নয়াদিল্লি: গত তিন দশক ধরে পাকিস্তান জঙ্গিদের সমর্থন ও প্রশিক্ষণ দিয়ে চলেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে এই কথা স্বীকার করে নিলেন স্বয়ং পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ! পাকিস্তান সরকারের মদতে জঙ্গিরা ভারতে নাশকতামূলক কাজকর্ম চালায়— বারবার এই দাবি জানিয়ে এসেছে দিল্লি। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য সেই দাবিতেই সিলমোহর দিয়ে দিল মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। যদিও আসিফের দাবি, আমেরিকা ও পশ্চিমি দুনিয়ার জন্যই জঙ্গিদের সমর্থনে পাকিস্তান বাধ্য হয়েছে। এদিকে, পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী তথা উপ প্রধানমন্ত্রী ইশাক দার পহেলগাঁওয়ে হামলাকারী জঙ্গিদের ‘স্বাধীনতা সংগ্রামী’ আখ্যা দিয়ে বিতর্ক বাড়িয়েছেন। ইসলামবাদে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে যারা হামলা চালিয়েছে, তারা স্বাধীনতা সংগ্রামীও হতে পারে।’ অথচ জঙ্গি হানার পরে সরকারিভাবে দুঃখপ্রকাশ করেছিল পাকিস্তান। তবে সেটা যে ইসলামাবেদর দ্বিচারিতা, বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্যে তা স্পষ্ট হয়েছে।
সম্প্রতি ব্রিটিশ চ্যানেল স্কাই নিউজে সাক্ষাত্কার দেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী। সেই সাক্ষাত্কারে উপস্থাপিকা আসিফকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনাকে তো স্বীকার করতেই হবে যে, জঙ্গি সংগঠনগুলির জন্য টাকা জোগাড় করা, জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ ও সমর্থন দেওয়ার কাজ পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই চালিয়ে যাচ্ছে?’ জবাবে খোয়াজা বলেন, ‘আমেরিকা ও ব্রিটেন সহ পশ্চিমি দুনিয়ার জন্য আমরা তিন দশক ধরে এই ‘নোংরা কাজ’ করতে বাধ্য হয়েছি। এটা ভুল, আর আমাদের তার জন্য ভুগতে হচ্ছে। আমরা যদি সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ না দিতাম ও ৯/১১ জঙ্গি হামলার পরবর্তী সময়ে আমেরিকার সঙ্গে না থাকতাম, তাহলে পাকিস্তান এক অনবদ্য ট্র্যাক রেকর্ডের অধিকারী হতো।’
ঠান্ডা যুদ্ধ চলাকালীন তত্কালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে আমেরিকাকে সমর্থন করেছিল পাকিস্তান। একইভাবে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধ্বংসের পর তালিবানের বিরুদ্ধে যুদ্ধেও আমেরিকার পাশে ছিল ইসলামাবাদ।
পাকিস্তানকে ঘাঁটি বানিয়ে যে জঙ্গিরা ভারতে নাশকতামূলক কাজকর্ম চালাচ্ছে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ জানিয়ে আসছে ভারত। একাধিক শীর্ষ জঙ্গি নেতাকে আশ্রয়ও দিয়েছে তারা। তবে ইসলামাবাদ কোনওদিনই এই অভিযোগ স্বীকার করেনি। এবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিজেই বিষয়টি স্বীকার করে নেওয়ায় পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেল মনে করা হচ্ছে।
ওই সাক্ষাত্কারেই খোয়াজা দাবি করেছেন, লস্কর-ই-তোইবার কোনও অস্তিত্ব এখন আর নেই। তাদের ছায়া সংগঠন রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের কথা তিনি শোনেনি। ভারত যদি ২০১৯ সালের এয়ারস্ট্রাইকের মতো কোনও
পদক্ষেপ করে, তাহলে পাকিস্তান ‘অল-আউট’ আক্রমণে যাবে বলেও দাবি করেছেন তিনি।