ওয়াশিংটন: মার্কিন মুলুকে ফের আটক ভারতীয় বংশোদ্ভূত। গ্রিন কার্ড পাওয়ার একেবারে শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন ধৃত ৬০ বছরের বাবলেজিৎ কাউর ওরফে বাবলি। পরিবার সূত্রে খবর, গত ১ ডিসেম্বর বায়োমেট্রিক স্ক্যানের সময় তাঁকে আটক করা। জানা গিয়েছে, ১৯৯৪ সাল থেকে সপরিবারে আমেরিকায় বাস করছেন ওই প্রৌঢ়া। তাঁর তিন সন্তানের মধ্যে দুজন ইতিমধ্যেই মার্কিন নাগরিক। স্বামীও গ্রিন কার্ড পেয়েছেন।
ধৃতের মেয়ে জ্যোতি জানিয়েছেন, গ্রিন কার্ড পেতে বায়োমেট্রিক স্ক্যানের জন্য আমেরিকার ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সের (আইসিই) অফিসে গিয়েছিলেন তাঁর মা। সেখানে কয়েকজন ফেডারেল এজেন্ট তাঁকে একটি ঘরে ডেকে নিয়ে আটক করে। জ্যোতি আরও জানিয়েছেন, আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল বাবলেজিৎকে। পরিবারের দাবি, বাবলেজিৎকে আটক করার দীর্ঘক্ষণ পর পরিবারকে জানানো হয়। রাতেই তাঁকে আডেলান্টোর আইসিই-র ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।
গত ২ দশকের বেশি সময় ধরে বেলমেন্ট শোরে নটরাজ কুইজিন নামের একটি খাবারের দোকান চালাচ্ছেন বাবলেজিৎ ও তাঁর স্বামী। দম্পতির মেয়ে ৩৪ বছরের জ্যোতি ডিএসিএ (ডেফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস) আইনে আমেরিকায় রয়েছেন।
লং বিচের মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্য রবার্ট গারসিয়া জানিয়েছেন, বাবলেজিতের মুক্তির জন্য ইতিমধ্যেই তাঁর অফিস সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে তার পরিবারও।
জ্যোতি জানিয়েছেন, সীমিত সময়ের জন্য পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে বাবলেজিতকে। তবে এজন্য অনুমতি পেতে গোটা দিন লেগে যাচ্ছে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি বড় ঘরে আরও অনেক বন্দীর সঙ্গে রাখা হয়েছে বাবলেজিতকে। গোটা রাত আলো জ্বালিয়ে রাখা হয় সেখানে, সর্বক্ষণ চলে হইহট্টগোল। ফলে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটছে প্রৌঢ়ার। জ্যোতি বলেছেন, ‘এটা একটা দুঃস্বপ্নের মতো। অমানবিক।’