নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: নবোদয় বিদ্যালয় নিয়ে কি উদাসীন হয়ে রয়েছে মোদি সরকার? এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে শিক্ষা বিশেষজ্ঞ মহলে। দেখা যাচ্ছে, বিগত তিন বছরে নবোদয় বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের জেইই মেইন, জেইই অ্যাডভান্স বা নিট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সংখ্যা আশানুরূপ নয়। বরং তিন বছরে ক্রমশ কমছে উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা। শিক্ষামন্ত্রকের এই সংক্রান্ত পরিসংখ্যানে তাই চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সামগ্রিক বিষয়কে রীতিমতো উল্লেখযোগ্য বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রকের যে খতিয়ান পাওয়া গিয়েছে, সেখানে ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তথ্যের উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, জেইই অ্যাডভান্স এবং জেইই মেইন—দু’ক্ষেত্রেই ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে নবোদয় বিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ পড়ুয়ার সংখ্যা কমেছে। নবোদয় বিদ্যালয়ে পাঠরত ১ হাজার ২২৮ জন পড়ুয়া ২০২৩ সালে জেইই অ্যাডভান্স পরীক্ষায় পাস করেছিল। কিন্তু ২০২৪ সালে ওই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৩ জন। আবার ২০২৩ সালে নবোদয় বিদ্যালয়ে পাঠরত ৪ হাজার ৭২৬ জন ছাত্রছাত্রী জেইই মেইনের বেড়া টপকেছে। ২০২৪ সালে ওই সংখ্যা লক্ষ্যণীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে ৪ হাজার ৩৫২ জনে। নিটের ক্ষেত্রে ২০২২ সালে নবোদয় বিদ্যালয়ের মোট ১৯ হাজার ৩৫২ জন পড়ুয়া পাস করেছে। অথচ তার পরের বছর ওই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৮০৯ জনে। স্বাভাবিকভাবে এহেন পরিসংখ্যানকে গুরুত্ব দিয়েই দেখতে চাইছে ওয়াকিবহাল মহল।
যদিও, সংশ্লিষ্ট বছরগুলিতে দেশব্যাপী নবোদয় বিদ্যালয়ের কতজন ছাত্রছাত্রী জেইই মেইন, জেইই অ্যাডভান্স বা নিট পরীক্ষায় বসেছিল, ওই পরিসংখ্যানে তার কোনও উল্লেখ নেই। ফলে এই সংক্রান্ত হার বৃদ্ধি পেয়েছে, নাকি কমেছে—তা নিয়ে কিছুটা সন্দিহান বিশেষজ্ঞরা। তবে উত্তীর্ণের সংখ্যা যে হ্ব্রাস পেয়েছে, তা স্পষ্ট। প্রসঙ্গত, ১৯৮৬ সালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর হাতেই নবোদয় বিদ্যালয়ের গোড়াপত্তন হয়। প্রধানত দেশের গ্রামীণ অঞ্চলের ছেলেমেয়েরা যাতে উন্নত মানের শিক্ষা পায়, সেই লক্ষ্যেই জেলাস্তরে নবোদয় বিদ্যালয়ের সূচনা। বর্তমানে দেশের মোট ৬৩৮টি জেলায় ৬৬১টি নবোদয় বিদ্যালয় আছে। কংগ্রেস আমলের পরিকল্পনা বলেই কি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের এই উদাসীনতা? তা নিয়েও ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।