Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

ঢাকার সঙ্গে সামরিক চুক্তির পথে ইসলামাবাদ

দেশের মধ্যে ভারত বিরোধী প্রচার, প্ররোচনা, উসকানিকে পরোক্ষ মদত দিচ্ছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। অথচ ভারতীয় দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ আন্দোলন এমনকি হামলার ঘটনায় চোখ বন্ধ করে থাকছে।

ঢাকার সঙ্গে সামরিক চুক্তির পথে ইসলামাবাদ
  • ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দেশের মধ্যে ভারত বিরোধী প্রচার, প্ররোচনা, উসকানিকে পরোক্ষ মদত দিচ্ছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। অথচ ভারতীয় দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ আন্দোলন এমনকি হামলার ঘটনায় চোখ বন্ধ করে থাকছে। যখন তখন ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়ে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। আবার অলক্ষ্যে মহম্মদ ইউনুসের সেই অন্তর্বর্তী সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক চুক্তি করার পথ প্রশস্ত করেছে। বিগত মাসগুলিতে পাকিস্তানের সরকার, গুপ্তচর সংস্থা আইএসআ‌ই, ঩তিন সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধিদের সঙ্গেই পৃথকভাবে বৈঠক করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্ট্র্যাটেজিক চুক্তি স্বাক্ষর করার পথে এগোচ্ছে ঢাকা।

Advertisement

প্রাথমিকভাবে স্থির হয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসের নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর যে সরকার আসবে তারাই এই চুক্তি সম্পন্ন করবে। নির্বাচনে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, জমিয়তে ইসলামি হবে চালিকাশক্তি। এই পরিকল্পনা সামনে রেখেই ইউনুস সরকার অগ্রসর হয়েছে। কিন্তু আর দেরি করতে নারাজ পাকিস্তান। সম্প্রতি তারা বাংলাদেশকে চাপ দিয়েছে, একটি আগাম সামরিক সমঝোতায় স্বাক্ষর করে রাখা হোক। পাকিস্তানের সঙ্গে যে সামরিক চুক্তি বাংলাদেশের হতে চলেছে, সেখানে ভারতের জন্য প্রধান উদ্বেগসূচক বার্তা হল, বাংলাদেশে যে কোনও সময় পাক সেনা প্রবেশ করতে পারবে। হবে যৌথ মহড়া। পাকিস্তান নিজেই নাজেহাল নিজের দেশে। তাহলে তার পক্ষে এত প্ল্যান প্রয়োগ করা সম্ভব কীভাবে? জানাযাচ্ছে, আসলে চীনই এই চুক্তির মূল চালিকাশক্তি। পাকিস্তান আর্মির আড়ালে চীন স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি চায় বাংলাদেশে। মোংলা বন্দর পরিকাঠামোর কাজ করছে চীন। শিলিগুড়ির কাছে লালমণিরহাটে বাংলাদেশি এয়ার ফোর্স ঘাঁটি করার সক্রিয়তায় চীন। পাকিস্তান সবেমাত্র সৌদি আরবের সঙ্গে সামরিক চুক্তি করেছে। তারপরই বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করতে চলেছে। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে পরমাণু প্রযুক্তি সংক্রান্ত কোনও শর্ত চুক্তির অন্তর্গত নেই। কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে থাকবে। জানা যাচ্ছে, শুধুই পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধিরাই বাংলাদেশে এসেছিল এমন নয়। বাংলাদেশ সেনার এক উচ্চপর্যায়ের দলও ইসলামাবাদ সফরে গিয়েছিল। ফেব্রুয়ারি মাসের নির্বাচনের আগেই এই সামরিক চুক্তির পথ প্রশস্ত করে এই প্রক্রিয়ার নাম দেওয়া হবে জয়েন্ট মেকানিজম টু ড্রাফট মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট। পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের এই নয়া সামরিক বন্ধুত্ব তৈরির পিছনে কি বৃহৎ কোনও শক্তি আছে? চীনের দিকে অঙ্গুলিহেলন তো প্রত্যাশিত। কিন্তু প্রশ্ন হল, আরও বৃহৎ কোনও শক্তির সবুজ সংকেত আছে কি?  

সম্পর্কিত সংবাদ