নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আর মাস ছ’য়েক পর রাজ্যে বিধানসভা ভোট। বাংলার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণ অনুযায়ী উওরবঙ্গ বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। কিন্তু এখন গেরুয়া শিবিরের অন্দরেই প্রশ্ন উঠছে, নিজেদের গড়ে দাপুটে সাংসদ-বিধায়ক কেন আক্রান্ত হলেন? কেন দলের তরফে কোনও প্রতিরোধ দেখা গেল না? উত্তরবঙ্গে গেরুয়া পার্টির প্রভাব-প্রতিপত্তি কেন দৃশ্যমান হল না? ঘটনার সময় দলীয় কর্মীরা কোথায় ছিলেন? এরকম হাজারও অপ্রিয় প্রশ্নে ক্রমেই বিদ্ধ হচ্ছে বঙ্গ বিজেপি। বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে যা মোটেও স্বস্তির বিজ্ঞাপন নয় রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের কাছে। ঘটনাস্থলের স্থানীয় এমপি ও এমএলএ দু’জনেই বিজেপির টিকিটে জিতেছেন। সেই সূত্রেই দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও বন্য পরিস্থিতি পরিদর্শনের জন্য ওই এলাকাকেই বেছে নিয়েছিলেন। সমস্ত রাজনৈতিক দলই এলাকায় নিজেদের ওজন বুঝে কর্মসূচি নেয়। শমীকবাবুও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। খগেন মুর্মু ও শঙ্কর ঘোষ আক্রান্ত হওয়ার ঠিক আগে ওই এলাকায় ছিলেন শমীকবাবু। তাঁর উপরে এরকম কোনও হামলা হয়নি। অল্পের জন্য রক্ষা পান তিনি। কিন্তু দলের রাজ্য সভাপতি ও একঝাঁক জনপ্রতিনিধির চারপাশে পর্যাপ্ত দলীয় কর্মী-সমর্থক কেন ছিলেন না? তবে কি উত্তরবঙ্গে জমি হারাচ্ছে পদ্ম পার্টি? ক্রমশ জোরালো হচ্ছে এই প্রশ্ন। ২০২৬ সালের ভোটে উত্তরবঙ্গ বিজেপির বড় ভরসা। সেখানেই নির্বাচনের কয়েক মাস আগে এই অপ্রীতিকর ঘটনা দলের সাংগঠনিক বেহাল দশা আরও বেআব্রু করে দিল কি না, তা নিয়েও জোর চর্চা চলছে। বঙ্গ-বিজেপির অন্দরে। এই পরিস্থিতিতে ভোটের আগে নিজেদের সংগঠন গুছিয়ে নেওয়াটাই বিজেপির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।



