নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: মালদহের বৈষ্ণবনগরে আন্তঃরাজ্য অস্ত্র পাচার চক্রের হদিশ। বিহার থেকে মালদহে অস্ত্র পাচারের সময় এসটিএফের জালে ধরা পড়ল কালিয়াচকের বাসিন্দা। ধৃতের নাম হামিদুল শেখ(৩৪)। শুক্রবার তাকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে তদন্তকারীরা।
এসটিএফ সূত্রে খবর,নিজেদের বিশ্বস্ত সূত্র মারফৎ তারা জানতে পারে, বিহার থেকে মালদহে অস্ত্রপাচারের চেষ্টা হচ্ছে। খবর পাওয়া মাত্রই অপারেশনের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করে এসটিএফ। তাঁদের কাছে খবর আসে, এক অস্ত্র কারবারি বেশকিছু আগ্নেয়াস্ত্র সহ ফরাক্কার দিক থেকে মালদহের দিকে আসছে।
তাঁদের কাছে এমনও খবর আসে যে, বৈষ্ণবনগর থানা এলাকার লোকো কলোনির কাছে এক অস্ত্র কারবারি গা ঢাকা দিয়েছে। বৈষ্ণবনগর থানার পুলিসকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় নাকাচেকিংয়ের পাশাপাশি লোকো কলোনির কাছাকাছি এলাকায় রেইড করে এসটিএফ। সেই সময় তারা সন্দেহজনকভাবে এক ব্যক্তিকে ঘোরাফেরা করতে দেখে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এসটিএফের জেরায় ওই ব্যক্তি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে শুরু করলে তাঁদের সন্দেহ হয়। ওই ব্যক্তির সঙ্গে থাকা একটি কালোরঙের ব্যাগের তল্লাশি নিয়ে চক্ষু চড়কগাছ এসটিএফের।
ওই অস্ত্র কারবারি ব্যাগ থেকে বেরিয়ে আসে একে একে পাঁচ পাঁচটি দেশি কাট্টা। যা সম্পূর্ণভাবে বিহার মেড বলে পুলিস সূত্রে খবর। প্রাথমিক তদন্তে এসটিএফের হাতে যে তথ্য উঠে এসেছে তাতে জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তি নিজে একজন অস্ত্র কারবারি। সে নির্দিষ্ট অর্ডারের ভিত্তিতে বিহার থেকে দেশি কাট্টাগুলো নিয়ে এসেছিল। এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত অস্ত্র কারবারি বিহারের অস্ত্রগুলো মালদহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সাপ্লাই দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পুলিসি নজরদারিতে অস্ত্র কারবারিদের পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ভেস্তে যায়।
ধৃত অস্ত্র কারবারি হামিদুল শেখকে এসটিএফ বৈষ্ণবনগর থানার পুলিসের হাতে তুলে দিয়েছে। ধৃতের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। ধৃত হামিদুলকে শুক্রবার মালদহ সিজেএম কোর্টে পেশ করা হয়। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্তঃরাজ্য অস্ত্র পাচার চক্রের মূল পান্ডাদের ধরতে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তাই এদিন ধৃতকে তিনদিনের পুলিসি হেফাজতে নিয়েছে তদন্তকারীরা।