নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: খেলা হবে। দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে জট কাটল আইএসএলে। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে ফেডারেশন ও ক্লাবজোটের বৈঠকের পর আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি লিগ শুরুর ঘোষণা করা হয়। মোট ১৪টি দলই আইএসএলে অংশ নেবে। এই বিষয়ে ক্লাবজোটের সঙ্গে আলোচনার পর দ্রুত লিগের সূচি ঘোষণা করার বিষয়ে নিশ্চয়তা দিয়েছে সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থা। অচলাবস্থা কাটায় স্বস্তিতে ফুটবল মহল। কলকাতার তিন প্রধানেও খুশির হাওয়া। মোহন বাগান সচিব সৃঞ্জয় বসুর মন্তব্য, ‘মাঠে ফুটবল ফিরছে। এটাই তো সবাই চেয়েছিলাম। পরিকল্পনামাফিক আয়োজন চাই। সম্প্রচারের ক্ষেত্রেও কোনও আপোস করা চলবে না।’ অন্যদিকে, জট কাটাতে দীর্ঘদিন ধরেই বাড়তি উদ্যোগ নিয়েছিল ইস্ট বেঙ্গল। এমনকী, প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েও হস্তক্ষেপের দাবি করে মশালবাহিনী। এদিন শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকারের মন্তব্য, ‘স্থির বিশ্বাস ছিল, দেশে ফুটবল থেমে থাকতে পারে না। ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত সবার মুখে হাসি ফিরছে। এটাই বড় প্রাপ্তি।’ মহমেডান স্পোর্টিং কর্তা মহম্মদ কামারুদ্দিন বললেন, ‘আর্থিক সমস্যা রয়েছে। তবে খেলা নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই।’ কিন্তু কোন ফরম্যাটে লিগ হবে? জানা গিয়েছে, হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিতে মোট ১৩টি ম্যাচ খেলবে প্রতিটি দল। বাকিটা ক্রমশ প্রকাশ্য। লিগ কাম নক-আউট হলেও অবাক হওয়ার থাকবে না। এক্ষেত্রে ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবের মন্তব্য, ‘প্রতিটি দল ১৩ টি করে ম্যাচ খেলবে। হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিতে খেলা হবে।’
মঙ্গলবার দুপুরে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে ক্লাবজোটের বৈঠক ঘিরে কৌতূহল ছিল চরমে। আসলে ক্লাবজোটের সঙ্গে ফেডারেশনের দূরত্ব দীর্ঘদিনের। মতপার্থক্য ঘুচিয়ে কিছুতেই জোটকে বাগে আনতে পারছিল না এআইএফএফ। পরিস্থিতি দেখে আসরে নামে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক। পাশাপাশি ফেডারেশনের তিন সদস্যের কমিটিও কড়া হাতে রাশ ধরার রিপোর্ট পেশ করে। এদিনের বৈঠকে পরতে পরতে নাটক। সূত্রের খবর, নরমে-গরমে পরিস্থিতি বোঝানোর চেষ্টা করেন ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য। কিন্তু তাতেও বরফ পুরো গলেনি। এরপর কার্যত লাল কার্ড দেখানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে সুর চড়ান মনসুখ। চড়া মেজাজেই জোঁকের মুখে নুন পড়ে। এরপর আর না বলার সাহস দেখায়নি ওড়িশা, মুম্বই, কেরল ব্লাস্টার্সের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি। কার্যত রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ক্লাবজোটের দাবিকে দমিয়ে দেন মনসুখ। ঘর ও ইমেজ সামলাতে আসরে নামতে হল খোদ ক্রীড়ামন্ত্রীকে। কিন্তু অভিজ্ঞ মহলের ধারণা, আপাতত মনসুখ স্রেফ ড্যামেজ কন্ট্রোল করলেন। দীর্ঘমেয়াদী সমাধান না হলে সমস্যা ফের মাথাচাড়া দেবে। কারণ, পার্টিসিপেশন ফি বাবদ ১ কোটি টাকা দিতে হচ্ছে প্রতিটি ক্লাব ও ফ্র্যাঞ্চাইজিকে। এছাড়াও লিগ চালানোর আলাদা খরচ হিসাবে আরও প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা খরচ হবে। তা নিয়ে জোটকর্তারা অনেকেই ক্ষুব্ধ। উল্লেখ্য, তিন সদস্যের কমিটির রিপোর্টে ৩১ মে’র মধ্যে পরবর্তী মরশুমের কমার্শিয়াল পার্টনার ও সম্প্রচারকারী চূড়ান্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি জানা যাচ্ছে, ফেব্রুয়ারিতেই ১১ টি দলকে নিয়ে আই লিগ শুরু হবে। কিবু ভিকুনার প্রশিক্ষণাধীন ডায়মন্ডহারবার এফসি ইতিমধ্যেই শক্তিশালী দলগঠন করেছে।