নয়াদিল্লি: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাতের আবহে এবার ইউরোপের দেশগুলিকে কড়া বার্তা দিল ভারত। রবিবার এস জয়শঙ্কর এক অনুষ্ঠানে জানান, ভারত সহযোগী খুঁজছে, পরামর্শদাতা নয়। তাঁর মতে, ইউরোপকে এখন বাস্তবে ফিরে আসতে হবে এবং ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার স্বার্থে তাদেরও কিছু সংবেদনশীলতা দেখানো প্রয়োজন। শুধু পরামর্শ দিলেই হবে না। আদর্শগত মতপার্থক্য সরিয়ে পারস্পরিক সাহয্যের মাধ্যমেই আমেরিকার সঙ্গেও সুসম্পর্ক বজায় রাখা যাবে বলে সওয়াল করেছেন বিদেশমন্ত্রী। সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের তরফে বার্তা দেওয়া হয়েছিল, সংঘাত মেটাতে ভারত ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক পথে সমাধানের পথ খোঁজা উচিত। সেই বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই জয়শঙ্কর এদিনের বক্তব্য বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে বলি না, এটা করো বা ওটা করো না। এটাই স্বাভাবিক সৌজন্য। কিন্তু আমাদের সঙ্গে এই ব্যবহার করা হয় না। তাই আমাদের কী করা উচিত, তা নিয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়।’ ইউরোপ যে নীতি নিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ থামাতে উদ্যোগী হয়েছিল, তারও সমালোচনা করেছেন জয়শঙ্কর। তাঁর মতে, রাশিয়াকে বাদ দিয়ে সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা বাস্তবতাকেই চ্যালেঞ্জ করে। এদিকে, পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সংঘাত মেটাতে আলোচনার উপরেই জোর দিয়েছে রাশিয়া। পহেলগাঁওয়ে হামলার বিষয়ে গত শুক্রবার রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি লাভরভকে জানান, পহেলগাঁও হামলায় ষড়যন্ত্রকারী, সাহায্যকারীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসতেই হবে। লাভরভ তাঁকে অনুরোধ করেন, যুদ্ধের বদলে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পথেই ভারত ও পাকিস্তান নিজেদের মধ্যে সংঘাত মিটিয়ে নিক। এই প্রসঙ্গে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সিমলা চুক্তি ও লাহোর ঘোষণার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে রাশিয়া। মস্কোর সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক নিয়েও লাভরভ ও জয়শঙ্করের আলোচনা হয়।



