশ। এ সব এখনও অনেকের কাছে ঘোর বিস্ময়ের। বিশেষ করে শিশু মনেও থাকে প্রবল কৌতূহল। অথচ, মহাকাশ বিজ্ঞান নিয়ে পঠনপাঠন ও কেরিয়ার গঠন দুইই সম্ভব। সোমবার স্কুল পড়ুয়াদের নিয়ে সেই ক্লাসই করলেন ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর বিজ্ঞানীরা। মিটিয়ে দিলেন পড়ুয়াদের হরেক কৌতূহলও।
সুনিতা উইলিয়ামসরা দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রে কাটিয়ে সম্প্রতি ফিরেছেন। তারপর থেকেই স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে মহাকাশ নিয়ে কৌতূহলের অন্ত নেই। তাদের যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে অভিনব উদ্যেগ নেয় আরামবাগ মহকুমা প্রশাসন ও জেলা কর্ম বিনিয়োগ কেন্দ্র। একদিনের একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয় ইসরোর কলকাতায় থাকা রিজিওনাল রিমোট সেনসিঙ সেন্টারের দুই বিজ্ঞানী আরতি পাল ও প্রবীরকুমার দাস। এদিন রবীন্দ্রভবনে ‘মহাকাশ বিজ্ঞান শিক্ষা ও কর্ম জগতের সম্ভাবনা’ শীর্ষক ওই সেমিনারে হাজির ছিল আরামবাগ মহকুমার ২৭টি স্কুলের পড়ুয়ারা। এছাড়া ছিলেন আরামবাগের মহকুমা শাসক রবি কুমার ও জেলা কর্ম বিনিয়োগ কেন্দ্রের ডেপুটি ডিরেক্টর ইন্দ্রাণী সেনগুপ্ত প্রমুখ।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অভিনব উদ্যোগের সলতে পাকানো শুরু হয়েছিল অবশ্য গত বছর ৩১ জুলাই। শিক্ষা ও কেরিয়ারের পথ বাতলে দিতে কলকাতায় ইসরোর সেন্টারে বেশ কিছু পড়ুয়াকে নিয়ে যাওয়া হয় ওই দিন। সেখানে বিজ্ঞানীদের অনুরোধ করা হয় মহকুমার বাকি স্কুলের পড়ুয়াদের এই ব্যাপারে ধারণা দিতে আরামবাগে আসার। পরিকল্পনাটি আরও গতি পায় সুনিতাদের ফেরার পর।
জেলা কর্ম বিনিয়োগ কেন্দ্রের ডেপুটি ডিরেক্টর বলেন, ‘রাজ্যের মধ্যে এই প্রথম সরকারি উদ্যোগে এমন সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে উত্তরণ কর্মসূচি চলে। তার মূল লক্ষ্য ছাত্রছাত্রীদের কর্ম সংস্থানের দিশা দেখানো। সেই সূত্রেই এদিন মহাকাশ বিজ্ঞান নিয়ে এই সেমিনার পড়ুয়াদের মধ্যে যথেষ্ট সাড়া ফেলেছে। বিজ্ঞানীরা আমাদের আমন্ত্রণে আসায় বেশ ভালো লাগছে।’ এদিন সেমিনারে বিজ্ঞানীরা প্রজেক্টরের মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও দেখান। তাতে মহাকাশ বিজ্ঞান নিয়ে বোঝানো হয়। তার সঙ্গে ইসরোর মিশন সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হয়। এছাড়া দৈনন্দিন জীবনে রিমোট সেনসিঙের গুরুত্ব ও মহাকাশ বিজ্ঞান নিয়ে কেরিয়ার তৈরির পথ সম্বন্ধেও বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। সেমিনারে পড়ুয়াদের অনেকেই বিজ্ঞানীদের নানা প্রশ্নও করে। সেমিনারটি সোশ্যাল মিডিয়াতেও লাইভ স্ট্রিমিং করে প্রশাসন। নিজস্ব চিত্র