Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খাবারের গুণমান নিয়ে অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তিতে ফুড টেস্টিং ল্যাব গড়ার উদ্যোগ

খাবারের গুণমান নিয়ে অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তিতে ফুড টেস্টিং ল্যাব গড়ার উদ্যোগ
  • ২৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: হোটেল, রেস্তরাঁ হোক বা অনলাইনে ফুড ডেলিভারি অ্যাপে অর্ডার করা খাবার, গুণমান নিয়ে একাধিক অভিযোগ আসে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরে। কিন্তু, দ্রুত সেই অভিযোগের নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয় না। কারণ বীরভূম জেলায় নেই ফুড টেস্টিং ল্যাবরেটরি। সেই সমস্যা সমাধান করতে উদ্যোগী হল খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। তারা রাজ্যের কাছে ফুড টেস্টিং ল্যাব গড়ার প্রস্তাবও পাঠিয়েছে। জেলার কর্তাদের আশা, রাজ্যের তরফে দ্রুত সবুজ সংকেত মিলবে। সেইসঙ্গে এফএসএসএআই অর্থাৎ ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার তরফেও অনুমোদন মিলবে বলে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের কর্তারা আশাবাদী। তারপরেই দ্রুত এমন অভিযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। 

Advertisement

প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, জেলার সাঁইথিয়া ব্লকে ফুড টেস্টিং ল্যাবরেটরি তৈরির জন্য জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। সব ঠিকঠাক থাকলে খুব দ্রুত সেখানেই রাজ্যের চতুর্থ ল্যাবরেটরি গড়ে উঠতে পারে।  এবিষয়ে জেলার অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক-২ মৃণালকান্তি ঘোষ বলেন, খাদ্যের নমুনা পরীক্ষার জন্য জেলায় পৃথক ল্যাবরেটরি প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে ইতিমধ্যে আমাদের তরফে সুনির্দিষ্ট একটি প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে। নতুন ল্যাবরেটরি তৈরি হলে খুবই ভালো হবে। খাদ্য সুরক্ষার দিকটি আরও অনেকটাই সুনিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
জেলার নানা প্রান্তের হোটেল, রেস্তরাঁ থেকে মিষ্টির দোকানগুলিতে ভেজাল খাবার বিক্রির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। এছাড়াও খাবারে এফএসএসএআই অনুমোদনহীন রং মেশানোর অভিযোগও অহরহ উঠে। শুধু অভিযোগই নয়, নানা সময় খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযানে সেই সব ঘটনা প্রকাশ্যেও এসেছে। সেইসঙ্গে দপ্তরের আধিকারিকরাও একাধিক হোটেল, রেস্তরাঁ ও মিষ্টির দোকানের খাবারের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এই পরিস্থিতিতে জেলার খাদ্য সুরক্ষার দিকটি আঁটোসাঁটো করতে ইতিমধ্যে ভ্রাম্যমাণ ল্যাবরেটরি এসে পৌঁছেছে। পৃথক দু’টি স্বাস্থ্য জেলার জন্য আলাদাভাবে ভ্রাম্যমাণ ল্যাবরেটরি রয়েছে। সেখানে খুবই দ্রুততার সঙ্গে খাবারের নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হয়। যদিও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে গড়ে তোলা ভ্রাম্যমাণ ল্যাবরেটরিতে সবধরনের পরীক্ষা সম্ভব নয়। পেস্টিসাইড, হেভিমেটাল থেকে শুরু করে ফ্যাটি অ্যাসিড প্রোফাইলিং, মাইক্রো বায়োলজিক্যাল পরীক্ষার জন্য স্থায়ী ল্যাবরেটরির প্রয়োজন। স্বাভাবিকভাবেই ভ্রাম্যমাণ ল্যাবরেটরি থাকা সত্ত্বেও খাবারের মান পরীক্ষায় জেলা এখনও কলকাতা নির্ভর। 
খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের কর্তাদের কথায়, বীরভূম ও কলকাতার দূরত্ব যথেষ্ট। সেক্ষেত্রে অনেক সময় সংগ্রহ করা খাবারের নমুনা কোল্ড চেইন সিস্টেমের মাধ্যমে পাঠানোও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়াও রিপোর্ট পেতেও খানিকটা সময় লাগে। তবে জেলায় পৃথক ল্যাবরেটরি গড়ে উঠলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আরও আঁটোসাঁটো হবে জেলার খাদ্য সুরক্ষা। সেইসঙ্গে প্রতিবেশী জেলাগুলিও অনেকটাই উপকৃত হবে। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ল্যাবরেটরি গড়ে তোলার জন্য ইতিমধ্যে সাঁইথিয়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালকে বেছে নেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রায় ৬০০০ স্কোয়ার ফুটের একটি পরিকাঠামো চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানেই ওই ল্যাবরেটরি গড়ে তোলার কথা জানিয়ে প্রায় দু’মাস আগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ