Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

ট্রাম্পের শুল্ক-ধাক্কায় বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে ভারতের, ১১ মাসে সর্বাধিক

১১ মাসের মধ্যে সর্বাধিক হল বৈদেশিক বা঩ণিজ্য ঘাটতি। অর্থাৎ আমদানি অনেক বেশি। রপ্তানি সেই তুলনায় যথেষ্ট কম। যা আশঙ্কা করা হচ্ছিল, সেটাই বাস্তব আকার নিচ্ছে।

ট্রাম্পের শুল্ক-ধাক্কায় বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে ভারতের, ১১ মাসে সর্বাধিক
  • ১৬ অক্টোবর, ২০২৫ ১৫:১০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ১১ মাসের মধ্যে সর্বাধিক হল বৈদেশিক বা঩ণিজ্য ঘাটতি। অর্থাৎ আমদানি অনেক বেশি। রপ্তানি সেই তুলনায় যথেষ্ট কম। যা আশঙ্কা করা হচ্ছিল, সেটাই বাস্তব আকার নিচ্ছে। অর্থাৎ, আমেরিকার আরোপ করা শুল্কের জেরে ভারতের রপ্তানি বাণিজ্য বিপুল ধাক্কা খেতে পারে। বস্তুত একঝাঁক পণ্য আমেরিকায় পাঠানো একপ্রকার বন্ধ। গহনা, টেক্সটাইল, ওষুধ, কৃষিপণ্য এবং চিংড়ি যার মধ্যে সবথেকে বেশি। আগস্ট মাসে ভারতের রপ্তানি ছিল ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের। সেপ্টেম্বর মাসের রপ্তানি বেড়েছে সামান্যই—১০০ কোটি ডলার। কারণ, ট্রাম্পের শুল্ক-পর্বে মরিয়া ভারত অন্যান্য দেশে রপ্তানির পরিমাণ বাড়াতে পারলেও আমেরিকায় কমেছে। আগস্টে যেখানে ভারত থেকে আমেরিকায় রপ্তানির অঙ্ক ছিল ৬৮৭ কোটি ডলারের, সেটাই সেপ্টেম্বরে কমেছে ৫৪৩ কোটি ডলারে। পক্ষান্তরে, আগস্ট মাসে আমদানি ছিল ৬ হাজার ১০০ কোটি ডলার মূল্যের। আর সেপ্টেম্বর মাসে আমদানি বেড়ে হয়েছে ৬ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের। এক ধাক্কায় ৭০০ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য বেশি আমদানি হওয়া বেনজির। আর তারই জেরে বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় এক বছরের মধ্যে সর্বাধিক। 

Advertisement

কেন এই আমদানি বৃদ্ধি? অন্যতম একটি ফ্যাক্টর হল, আমেরিকা থেকে জ্বালানি আমদানি বাড়াচ্ছে ভারত। আগেই জানা গিয়েছে, আমেরিকার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি করার জন্য ভারত ইতিমধ্যেই আভাস দিয়েছে যে, আমেরিকা থেকে জ্বালানি ক্রয় বাড়ানো হবে। সেই প্রবণতা বিগত কিছু মাস ধরে দেখাও যাচ্ছে। কিন্তু এখনও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হচ্ছে না। এই সপ্তাহেই ভারতের শিল্প-বাণিজ্য মন্ত্রকের প্রতিনিধিদল আবার যাবে আমেরিকা। দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে। নভেম্বর মাসের মধ্যে আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি যদি ভারত স্বাক্ষর করতে না পারে, তাহলে বাণিজ্য এবং অর্থনীতি বড়সড় ধাক্কা খাবে।এই আশঙ্কা সরকারের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অনন্ত নাগেশ্বরণই বলেছেন। ভারত সরকার তাই প্রাণপণে চেষ্টা করছে, দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়ে যাক। কারণ ওই চুক্তির অন্যতম শর্ত হবে ট্রাম্পের চাপানো আমদানি শুল্ক কমে যাওয়া। সেটাই প্রধান উদ্দেশ্য। আর আমেরিকা থেকে থেকে যে ভারত এই লক্ষ্যেই আমদানি বাড়িয়ে চলেছে অর্থাৎ আমেরিকার পণ ক্রয় করে চলেছে, তার প্রমাণও বুধবার প্রকাশিত বাণিজ্য মন্ত্রকের পরিসংখ্যানে স্পষ্ট।
গত বছর ২৩০০ কোটি ডলারের পণ্য আমেরিকা থেকে আমদানি করা হয়েছিল এই সেপ্টেম্বর মাসে। এই বছর সেটা বেড়ে হয়েছে ২৫০০ কোটি ডলার। আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর, এই এক মাসের হিসেবে আমেরিকা থেকে ৩৬০ কোটি ডলারের জায়গায় আমদানি হয়েছে ৩৯৮ কোটি ডলারের। আমেরিকার সঙ্গে ভারতের আমদানি-রপ্তানি ধাক্কা খাওয়া ভারতের অর্থনীতির জন্য যে নেতিবাচক, তা নিয়ে সংশয় নেই। কারণ, ভারতের সর্ববৃহৎ বাণিজ্য পার্টনারই হল আমেরিকা। অর্থাৎ আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্য সবথেকে বেশি হয় আমেরিকার সঙ্গে। এবার সেই বাণিজ্য ঘাটতি যদি ক্রমাগত এভাবে বৃদ্ধি পায়, তাহলে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধিহার বিপজ্জনকভাবে কমে যাবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ