শ্রীনগর, ১৫ মে: পহেলগাঁওতে নিরীহদের উপর হামলা চালিয়ে খুন করে জঙ্গিরা। সেই হামলার বিরুদ্ধে যোগ্য জবাব দিয়েছে ভারতীয় সেনা। পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে থাকা একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারত। সেই প্রত্যাঘাতের জন্য পাল্টা হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তানি সেনা। সেই হামলাও রুখে দিয়েছে ভারতীয় সেনা। পাক সেনাকেও যোগ্য জবাব দেওয়া হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে আপাতত যুদ্ধবিরতি রয়েছে। তবে ভারতের তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, আর কোনও জঙ্গি হামলা তার জবাব আরও কড়া ভাবে দেওয়া হবে। ভারতীয় সেনার এই পরাক্রমে গর্বিত দেশবাসী। প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। কিন্তু ভারত যাতে হামলা না চালায় তাই বারবার পাক সেনা কিংবা সেখানকার মন্ত্রীরা পরমাণু হামলার হুমকি দিয়েছেন। যেটা ভালোভাবে নেয়নি নয়াদিল্লি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, ‘পরমাণু হামলার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেল করা যাবে না।’ আজ, বৃহস্পতিবার ঠিক সেই একই কথা বললেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও। এদিন জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগরে গিয়েছেন তিনি। এদিন কাশ্মীরের বাদামিবাগ সেনাছাউনি ঘুরেও দেখেন রাজনাথ। তারপরেই তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বীর জওয়ানদের আত্মত্যাগকে আমি শ্রদ্ধা জানাই। পহেলগাঁওয়ে নিহত সাধারণ নাগরিকদের প্রতিও আমি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করি। অপারেশন সিন্দুর একটা অঙ্গীকার। ওরা ধর্ম দেখে নিরীহ মানুষদের মেরেছে কিন্তু আমরা কর্ম দেখে জঙ্গিদের মেরেছি। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এটি ভারতের সবচেয়ে বড় অভিযান। সন্ত্রাসবাদকে নির্মূল করতে আমরা যে কোনও সীমা পর্যন্ত যাব। পাকিস্তানকে অবিলম্বে জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করতে হবে।’ পাশাপাশি পরমাণু হামলার হুমকি নিয়েও এদিন তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আজ শ্রীনগরের মাটি থেকে দাঁড়িয়ে বলতে চাই।
পাকিস্তানের মতো দায়িত্বজ্ঞানহীন ও দুর্বৃত্ত দেশের কাছে পরমাণু অস্ত্র থাকাটা আদৌ নিরাপদ? আমার মনে হয় পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সির নজরদারির আওতায় রাখা উচিত।’ প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির সুরেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ স্পষ্ট জানিয়েছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে কথা হলে কেবলমাত্র পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়েই হবে।