


মুম্বই: প্রায়শই জনসভার মঞ্চ থেকে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি করতে দেখা যায় গেরুয়া শিবিরের নেতা-মন্ত্রীদের। এবার একই ইস্যুতেই সরব হলেন আরএসএস নেতা সুনীল দেওধর। শনিবার আন্ধেরি ইস্টের মারোল এলাকায় আরএসএসের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ভারত হিন্দুরাষ্ট্র ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।’
এদিন কর্মী-সমর্থকদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আরএসএস নেতা বলেন, ‘শিশুদের কাছে হিন্দু মহাকাব্যের একাধিক গল্প ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তাদের ভুল বোঝানো হচ্ছে। হিন্দুধর্ম থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে। আর এর নেপথ্যে রয়েছে খ্রিস্ট্রান মিশনারি ও মৌলবিদের একটি অংশ। এরা ভুলভাল ব্যাখ্যা ছড়াচ্ছে। হিন্দুদের উস্কানি দিচ্ছে। ওদের কথায়, হরিশচন্দ্র তারামতীকে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। পাণ্ডবরা দ্রৌপদীকে খেলায় বাজি ধরেছিলেন। ভগবান রাম নাকি দেবী সীতাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু এই ঘটনাগুলির পিছনে আলাদা সত্য রয়েছে। আসলে রাজা হিসাবে প্রজাদের স্বার্থেই এহেন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রাম। বাবা-মায়েরাও সঠিক ব্যাখ্যা করতে পারছেন না। আর সেই সুযোগ নিচ্ছে ভিন ধর্মের লোকজন। প্রাচীন ভারতে নারীশিক্ষা, নারী স্বাধীনতার বহু নিদর্শন রয়েছে। মুসলিম শাসকরা ভারতে আসার পরই মেয়েদের ঘোমটা দেওয়া, বাল্য বিবাহ সহ বহু কুপ্রথা চালু হয়।’
আরএসএস নেতার এহেন মন্তব্য সামনে আসার পরই আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধীরা। তাঁদের কথায়, দেশের প্রকৃত উন্নয়ন ভুলে ধর্মীয় বিভাজনেই ব্যস্ত আরএসএস ও বিজেপি।