নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্রমশ মহার্ঘ হচ্ছিল বিমার প্রিমিয়াম। তার দোসর হয়েছিল ১৮ শতাংশ হারে জিএসটি। ফলে সাধারণ মানুষের আয়ত্তের বাইরে চলে যাচ্ছিল বিমা প্রকল্প। এই মর্মে ২০২১ সালে প্রথম সরব হয়েছিলেন বিমা এজেন্টরা। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে দেখা করে তাঁরা জিএসটির ভার লাঘবের আর্জি জানিয়েছিলেন। এরপর লাগাতারভাবে তাঁরা সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে গিয়েছিলেন বিমায় জিএসটি কমানোর জন্য। অবশেষে সুফলও মিলেছে। জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে জীবন ও স্বাস্থ্য বিমার উপর থেকে জিএসটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে নিজেদের জয় হিসেবেই দেখেছিলেন এজেন্টরা। কিন্তু এতে যে সবার আগে তাঁদের রোজগারের উপরই কোপ পড়বে, ভাবেননি তাঁরা। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, একাধিক বিমা সংস্থা এজেন্টদের কমিশন থেকে ১৮ শতাংশ কেটে নিচ্ছে। অর্থাৎ এক ধাক্কায় কমে যেতে শুরু করেছে তাঁদের কমিশন। কেন জিএসটি শূন্যে নামার ‘ক্ষতি’ পুষিয়ে নিতে সংস্থাগুলি এজেন্ট কমিশনে কোপ দিচ্ছে, তা নিয়ে সরব হয়েছেন বিমা এজেন্টরা। এর প্রতিবাদ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে দরবার করেছেন তাঁরা।
কেন এজেন্ট কমিশনে কোপ? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমা সংস্থাগুলি যেমন গ্রাহকদের থেকে প্রিমিয়ামের উপর জিএসটি আদায় করত, তেমনই তাদের ব্যবসা চালানোর জন্য বিভিন্ন খাতে জিএসটি মেটাতেও হতো। সংস্থাগুলি যে টাকা জিএসটি বাবদ মেটাত, তার নাম ইনপুট ট্যাক্স। অন্যদিকে তারা গ্রাহকের থেকে যে জিএসটি আদায় করত, তার নাম আউটপুট
ট্যাক্স। এই আউটপুট ট্যাক্স থেকে ইনপুট ট্যাক্স বাদ দিয়ে নিট জিএসটি সরকারের কাছে জমা করার যে সুবিধা বিমা সংস্থাগুলি এতদিন পেয়ে এসেছে, তার নাম ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট। কিন্তু এখন তারা আউটপুট ট্যাক্স বাবদ যে ১৮ শতাংশ জিএসটি আদায় করত, তা বন্ধ। কারণ, সরকার বিমায় জিএসটি শূন্যে নামানো হয়েছে। কিন্তু সংস্থাগুলিকে ইনপুট ট্যাক্স বাবদ জিএসটি মেটাতেই হচ্ছে।



