


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলাদেশে থাকা আল কায়েদার হ্যান্ডলার শরিফুল ইসলামের ভারতীয় নথি তৈরি হয়েছে মুর্শিদাবাদে। বাংলাদেশের লালমনিরহাট চোরাপথে সীমান্ত পেরিয়ে কোচবিহার হয়ে গুজরাতের আমেদাবাদে ঢুকে আল কায়েদার সংগঠন বিস্তারের কাজ করে গিয়েছে। জঙ্গি যোগের তদন্তে নেমে রাজ্যে তল্লাশি চালানোর পর এই তথ্য উঠে এসেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) হাতে। আল কায়েদা জঙ্গি সন্দেহে গুজরাতের আহমেদাবাদে ধৃত চার বাংলাদেশিরও ভারতীয় নথি তৈরি হয়েছে এই রাজ্য থেকেই। মুর্শিদাবাদ, শিলিগুড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হওয়া নথি ঘেঁটে জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের নামে ইস্যু হওয়া ভুয়ো আধার, ভোটার সহ একাধিক নথি মিলেছে বলে খবর।
এনআইএ সূত্রে খবর, ২০২৩’র মে মাসে চার বাংলাদেশি সহ পাঁচ আলকায়েদা জঙ্গিকে জেরা জানা গিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, হরিয়ানা, মেঘালয় ও গুজরাতে সংগঠন বিস্তারের চেষ্টা করছে। এখান থেকেই সংগঠনের জন্য তহবিল জোগাড় করছে। বাংলাদেশে থাকা আল কায়েদার হ্যান্ডলার শরিফুলের নির্দেশমতো তারা কোচবিহার সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আসে। তাদের নিয়ে এসেছিল কোচবিহারের এক বাসিন্দা। তার মাধ্যমে জাল ভারতীয় নথি তৈরি হয়। তার ভিত্তিতে তৈরি হয়ে যায় ভারতীয় পাসপোর্ট। আল কায়েদার লজিস্টিক শাখার কোচবিহারের ওই কর্মীর এক বিশ্বস্ত সহযোগীর মাধ্যমে তারা গুজরাতে গিয়েছিল। তার খোঁজেই কোচবিহারে তল্লাশি চলে। এনআইএ জেনেছে তার সঙ্গে শরিফুলের যোগ রয়েছে। ওই হ্যান্ডলার তার হাত ধরেই এখানে এসে সংগঠনের হয়ে প্রচার করে গিয়েছে। আল কায়েদা জঙ্গিরা এদেশে আসার পর তাদের ভারতীয় নথি তৈরি করে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কোচবিহার লজিস্টিকের কর্মীকে।
অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের নবগ্রামের এক বাসিন্দা আল কায়েদার হয়ে প্রচার চালাচ্ছে। এমনকী সংগঠনের হয়ে টাকা জোগাড় করছে। তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক আল কায়েদা জঙ্গি বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরা, অসম ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে। আল কায়েদা জঙ্গিদের উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অংশে লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়া চক্রের দুই পান্ডা হল ত্রিপুরার জাজ মিয়াঁ ও শান্ত। তাদের খোঁজেও তল্লাশি চালাচ্ছে এনআইএ।