সৌমিত্র দাস, কাঁথি: দীঘার মেরিন অ্যাকোয়ারিয়াম বা সামুদ্রিক জীবশালা ও গবেষণা কেন্দ্রে ভিড় জমান পর্যটকরা। এখানে বেশকিছু প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণী এবং তাদের দেহাবশেষ সংরক্ষিত করা রয়েছে। দীঘায় এলে এই অ্যাকোয়ারিয়াম দেখেননি, এমন পর্যটক নেই। এবার তার আকর্ষণ আরও বাড়াতে অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামো সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ভিতরে একের পর এক কাচের শো-কেসের মধ্যে বহু রকমের মৃত এবং জীবিত সামুদ্রিক প্রাণী রয়েছে। সেগুলিতে আলো লাগানো হবে। সংশ্লিষ্ট ভবনটিরও সংস্কার করা হবে। অ্যাকোয়ারিয়ামের আধিকারিক প্রসাদচন্দ্র টুডু বলেন, আমরা অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামো ঢেলে সাজার কাজে হাত দিয়েছি। পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে এই পরিকল্পনা।
২০০৩ সালে অ্যাকোয়ারিয়ামটি চালু হয়। কেন্দ্রীয় পরিবেশ ও বনমন্ত্রক এবং জুলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার উদ্যোগে সেটি গড়ে উঠেছিল। তৎকালীন কাঁথির সাংসদ প্রয়াত নীতীশ সেনগুপ্ত এই অ্যাকোয়ারিয়ামের উদ্বোধন করেছিলেন। দীঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালের ঠিক পাশেই রয়েছে এই অ্যাকোয়ারিয়ামটি। পর্যটকদের পাশাপাশি প্রাণিবিদ্যার পড়ুয়া এবং গবেষকদের কাছে এই অ্যাকোয়ারিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। অ্যাকোয়ারিয়ামের প্রবেশপথে ডানদিকে রাখা প্রকাণ্ড তিমির কঙ্কাল চোখে পড়বে। ২০১২ সালে দীঘা মোহনা সংলগ্ন সমুদ্রে ‘ব্রাইড হোয়েল’ প্রজাতির একটি মৃত তিমি উদ্ধার হয়েছিল। পরবর্তীকালে সেই তিমির কঙ্কাল এখানে সংরক্ষণ করে রাখা হয়। কঙ্কাল দেখতে পর্যটকরা ভিড় জমান। মূল অ্যাকোয়ারিয়ামের ভিতরে একাধিক কাচের ঘরে বহু রকমের মৃত সামুদ্রিক মাছ ও জলজ প্রাণী সংরক্ষিত করে রাখা হয়েছে। যা বিভিন্ন সময়ে সমুদ্র এবং নদী থেকে উদ্ধার হয়েছিল। দীঘা-কাঁথির উপকূল কিংবা ভিনরাজ্যের চেন্নাই কিংবা অন্যান্য উপকূল থেকেও সেসব সংগ্রহ করেছে অ্যাকোয়ারিয়াম কর্তৃপক্ষ। সংরক্ষিত মাছগুলির মধ্যে রয়েছে ড্যামসেল ফিশ, ব্ল্যাক স্পটেড মোরে, স্কুইরেল ফিশ, চিচলড ফিশ, টাইগার পার্চ, অ্যাঞ্জেল ফিশ, লায়ন ফিশ, গোল্ড ফিশ, ক্রাউন ফিশ মেরিন ক্যাটফিস, স্টার ফিশ প্রভৃতি। আবার একটি প্রদর্শনশালায় কাচের ঘরের মধ্যে নানা প্রজাতির মৃত কাঁকড়া, হাঙর, কচ্ছপ, প্রবাল প্রভৃতি সামুদ্রিক প্রাণী সংরক্ষিত করে রাখা হয়েছে। প্রত্যেকটি শো-কেসে প্রাণীদের নামও দেওয়া রয়েছে।
অ্যাকোয়ারিয়ামের মধ্যে একটি ঘরে আলোর কারিকুরিতে এক টুকরো সুন্দরবনের পরিবেশ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‘সুন্দরবন ওয়ার্ক থ্রো ডায়োরামা’ শীর্ষক ওই পরিবেশে সুন্দরবনের ঘন জঙ্গল যেমন রয়েছে। তেমনই জঙ্গলের মধ্যে বাঘ বিচরণ করছে, এমন ছবিও কৃত্রিমভাবে মডেল তৈরির মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সুন্দরবনের মতো খাঁড়ি, শ্বাসমূল প্রভৃতি রয়েছে। অ্যাকোয়ারিয়ামের পাশেই সবুজে মোড়া পার্ক রয়েছে। দীঘা দেবেন্দ্রলাল জগবন্ধু শিক্ষাসদনের বিজ্ঞানের শিক্ষক নন্দগোপাল পাত্র বলেন, মেরিন অ্যাকোয়ারিয়াম দীঘার গর্ব। দীঘা খোলনলচে পাল্টে গিয়েছে। এই অ্যাকোয়ারিয়ামের পরিকাঠামো উন্নয়নেও উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তা করলে পর্যটকদের আকর্ষণ আরও বাড়বে।