ওয়াশিংটন: রাশিয়া থেকে তেল কেনার শাস্তি। ভারতের উপর অতিরিক্ত শুল্কের বোঝা চাপিয়েছে আমেরিকা। এনিয়ে ট্রাম্প ও তাঁর ‘বন্ধু’ নরেন্দ্র মোদির মধ্যে টানাপোড়েন জারি। শুল্ক যুদ্ধের আবহেই এবার দিল্লিকে নিশানা করলেন মার্কিন বাণিজ্য সচিব হোয়ার্ড লুটনিক। রবিবার কার্যত হুমকির সুরে ট্রাম্প সহযোগীর বক্তব্য, ‘ভারত সহ বেশ কয়েকটি দেশকে একটু ভালো করে বুঝিয়ে দিতে হবে। আমেরিকার ক্ষতি হবে, এমন কোনও কাজ যাতে ভারত না করে।’
এদিন এক সাক্ষাৎকারে লুটনিক বলেন, সুইৎজারল্যান্ড, ব্রাজিল, ভারতের মতো দেশগুলিকে একটু বোঝাতে হবে। ওরা যেন আমেরিকাকে সমঝে চলে। আমেরিকার জন্য দেশগুলির নিজেদের বাণিজ্যের দরজা খোলা রাখা উচিত। ওরা এমন কিছু যেন না করে যাতে আমেরিকার স্বার্থে আঘাত লাগে। একটি সহজ বিষয় মাথায় রাখতে হবে। যদি আমেরিকার বাজারে ব্যবসা করতে হয়, তাহলে সরাসরি ময়দানে নেমে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে খেলতে হবে।
এর আগেও দিল্লিকে আক্রমণ করেছিলেন লুটনিক। আমেরিকার বাণিজ্য সচিব বলেছিলেন, শুল্কচাপে জেরবার হয়ে শীঘ্রই আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতা করতে বাধ্য হবে ভারত। বিশ্বের সবচেয়ে বড় শক্তির সঙ্গে লড়াই করার বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে ভালো। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই ভারতের ব্যবসায়ীরাই তাদের সরকারের উপর চাপ দিতে শুরু করবে। আর কোনও পথ না পেয়ে আমেরিকার দ্বারস্থ হবে ভারত সরকার।
তবে এই ইস্যুতে এদিনও ভারতের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে রাশিয়া। শনিবার রাষ্ট্রসংঘে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী লাভরভ। সেখানেই তেল ইস্যু নিয়ে জয়শঙ্কর বলেছিলেন, ‘আমেরিক আমাদের তেল বিক্রি করতে চায়। আলোচনায় বসে শর্ত ঠিক করা যেতেই পারে। তবে রাশিয়া সহ অন্যান্য দেশ থেকে কী কেনা হচ্ছে সেটা আমাদের নিজস্ব ব্যাপার।’ নয়াদিল্লির এই নীতির ভূয়সী প্রশংসা করেন রুশ বিদেশমন্ত্রী। বলেন, ভারতের আত্মসম্মান আছে। লাভরভ বলেন, ‘ভারত-রাশিয়ার সম্পর্ক নিয়ে আশঙ্কার কোনও কারণ নেই। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী বলেই দিয়েছেন যে নয়াদিল্লি নিজের অংশীদার বেছে নেয়।’