Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬

পরমাণু অস্ত্রবহণে সক্ষম দূরপাল্লার ক্রুজ মিসাইল পরীক্ষার পথে ভারত, ঠেকাতে পারবে না চীন-পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্স

সর্বাধুনিক তো বটেই, সমকালীন যুদ্ধে অন্যতম বৃহত্তম অস্ত্র যুক্ত হতে চলেছে ভারতের ভাণ্ডারে। লং ডিউরেশন হাইপারসনিক ক্রুজ মিসাইল

পরমাণু অস্ত্রবহণে সক্ষম দূরপাল্লার ক্রুজ মিসাইল পরীক্ষার পথে ভারত, ঠেকাতে পারবে না চীন-পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্স
  • ১১ জুন, ২০২৫ ১৭:০৬
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সর্বাধুনিক তো বটেই, সমকালীন যুদ্ধে অন্যতম বৃহত্তম অস্ত্র যুক্ত হতে চলেছে ভারতের ভাণ্ডারে। লং ডিউরেশন হাইপারসনিক ক্রুজ মিসাইল। ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এই নয়া প্রজেক্টের নাম দেওয়া হয়েছে প্রজেক্ট বিষ্ণু। ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও) এবং ভারতের বেসরকারি কিছু অস্ত্র উৎপাদন সংস্থা যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্প নিয়েছে। খুব শীঘ্রই এই ১৫০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম ক্রুজ মিসাইলের পরীক্ষা হবে। অন্য যাবতীয় মিসাইলকে পিছনে ফেলে দেওয়ার মতো ক্ষমতাসম্পন্ন এই নয়া মিসাইলের গতিবেগ হতে চলেছে সেকেন্ডে ৩ কিলোমিটার। যাকে মিসাইল প্রযুক্তির সামরিক পরিভাষায় বলা হয় ম্যাক এইট। এই গতির হা‌‌ইপারসনিক ক্রুজ মিসাইল শুধু আমেরিকা, রাশিয়া এবং চীনের কাছেই আছে। অন্য কোনও দেশের নেই। ১৫০০ কিলোমিটার রেঞ্জের এই মিসাইলে থাকতে পারে পরমাণু ওভারহেড। আর এই দূরত্বের কারণেই চীন এবং পাকিস্তান ভারতের সবথেকে শক্তিশালী মিসাইলের আওতায় এসে যাবে। এই মিসাইলের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল, বর্তমানে চীন এবং পাকিস্তানের কাছে যে এয়ারডিফেন্স সিস্টেম আছে, সেটায় এই মিসাইল প্রতিরোধ করা যাবে না। পাকিস্তানের কাছে যে জেনারেশনের রেডার আছে, সেটা এই হাইপরাসনিক ক্রুজ  মিসাইলের উপস্থিতি আগে থেকে  ধরতেও পারবে না। সরকারি সূত্রের খবর, পরীক্ষা সফল হওয়ার আট মাসের মধ্যেই এই মিসাইল কমিশনড হয়ে যাবে। প্রথম থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে থাকা সীমান্ত ও নিয়ন্ত্রণরেখা এবং চীনের সঙ্গে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় এই মিসাইলকে রাখা হবে। যা স্নায়ুযুদ্ধের জন্য জরুরি। প্রাথমিকভাবে এই মিসাইলের সবথেকে যে কার্যকারিতার উপর জোর দেওয়া হয়েছে, সেটি হল, নিক্ষিপ্ত হওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ ধরে যাতে অ্যাক্টিভ থাকতে পারে। ইতিমধ্যেই ডিআরডিও ১ হাজার সেকেন্ড ধরে ইঞ্জিন সক্রিয় থাকার পরীক্ষা করে ফেলেছে। তবে সেটি মাটিতে। আকাশে নিক্ষিপ্ত হওয়ার পর সেটি কতক্ষণ থাকতে পারবে, সেটাই আসল পরীক্ষা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা যাচ্ছে, নিক্ষিপ্ত হওয়ার পর গতি তো বটেই, দিশা পরিবর্তনও করতে সক্ষম হবে এই মিসাইল। অর্থাৎ মিড ফ্লাইট ডিরেকশনাল বদলের প্রযুক্তি থাকবে। একইসঙ্গে ২০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উত্তাপেও সমানভাবে সক্রিয় থাকবে ইঞ্জিন, ব্যাটারি, উপকরণ। গোটা মিসাইলের বহিরাভাগ অক্সিডেশন প্রতিরোধী। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের আশা হল, শুধু যে ভারত নিজের ব্যবহারের জন্য এই অত্যাধুনিক মিসাইল যুদ্ধ-ভাণ্ডারে যুক্ত করছে, তাই নয়। অন্যতম প্রধান লক্ষ্য রপ্তানিও।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ