Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

গম্ভীর জমানায় ফের লজ্জার হার ভারতের, বিফলে বিরাট-হর্ষিতের লড়াই, ঐতিহাসিক সিরিজ জয় কিউয়িদের

দেড় বছরও হয়নি ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজে নিউজিল্যান্ড ৩-০ হোয়াইটওয়াশ করেছিল ভারতকে। আর এবার দেশে কিউয়িদের কাছে ওডিআই সিরিজেও মুখ পুড়ল (১-২) গৌতম গম্ভীর ব্রিগেডের।

গম্ভীর জমানায় ফের লজ্জার হার ভারতের, বিফলে বিরাট-হর্ষিতের লড়াই, ঐতিহাসিক সিরিজ জয় কিউয়িদের
  • ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ইন্দোর: দেড় বছরও হয়নি ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজে নিউজিল্যান্ড ৩-০ হোয়াইটওয়াশ করেছিল ভারতকে। আর এবার দেশে কিউয়িদের কাছে ওডিআই সিরিজেও মুখ পুড়ল (১-২) গৌতম গম্ভীর ব্রিগেডের। ১৯৮৭ সালে পাকিস্তান এদেশে পর পর টেস্ট এবং ওডিআই সিরিজ জিতেছিল। তারপর এই প্রথম কোনও দলের কাছে এভাবে লজ্জাজনকভাবে জোড়া সিরিজ খোয়াল টিম ইন্ডিয়া। আটবারের চেষ্টায় এই প্রথম নিউজিল্যান্ড ভারতের মাটিতে ওডিআই সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল। সেটাও অনভিজ্ঞ দল নিয়ে। শাসক দলের স্নেহধন্য গৌতম গম্ভীরের আমলে আরও কত কালি যে গায়ে লাগবে, কে জানে!

Advertisement

রবিবার সিরিজের তৃতীয় তথা শেষ ম্যাচে শুভমান গিল বাহিনী হারল ৪১ রানে। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ড্যারিল মিচেল (১৩৭) ও গ্লেন ফিলিপসের (১০৬) শতরানের সুবাদে ব্ল্যাক ক্যাপসরা তোলে ৩৩৭। জবাবে ৪৬ ওভারে ভারতের লড়াই শেষ ২৯৬ রানে। বিরাট কোহলি লড়াকু সেঞ্চুরিতে জয়ের আশা জাগিয়ে ছিলেন। হর্ষিত রানা, নীতীশ কুমার রেড্ডির সঙ্গে তাঁর জুটি স্বপ্ন দেখাচ্ছিল। কিন্তু ১২৪ রানে বিরাট ফিরতেই চুরমার যাবতীয় আশা।

নিউজিল্যান্ডের ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ে কালিমালিপ্ত ভারতীয় ক্রিকেট। গম্ভীরের আমলে টেস্ট ক্রিকেটে আধিপত্য ধূলিসাৎ হয়েছে ঢের আগেই। তবে সাদা বলের ফরম্যাটে অন্তত ঘরের মাঠে দাপট অটুট ছিল নীল জার্সিধারীদের। এবার সেটাও তছনছ হল। কোচ গম্ভীর তাহলে করছেনটা কী? সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তাঁর কোচিং মানেই সাফল্যের নিশ্চয়তা— এই প্রচারের ফানুসও চুপসে গেল। এই পরাজয় অনেক অপ্রিয় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাল ভারতকে। দুই ওপেনারকেই নড়বড়ে দেখাল এদিন। রোহিত শর্মা এই সিরিজে ফ্লপ। ক্যাপ্টেন গিলের ব্যাট-প্যাডের মধ্যে দিয়ে গলল কাইল জেমিসনের ডেলিভারি। যশস্বী জয়সওয়ালকে আর কতদিন ডাগ আউটে বসিয়ে রাখা হবে? শ্রেয়স আয়ার, লোকেশ রাহুলদের বিস্তর অভিজ্ঞতা আসল সময়ে ব্যর্থ। ৭১ রানে চার উইকেট খুইয়ে সেই যে আইসিইউ’তে ঢুকে পড়েছিল ভারত, কোহলির প্রচেষ্টাতেও সেখান থেকে বের করা গেল না। রবীন্দ্র জাদেজা সেরা সময় পেরিয়ে এসেছেন। তুলনায় নীতীশ ও হর্ষিত, দুই তরুণ তুর্কি মরিয়া চেষ্টা করলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দায়িত্বটা বিরাটের ঘাড়েই চাপল। ১০৮ বলে ১০টা চার ও তিনটি ছক্কা। মরিয়া দেখাচ্ছিল চেজমাস্টারকেও। কিন্তু ৫৪তম শতরান হাঁকালেও দিনটা তাঁর ছিল না।

ম্যাচের শুরুতে পাঁচ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে খুইয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল কিউয়িরা। তৃতীয় উইকেট পড়ে ৫৮ রানে। এই পরিস্থিতিতে চতুর্থ উইকেটে মিচেল-ফিলিপসের ১৮৮ বলে ২১৯ রানের জুটিই কিউয়িদের ভরসা জোগায়। দুরন্ত ছন্দে থাকা মিচেলের এটা টানা দ্বিতীয় শতরান। তাঁর ১৩১ বলের ইনিংস সাজানো ১৫টি চার ও তিনটি ছক্কায়। যোগ্য সঙ্গতে ছিলেন ফিলিপস। তাঁর ৮৮ বলের ইনিংসে রয়েছে নয়টি চার ও তিনটি ছক্কা। কিন্তু সাত বলের ফারাকে দুই শতরানকারীই ফেরেন। ভারতের হয়ে তিনটি করে উইকেট নেন অর্শদীপ সিং (৩-৬৩) ও হর্ষিত রানা (৩-৮৪)। মহম্মদ সিরাজ দশ ওভারে মাত্র ৪৩ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন। তবে দুই স্পিনার কুলদীপ যাদব ও রবীন্দ্র জাদেজা মোট ১২ ওভার হাত ঘুরিয়ে দিলেন ৯৯ রান।

কোনও সন্দেহ নেই, বোলারদের ব্যর্থতাও ভারতের পরাজয়ের জন্য দায়ী। তিন ম্যাচ হয়ে গেল মিচেলকে থামানোর রাস্তা পাওয়া গেল না। প্রতিটি ইনিংসেই তিনি ছেলেখেলা করলেন ভারতীয় বোলিং নিয়ে। আর এই ম্যাচে তো দুই স্পিনারকে পুরো কোটা বোলিং করানোই গেল না। অথচ, কিউয়ি বাঁ-হাতি স্পিনার জেডন লেনক্স দুটো উইকেট পকেটে পুরলেন। সবচেয়ে তাৎপর্যের হল, কিউয়ি ক্যাপ্টেন ব্রেসওয়েল চোটের জন্য বলই করতে পারেননি। অথচ সেই সুযোগ কাজে লাগানো গেল না!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ