Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘কেউটে’র ছোবলের ভয়, পদক্ষেপ নেওয়ার সাহসই দেখায় না ‘ওঝা’

‘কেউটে’র ছোবলের ভয়, পদক্ষেপ নেওয়ার সাহসই দেখায় না ‘ওঝা’
  • ৭ মার্চ, ২০২৫ ১৬:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: বর্ধমান শহরজুড়ে অবৈধ নির্মাণের তালিকা পুরসভার কাছে রয়েছে। কিন্তু ‘কেউটে’রা এর সঙ্গে জড়িত থাকায় কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার ঝুঁকি নেয়নি পুরকর্তৃপক্ষ। পদক্ষেপ নিতে গেলে ‘ছোবল’ খাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কয়েক মাস আগে এমন আশঙ্কা করেছিলেন খোদ চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র সরকার। তাঁর সেই আশঙ্কা নিয়ে জল বহুদূর গড়ায়। শহরের বাসিন্দারা বলছেন, চেয়ারম্যান সঠিক কথাই বলেছিলেন। অবৈধ নির্মাণের পিছনে এমন কয়েকজন প্রভাবশালী জড়িয়ে রয়েছে যাদের ‘বিষ’ কেউটের থেকেও ভয়ঙ্কর। বিভিন্ন ওয়ার্ডেই তারা ছড়িয়ে রয়েছে। তারাই এলাকার শেষ কথা। কোন পুকুর ভরাট হবে বা কোন বাড়ি কত তলা হবে, সেটা তারাই ঠিক করে। 

Advertisement

কয়েক বছরের মধ্যে বর্ধমান শহরে জলাশয় ভরাট করে একাধিক বহুতল তৈরি হয়েছে। একজনও অবৈধ নির্মাণকারীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, আদালতের নির্দেশে কয়েকটি অবৈধ নির্মাণ ভাঙা হয়েছে। কিন্তু পুরসভা নিজে থেকে কোথাও বুলডোজার চালানোর সাহস দেখায়নি। সেকারণে অবৈধ নির্মাণকারীরাও কারও তোয়াক্কা করে না। তারা ভালোই জানে অবৈধভাবে নির্মাণ করলে লোক দেখানো কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কয়েকদিন কাজ বন্ধ রাখার পর আবার তা চালু হবে। কোনও কোনও অবৈধ নির্মাণকারী আবার একদিনের জন্যও কাজ বন্ধ করতে নারাজ। উল্লাস উপনগরীতে এক অবৈধ নির্মাণকারীকে জেলা পরিষদ নোটিস পাঠালেও তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি। বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, তিনি কোন সাহসে এখনও কাজ চালাচ্ছেন, সেটা বুঝতে পারছি না। দুঃসাহস দেখে অবাক হচ্ছি। 
কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দার বলেন, শুধু উল্লাসের ওই নির্মাণকারী নয়, বর্ধমান শহরে এমন অনেকে রয়েছে। পুরসভা হাত গুটিয়ে বসে রয়েছে। শহরে তিনতলার অনুমতি নিয়ে পাঁচতলা হচ্ছে। কোথাও কোথাও আবার অনুমতি না নিয়ে ছ’তলা বিল্ডিং তৈরি হচ্ছে। এসব দেখতে দেখতে শহরের বাসিন্দারা অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে। তাই তাঁরাও এসব নিয়ে খুব বেশি প্রতিবাদ করছেন না। তবে যাঁরা অবৈধ আবাসনগুলি কিনছেন তাঁরা পরে সমস্যায় পড়তে পারেন। পুকুরের উপর তৈরি হওয়া আবাসনগুলি কয়েক বছর পর ভেঙে পড়লেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশবাবু বলেন, অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
জেলার বাসিন্দারা বলেন, শুধু বর্ধমান নয়, এই ‘সংস্কৃতি’ কালনা, মেমারির মতো শহরগুলিতেও ছড়িয়ে পড়েছে। কালনার একটি বহুতল রীতিমতো চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু সামনে দাঁড়িয়ে সেই নির্মাণ নিয়ে কথা বলার সাহস কেউ দেখাচ্ছে না। এর পিছনেও রয়েছে ‘কেউটে’। যদিও অনেকেই বলছেন, ওঝা ঠিক থাকলে কেউটেও শায়েস্তা হয়ে যাবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, সেই ‘ওঝা’রা এখন দৈবশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। (শেষ)

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ