


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ওবিসি সংরক্ষণ সহ একাধিক মামলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে নিয়োগ প্রক্রিয়া। পূরণ হয়নি বহু শূন্যপদ। এই অবস্থায় বিধানসভা নির্বাচন এসে পড়ায় ইআরও ও এইআরও নিযুক্ত করার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েছে রাজ্য সরকার। মূলত এইআরও নিযুক্ত করা নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। প্রতিটি বিধানসভা পিছু একজন করে ইআরও থাকেন। মূলত এসডিও র্যাঙ্কের অফিসাররা এই দায়িত্বে থাকেন। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদমর্যাদার আধিকারিককে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে কি না, ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে। এইআরও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ব্লকে নিযুক্ত এক্সটেনশন অফিসার বা বিভিন্ন দপ্তরের ব্লকের দায়িত্বে থাকা আধিকারিক। এইআরও হিসেবে যাঁরা কাজ করবেন, তা একেবারে পদ ধরে ধরে ঠিক করে দেয় নির্বাচন কমিশন। কিন্তু সেই পদ শূন্য থাকলে কী হবে? সেক্ষেত্রে ব্লকে নিযুক্ত সম পদমর্যাদার অন্য দপ্তরের আধিকারিককে এই দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এই পরিবর্তন করতে গেলে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন আবশ্যিক।
বুধবার সকালে এই ইস্যুতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্তা এবং জেলাশাসকদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। সেখানে দ্রুত ইআরও এবং এইআরও নিযুক্ত করার কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। সূত্রের খবর, ২৯ আগষ্টের মধ্যে ইআরও এবং এইআরও নিয়োগের কাজ শেষ করে নির্বাচন কমিশনকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে রাজ্যকে। সাধারণত এক জন ইআরও’র অধীনে ৭ থেকে ১০ জন এইআরও থাকেন। সেই হিসেবে রাজ্যে প্রায় তিন হাজার এইআরও’র প্রয়োজন পড়বে। তাঁদের মধ্যে এখনও ৬১২ জনকে নিযুক্ত করার কাজ বাকি। প্রসঙ্গত, লোকসভা নির্বাচনে ইআরও এবং এইআরও নিযুক্ত করার ব্যাপার থাকে না। সেক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসার হন জেলাশাসকরা। তাঁদের অধীনে অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার থাকেন এডিএমরা।
এদিকে, রাজ্যে এসআইআর-এর প্রস্তুতি নিয়ে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরকে ২৯ আগস্টের মধ্যে রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। যে কারণে ইআরও এবং এইআরও নিয়োগ নিয়ে রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল মুখ্যসচিবকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন বলে খবর। রাজ্যে বুথ সংখ্যা বাড়ায় অতিরিক্ত বিএলও নিয়োগ করতে হবে। সেই শূন্যপদ পূরণের জন্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে তালিকা পাঠানো হয়েছিল। সেটি অনুমোদিত হয়েছে বলেই সূত্রের খবর।