নিউ ইয়র্ক: বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুক্ত প্যালেস্তাইনের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন তিনি। সেই অভিযোগে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত পড়ুয়াকে নিষিদ্ধ ঘোষণা কর ম্যাস্যাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনলজি (এমআইটি)। ওই পড়ুয়ার নাম মেঘা ভেমুরি। জানা গিয়েছে, সমাবর্তনে মার্শালের দায়িত্বে ছিলেন মেঘা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মেলিসা নোবলস। জানান, মেঘার পক্ষে সমাবর্তনে উপস্থিত থাকা কিছুতেই সম্ভব নয়। মেঘার পাশাপাশি তাঁর মা-বাবাকেও কলজে চত্বরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
গাজায় ইজরায়েলি অভিযানের বিরুদ্ধে সরব একাধিক দেশ। বাদ যায়নি আমেরিকাও। নেতানিয়াহু বাহিনীর সমালোচনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে ট্রাম্পের দেশের একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিক্ষোভ দমনে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসনও। ভিসা বাতিলের পাশাপশি পড়ুয়াদের আটক করেছে পুলিস। তাতে অবশ্য স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ থামানো যাচ্ছে না।
২৯ মে প্রকাশ্যে মুক্ত প্যালেস্তাইনের পক্ষে সওয়াল করেন কম্পিউটার সায়েন্স, নিউরো সায়েন্স ও ভাষাতত্ত্বের ছাত্রী মেঘা। ভারতীয় বংশোদ্ভূত পড়ুয়ার বক্তব্যের ভিডিও ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, গাজার সমর্থনে গায়ে লাল কেফিয়াহ রেখেছেন মেঘা। পড়ুয়াদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অস্ত্র সংক্রান্ত গবেষণায় ইজরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে এমআইটি। অর্থাৎ, প্যালেস্তিনীয়দের উপর এই আক্রমণে সাহায্য করছে আমাদের প্রতিষ্ঠান। প্যালেস্তাইনকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে ইজরায়েল। সেই কাজের অন্যতম অংশীদার এমআইটি। এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক।’ একইসঙ্গে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার জন্য পড়ুয়াদের উৎসাহিত করেন মেঘা। দৃড় কণ্ঠে বলেন, ‘কয়েক মাস আগেই ইজরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পক্ষে ভোট দিয়েছিল এমআইটির পড়ুয়ারা। তোমরা গাজায় যুদ্ধবিরতির পক্ষে সওয়াল করেছিলে। একইসঙ্গে ক্যাম্পাসে প্যালেস্তাইনপন্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলে।’ এরপরেই ওই পড়ুয়ার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেন নোবলস। মেঘাকে পাঠানো ইমেলে তিনি লেখেন, ‘তুমি ইচ্ছে করে সমাবর্তনের আয়োজকদের বিভ্রান্ত করেছ। তোমার স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকারকে আমরা সমর্থন করি। কিন্তু তাই বলে মঞ্চ থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে ব্যাঘাত ঘটানো মোটেই কাম্য নয়। এটা এমআইটির নিয়ম লঙ্ঘন ছাড়া কিছু নয়।’