Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ধান-চালের গাড়িতে জিপিএস ও ওজনের সেন্সর বসাতে নির্দেশ

সরকারি উদ্যোগে কেনা ধান-চাল পরিবহণের কাজে ব্যবহৃত পণ্যবাহী গাড়িগুলিতে জিপিএস এবং ওজনের সেন্সর বসানোর জন্য নির্দেশ জারি করেছে খাদ্যদপ্তর।

ধান-চালের গাড়িতে জিপিএস ও ওজনের সেন্সর বসাতে নির্দেশ
  • ৮ এপ্রিল, ২০২৫ ১৫:০৪
Prefer us on Google

কৌশিক ঘোষ, কলকাতা: সরকারি উদ্যোগে কেনা ধান-চাল পরিবহণের কাজে ব্যবহৃত পণ্যবাহী গাড়িগুলিতে জিপিএস এবং ওজনের সেন্সর বসানোর জন্য নির্দেশ জারি করেছে খাদ্যদপ্তর। ধান-চাল পরিবহণের সময় যাতে কোনও অনিয়ম না-হয় তার জন্যই এই ব্যবস্থা। এতদিন শুধু খাদ্যসামগ্রী বহনকারী গাড়িগুলির নম্বর দপ্তরের পোর্টালে নথিভুক্ত করলেই চলত। কিন্তু এখন থেকে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে গাড়িগুলির গতিবিধির উপর নজর রাখবে খাদ্যদপ্তর। এতে গোটা প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা আসবে। খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ জানিয়েছেন, বোরো মরশুমে নতুন ধান ওঠার পরেই এই ব্যবস্থা চালু করে দেওয়া  হবে। মে মাস থেকে নতুন বোরো ধান ওঠার পর দ্বিতীয় পর্যায়ে সরকারি উদ্যোগে ধান কেনা শুরু হবে। 

Advertisement

স্থায়ী ও অস্থায়ী কেন্দ্রে ধান কেনার পরেই তা রাইস মিলে পাঠিয়ে দেওয়া হয় চাল উৎপাদনের জন্য। উৎপাদিত চাল পাঠানো হয় সরকারি গুদামে। দুটি ক্ষেত্রে পণ্যবাহী গাড়িগুলিতে জিপিএস এবং ওজনের সেন্সর মেশিন বসানোর জন্য খাদ্যদপ্তর বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, দুটি নির্দিষ্ট কারণে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ‘খাতায় কলমে’ ধান কিনে পরে বাইরে থেকে নিম্নমানের চাল কম দামে ক্রয় করে যাতে সরকারকে সরবরাহ করা না-হয়। পণ্যবাহী গাড়িতে দুটি যন্ত্র লাগানো থাকলে ধান যে কেনা হয়েছে এবং তা রাইস মিলেও পাঠানো হয়েছে, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারবে খাদ্যদপ্তর। মাঝপথে গাড়ি থামিয়ে বা অন্য কোথাও নিয়ে গিয়ে ধান বা চালের কোনও পরিবর্তন করা হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজরদারি রাখা যাবে। ধান কেনার প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা আনতে ইতিমধ্যেই একগুচ্ছ ব্যবস্থা নিয়েছে খাদ্যদপ্তর। চাষিদের আধারের বায়োমেট্রিক যাচাই করে ধান কেনা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এবছর ধানক্রয় প্রক্রিয়ায় ফড়েদের অংশ গ্রহণ রুখে দেওয়া গিয়েছে। দাবি খাদ্যদপ্তরের। প্রকৃত চাষির কাছ থেকে ধান কেনার পরিমাণ অনেক বেড়েছে। চলতি খরিফ মরশুমে রেকর্ড পরিমাণ ধান কিনতে চলেছে সরকার। 
ধান ও চাল পরিবহণের দায়িত্ব থাকে রাইস মিল মালিকদের হাতে। তারাই লরিতে করে ধান ও চাল নিয়ে যান। ওয়েস্ট বেঙ্গল রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকরী সভাপতি আব্দুল মালেক জানিয়েছেন, নতুন ব‌্যবস্থায় চাল করতে তাঁদের কোনও সমস্যা নেই। তবে এর জন্য যে অতিরিক্ত খরচ হবে সেটা সরকারকে দিতে হবে। খাদ্যদপ্তরের নির্দেশে দুটি যন্ত্র বসানোর খরচ রাইস মিল মালিক বা পরিবহণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্য‌঩ক্তিকে বহন করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। এটা করা না-হলে যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে সেটাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

সম্পর্কিত সংবাদ