


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুরনো শিল্পনীতি ইতিমধ্যেই বাতিল করেছে রাজ্য সরকার। নতুন শিল্পনীতি আনার কথা ঘোষণাও করেছে তারা। এই বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে শিল্পমহলের থেকে। বণিকসভার তরফে আর্জি জানানো হল, আঞ্চলিক এমএসএমইগুলির পাশে দাঁড়াতে নয়া ক্রয়নীতি আনুক সরকার। পাশাপাশি শিল্পের জন্য জমি কেনার ক্ষেত্রে নিয়মের কিছু পরিমার্জনেরও পরামর্শ জমা পড়ল শিল্পমহলের তরফে।
দেশের একাধিক রাজ্য ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের পাশে দাঁড়াতে ক্রয়নীতি চালু করেছে। এর অর্থ, রাজ্য সরকার যা কিছু কিনবে, তার একটি নির্দিষ্ট অংশ কেনা হবে শুধুমাত্র ছোট শিল্পের থেকেই। সংশ্লিষ্ট রাজ্যে যে এমএসএমইগুলি গড়ে উঠেছে, শুধুমাত্র তাদের থেকেই সরকার পণ্য কিনবে। এতে আঞ্চলিক ছোট শিল্পগুলির বিপণনে সুবিধা হবে এবং সেগুলি আর্থিকভাবে সবল হবে। যেহেতু পশ্চিমবঙ্গে এমএসএমই’র সংখ্যা অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় বেশি, তাই রাজ্য সরকার যদি ক্রয়নীতি চালু করে, তাহলে তা এখানকার ছোট শিল্পগুলিকে ব্যবসায় নতুন সুযোগ দেবে। সেই নীতি আনার আর্জি জানিয়েছে শিল্পমহল। জমি নিয়ে যে পরামর্শ শিল্পদপ্তরের কাজে গিয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম জমির ঊর্ধ্বসীমা সংক্রান্ত নীতি। কোনও শিল্প সংস্থা যদি ২৪.২১ একরের বেশি জমি একলপ্তে কিনতে চায়, তাহলে নির্দিষ্ট আইনে সরকারের থেকে অনুমতি নিতে হয়। তা অতি দীর্ঘমেয়াদী। এই সমস্যা কাটাতে সরকার উদ্যোগ নিক, চায় শিল্পমহল। পাশাপাশি তাদের দাবি, সরকারের খাস জমির মূল্যায়ণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। সেই দিকটিও সহজ করুক সরকার। বণিকসভা মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট অমিত সারোগী বলেন, পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার সহ অন্যান্য জেলাগুলিতে শুধুমাত্র শিল্পের খাতিরে ‘রেলওয়ে সাইডিং’ সংক্রান্ত পরিকাঠামো তৈরি হলে, তা কাঁচামাল এবং উৎপাদিত পণ্য পরিবহণে অনেকটাই সুবিধা করে দিতে পারে। রাজ্য সরকারের কাছে এই পরিকাঠামো গড়তে আর্জি জানিয়েছি আমরা। পাশাপাশি সিবিএমের মতো পরিবেশ বান্ধব জ্বালানি সরবরাহের পরিকাঠামো গড়ার জন্যও আর্জি জানিয়েছি আমরা। এরসঙ্গে বিদ্যুৎ মাশুল কমানোরও আর্জি জানানো হয়েছে।