নয়াদিল্লি ও ঢাকা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবিউনাল ফাঁসির সাজা ঘোষণা করার পরেই শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতের কাছে আবেদন করেছে ঢাকা। এর জন্য দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তিকেই হাতিয়ার করেছে বাংলাদেশ। গত বছরের ডিসেম্বরেও হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতের কাছে সরকারিভাবে আবেদন জানিয়েছিল ঢাকা। সেবার আবেদনে কর্ণপাত করেনি দিল্লি। ফাঁসির সাজা ঘোষণা হওয়ার পর হাসিনাকে নিয়ে ভারতের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। ভারত পালটা জানিয়েছে, বাংলাদেশের নাগরিকদের স্বার্থরক্ষা করেই চলবে দিল্লি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসিনাকে ঢাকার হাতে তুলে দেওয়ার কোনও পরিকল্পনাই নেই ভারতের। প্রত্যর্পণ চুক্তিরই কয়েকটি ধারা বলছে, হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠাতে বাধ্য নয় দিল্লি। ঘটনাচক্রে ২০১৩ সালে হাসিনাই এই চুক্তি করেছিলেন। চুক্তির ৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী, যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে কোনও ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয় বা তার সাজা ঘোষণা হয়, তাহলে প্রত্যর্পণের আবেদনে সাড়া দিতে বাধ্য থাকবে না দুই দেশ। এছাড়া অন্য ধারায় বলা হয়েছে, যদি অনুরোধ-প্রাপক দেশের মনে হয় অভিযোগগুলি শুধু ‘ন্যায় বিচারের স্বার্থে, সরল বিশ্বাসে’ আনা হয়নি তাহলেও তাদের সেটি নাকচ করার ক্ষমতা থাকবে। অভিযোগগুলো যদি 'সামরিক অপরাধে'র হয়, যা সাধারণ ফৌজদারি আইনের অধীনে নয়, তাহলেও অনুরোধ নাকচ করা যাবে। হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত না পাঠানোর ক্ষেত্রে এই সব ধারাগুলি নিয়েই ভারত সওয়াল করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া বাংলাদেশের একাধিক প্রাক্তন মন্ত্রী ধরা পড়ার পরে যেভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছেন, তাতে হাসিনাকে ফেরত পাঠালে তাঁর প্রাণের ঝুঁকি রয়েছে বলেও মনে করছেন তাঁরা। তবে, দিল্লি সরকারিভাবে কী অবস্থান নেয়, তা কয়েকদিনে মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। এদিকে, রায় ঘোষণার পরই বাংলাদেশজুড়ে জল্পনা ছড়িয়েছে, হাসিনার ফাঁসির সাজা ঘোষণার জন্য কি ইচ্ছাকৃতভাবে ১৭ নভেম্বর দিনটিকে বেছে নেওয়া হয়েছিল? ১৯৬৭ সালের একই দিনে বিখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়াকে বিয়ে করেছিলেন হাসিনা। ঘটনাচক্রে এদিনই ছিল তাঁর ৫৮ বছরের বিবাহবার্ষিকী। হাসিনাকে ‘শিক্ষা’ দিতেই বিবাহবার্ষিকীর দিনেই তাঁর ফাঁসির সাজা ঘোষণা বলে মনে করছেন অনেকে। সমাজমাধ্যমে অনেকেই দাবি করেছেন, হাসিনার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা কয়েকদিন আগে বা পরে হতেই পারত। কিন্তু ইউনুস সরকার বুদ্ধি করেই ১৭ নভেম্বর দিনটি বেছে নিয়েছে। অনেকে আবার বিষয়টিকে ইউনুসের ‘ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা’ বলেও উল্লেখ করেছেন। এদিন মহম্মদ ইউনুস এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের আদালত যে রায় দিয়েছে, তা সারা দেশ এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেও প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। এই রায় ও সাজা প্রমাণ করল, যত ক্ষমতাবানই হোক, কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়।



