খুলনা ও ঢাকা: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মৃত্যুর রেশ এখনও কাটেনি। তার আগেই ফের রক্তাক্ত বাংলাদেশ। জুলাই আন্দোলনের মুখ নাহিদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টির খুলনার নেতা মহম্মদ মোতালেব শিকদারকে মাথায় গুলি করার অভিযোগ উঠল। সোমবার দুপুর পৌনে ১২টা নাগাদ খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকার একটি বাড়িতে হামলার ঘটনাটি ঘটে। এনসিপির শ্রমিক সংগঠনের এই কেন্দ্রীয় নেতা বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল।
এনসিপির খুলনা মেট্রোপলিটন ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংগঠক সইফ নেওয়াজ জানিয়েছেন, মোতালেব শিকদার এনসিপির শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক ও খুলনা বিভাগীয় আহ্বায়ক। কিছুদিনের মধ্যে খুলনায় দলের একটি বিভাগীয় শ্রমিক সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। সেটা নিয়ে তিনি কাজ করছিলেন। তার আগেই মোতালেবকে গুলি করে কয়েকজন দুষ্কৃতী। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীদের অনুমান, বাড়িতে ‘অন্তর্কলহের’ জেরেই গুলি চলে। সোনাডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অনিমেষ মণ্ডল জানান, গুলিটি মোতালেবের মাথার চামড়া স্পর্শ করে বেরিয়ে যায়। ফলে রক্তক্ষরণ হলেও তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
গত বছর বাংলাদেশে গণআন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন নাহিদ। সেই নাহিদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন ভোটে লড়বে বলে জানিয়েছে। তার আগেই আক্রান্ত হলেন তাঁর দলের এই গুরুত্বপূর্ণ নেতা। সূত্রের খবর, এই ঘটনার পরেই যশোর সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ (বিজিবি)। হামলায় জড়িতরা যাতে বাংলাদেশ থেকে পালাতে না পারে, তার জন্য সীমান্তে ব্যাপক নজরদারি ও তল্লাশি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকি।
গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তার পর থেকেই হিংসায় উত্তাল হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। হাদির হত্যাকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনালে শরিফ ওসমান হাদি হত্যার দ্রুত বিচার হবে। এর মধ্যেই নির্বাচনের আগে হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে সরব হয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। দলের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, বিচার ছাড়া কোনও নির্বাচন হবে না। প্রয়োজনে এই হত্যার ঘটনা তদন্তের স্বার্থে এফবিআই বা স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তা নিতে হবে।
গত শনিবার হাদিকে চিরবিদায় জানানোর আগে ইউনুস সরকারকে নিশানা করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। সরকারের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, ‘ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ধরতে কী করেছেন?’ এ বিষয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য না রাখলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মহম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরীকে পদত্যাগ করতে হবে।
এদিন সেই সুরে সুর মিলিয়েই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মহম্মদ ইউনুসের নাম উল্লেখ করে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ তাঁকে (ইউনুস) প্রধান উপদেষ্টা বানিয়েছে জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে টিকিয়ে রাখার জন্য। কিন্তু এই খুনের বিচারের ব্যাপারে তিনি কী করবেন, তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।’ প্রধান উপদেষ্টা কেন অসহায়, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সরকারের উদ্দেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব বলেন, ওসমান হাদিকে যারা খুন করেছে, তারা দেশে থাকলে অতি দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। আর তারা যদি বিদেশে পালিয়ে যায়, সেখান থেকে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। যদিও হাদি খুনে জড়িত প্রধান অভিযুক্ত ফয়জল করিম কোথায় গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে, সেই সম্পর্কে এখনও কোনও নির্দিষ্ট তথ্য বাংলাদেশ পুলিশের হাতে আসেনি বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত আইজি খন্দকার
রফিকুল ইসলাম। তার খোঁজে তল্লাশি-অভিযান চলছে।