Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

উদাসীন মোদি সরকার, ৮ বছর ধরে শিশুদের পরিপূরক পুষ্টির খরচ আটকে আট টাকাতেই!

একটি ডিমের দাম ৭ থেকে সাড়ে ৭ টাকা। অথচ, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে শিশুদের পরিপূরক পুষ্টি সুনিশ্চিত করতে প্রতিদিনের বরাদ্দ হয় মাত্র ৮ টাকা! এটাই কেন্দ্রের নিদান।

উদাসীন মোদি সরকার, ৮ বছর ধরে শিশুদের পরিপূরক পুষ্টির খরচ আটকে আট টাকাতেই!
  • ২০ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: একটি ডিমের দাম ৭ থেকে সাড়ে ৭ টাকা। অথচ, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে শিশুদের পরিপূরক পুষ্টি সুনিশ্চিত করতে প্রতিদিনের বরাদ্দ হয় মাত্র ৮ টাকা! এটাই কেন্দ্রের নিদান। আর এই নির্দেশ মেনেই আট বছর যাবৎ ৬ মাস থেকে ৬ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের পরিপূরক পুষ্টি সুনিশ্চিত করতে হচ্ছে রাজ্যকে। ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। ফলে এত কম টাকায় এই প্রকল্প চালানো যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং বলেই জানাচ্ছে প্রশাসনিক মহল। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের তরফে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও কেন্দ্র নিশ্চুপ!

Advertisement

এই বিষয়ে রাজ্যের নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, ‘আসলে কেন্দ্র এই বিষয়ে একেবারে উদাসীন। ওদের কাছে শিশুদের পরিপূরক পুষ্টি সুনিশ্চিত করার বিষয়টির কোনও গুরুত্বই নেই। কেন্দ্রীয় বাজেট তৈরির ক্ষেত্রে শিশুদের একেবারেই গুরুত্ব দেওয়া হয় না।’ 
রাজ্যে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার। সেগুলিতে মোট উপভোক্তা প্রায় ৮৫ লক্ষ। শিশুদের পাশাপাশি গর্ভবতী মহিলাদেরও রান্না করা পুষ্টিকর খাবার প্রদান করা হয় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি থেকে। তবে অধিকাংশ উপভোক্তাই হল ৬ বছর পর্যন্ত শিশু। সেক্ষেত্রে পরিপূরক পুষ্টি সুনিশ্চিত করা এদের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই জানাচ্ছেন এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকরা। ফলে রাজ্যের দাবি মেনে দ্রুত এর বরাদ্দ বৃদ্ধি করা উচিত বলেও তাঁদের মত। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে একসপ্তাহে ৬ দিন রান্না করা খাবার দেওয়া হয়। তিনদিন একটি করে গোটা ডিম ও ভাত দেওয়া হয়। আর বাকি তিনদিন দেওয়া হয় অর্ধেক করে ডিম ও খিচুড়ি। এক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী বলেন, ‘আপনি ভাবুন, এই বাজারে একটি ডিমের দাম ৭ থেকে সাড়ে ৭ টাকা! তারপরেও রায়েছে চাল, ডাল, রান্নার তেল, মশলা প্রভৃতি। অগ্নিমূল্যের বাজারে এতকিছু কি মাত্র ৮ টাকায় হয়?
একইভাবে গর্ভবতী মহিলাদের জন্য প্রতিদিন সাড়ে ৯ টাকা আর গুরুতর অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের জন্য প্রতিদিন ১২ টাকার বরাদ্দও ২০১৭ থেকে অপরিবর্তিত রয়ে গিয়েছে। এই প্রকল্পের ৫০ শতাংশ খরচ বহন করে রাজ্য সরকার। সেক্ষেত্রে কেন্দ্র সার্বিকভাবে বরাদ্দ বাড়ালে রাজ্যেরও খরচ বাড়বে। তবে শিশুদের পুষ্টিকর খাবার সুনিশ্চিত করতে সেই খরচ বহন করতে রাজ্য প্রস্তুত বলেও সূত্রের খবর। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, দুই মেদিনীপুর এবং দুই ২৪ পরগনাসহ অনেক জেলায় অপুষ্টির সমস্যা মেটাতে শিশুদের জন্য খাদ্যদপ্তরের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি পুষ্টিকর খাবার পাঠানোর উদ্যোগও নিয়েছিল রাজ্য সরকার। এমতাবস্থায় কেন্দ্র কবে বরাদ্দ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর সকলের।

সম্পর্কিত সংবাদ