


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মূল্যবৃদ্ধি সর্বনিম্ন! এই দাবি স্বয়ং রিজার্ভ ব্যাঙ্ক গভর্নরের। সোমবার মুম্বইয়ে বণিকসভা ফিকি এবং ব্যাঙ্ক সংগঠন আইবিএ আয়োজিত এক বার্ষিক অনুষ্ঠানে আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানালেন, ‘এই জুলাই মাসে মূল্যবৃদ্ধির হার কমতে কমতে মাত্র ১.৫৫ শতাংশ হয়েছে। ৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।’ নিত্যদিন বাজারে বেরিয়ে মধ্যবিত্তের যা অভিজ্ঞতা হচ্ছে, তার সঙ্গে আরবিআই কর্তার দাবি মেলানো মুশকিল। অথচ শীর্ষ ব্যাঙ্ক কর্তা বলছেন, ‘নীতি নির্ধারণ কমিটির আদর্শ নীতি এবং লাগাতার সরকারি নিখুঁত আর্থিক ভারসাম্যের জেরে এই সাফল্য পাওয়া গিয়েছে। ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে। ৬৯ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার রয়েছে এখন। যা ক্রমেই বাড়ছে। আর্থিক ঘাটতি কমছে।’ বাস্তবের সঙ্গে ফারাকটা এখানেই। কারণ, মাত্র ছ’দিন আগে বাণিজ্য মন্ত্রক তথ্য ও পরিসংখ্যান দিয়ে জানিয়েছিল, অর্থনীতির চালিকাশক্তি আটটি কোর সেক্টর বিগত বছরের তুলনায় এক ধাক্কায় বৃদ্ধিহারে অনেক পিছিয়ে পড়েছে। বিগত আর্থিক বছরের জুলাই মাসে আটটি কোর সেক্টরের বৃদ্ধিহার ছিল ৬.৩ শতাংশ। আর সেটা এবার জুলাই মাসে হয়েছে মাত্র ২.২ শতাংশ। সবথেকে খারাপ অবস্থা কয়লা সেক্টরের। ১২ শতাংশ কমে গিয়েছে বৃদ্ধির হার। অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিই হল সিমেন্ট, বিদ্যুৎ ও কয়লা। অথচ, এই প্রত্যেকটির বৃদ্ধিহার কমে চলেছে। বাজারে চাহিদা নেই। তাই উৎপাদনও কমছে। এখানেই শেষ নয়, অর্থমন্ত্রক কিছুদিন আগেই জানতে পেরেছে, অটোমোবাইল থেকে ভোগ্যপণ্য, সর্বত্র কমে যাচ্ছে বিক্রি। সবথেকে উদ্বেগজনক প্রবণতা বয়ে এনেছে গণেশ চতুর্থী। এই উৎসব থেকেই শুরু হয়ে যায় বস্তুত দেশের উৎসব মরশুমের কেনাকাটা। এর জোয়ার চলে দুর্গাপুজো, দশেরা, দীপাবলি, ভ্রাতৃদ্বিতীয়া হয়ে ছটপুজো পর্যন্ত। কিন্তু এ পর্যন্ত শুভসূচনাই হয়নি! অর্থাৎ গণেশ চতুর্থীর আগে কোনও উৎসবের বাজার জমে ওঠার প্রবণতাই দেখা যাচ্ছে না। অর্থমন্ত্রক এই প্রবণতা দেখে ড্যামেজ কন্ট্রোলের জন্য বলতে শুরু করেছে, সকলেই নাকি অপেক্ষা করছে জিএসটির হার কমে যাওয়ার জন্য। কিন্তু বাণিজ্য সংগঠনগুলি বলছে প্রধানমন্ত্রী নিজেই যেখানে বলেছেন দীপাবলির আগে পাওয়া যাবে জিএসটি উপহার, সেখানে দুর্গাপুজো ও তার আগে-পরের উৎসবের কেনাকাটায় ভাটা কেন? বাস্তবটা হল, মানুষের হাতে টাকা নেই। এবং প্রবল মূল্যবৃদ্ধি। এই যেখানে অর্থনীতির বেহাল স্পষ্ট চিত্র দেখা যাচ্ছে, সেখানে মোদি সরকারকে সন্তুষ্ট করতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক লাগাতার দেখানোর চেষ্টা করছে, মূল্যবৃদ্ধি নাকি কমেই চলেছে!
গভর্নর বলেছেন, ‘নিত্য ও খাদ্যপণ্য জোগানে কোনও অভাব নেই।’ আর বাজার বলছে, নিত্যপণ্য ও ভোগ্যপণ্যের দাম যদি কমেই যাবে, তাহলে শহর ও গ্রামীণ চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার কথা। সেটা হয়নি। উল্টে গ্রামীণ পণ্য বিক্রয় এখনও উদ্বেগজনকভাবে কম। চাল, ডাল, সবজি... সব ঊর্ধ্বমুখী। গ্রামীণ চাহিদা না বাড়লে ভারতের সার্বিক অর্থনীতির চাকা ঘোরে না। সেটাই হচ্ছে। আবার শহরের অর্থনীতির আবর্তন কিছুটা নির্ভর করে অটোমোবাইল শিল্পের উপর। কিন্তু গাড়ি কেনার হার এতই কমেছে যে, অটোমোবাইল সেক্টর সংগঠন এখন বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে দেখা করে ছাড় চাইছে। কারণ, এন্ট্রি লেভেল (অর্থাৎ প্রথমবার গাড়ি কেনা এবং মধ্যবিত্ত ক্রেতা) গাড়ির চাহিদা উদ্বেগজনকভাবে কমেছে। অথচ রিজার্ভ ব্যাঙ্ক মনে করছে মূল্যবৃদ্ধি নেই!