নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: প্রায় গোটা জুলাই জুড়েই টানা বৃষ্টি চলেছে গোটা দক্ষিণবঙ্গে। এর ফলে বিভিন্ন রাস্তায় জমছে জল, পাশাপাশি প্রকট হয়েছে রাস্তাঘাটের বেহাল দশাও। এই দ্বিফলায় বেড়েছে নাগরিক-দুর্ভোগ। দানা বাঁধছে অসন্তোষও। বোঝার উপর শাকের আঁটি হয়েছে বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার দিনভর প্রবল বৃষ্টি।
গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে খানাখন্দে ভরে গিয়েছে নিউ বারাকপুরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস রোড। বিভিন্ন অলিগলিও ভেঙেছে। শহরের সতীন সেন নগর ও জোড়াপুকুর রিকশ স্ট্যান্ড মোড়ে গ্যাসের পাইপলাইনের জন্য রাস্তা খোঁড়া রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হয়েছে। পাশাপাশি বালি ও স্টোন চিপস রাস্তায় ছড়িয়ে থাকায় পথচারীদের সমস্যা আরও বেড়েছে।
নেতাজি সুভাষ রোডের সাড়ে সাত নম্বর রেল গেট থেকে নিউ বারাকপুর থানার সামনে দিয়ে যতই এগন যায়, ততই রাস্তার বেহাল দশা চোখে পড়ে। রাস্তাটিতে খানাখন্দের পাশাপাশি বড় গর্তও তৈরি হয়েছে। নেতাজি সুভাষ রোড ধরে বিলকান্দার মাসুন্দা অটো স্ট্যান্ড পর্যন্ত রাস্তা ভেঙে গিয়েছে। বিলকান্দা অটো স্ট্যান্ডের পর থেকে রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। এছাড়াও, শহরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বিপ্লবী সঙ্ঘ যাওয়ার রাস্তা, ১১ নম্বর ওয়ার্ডের রবীন্দ্র সরণি, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাত নম্বর রেলগেট সংলগ্ন লেনিন সরণি, সাত নম্বর রেলগেট পাড় করে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের দিকে যাওয়ার রাস্তা খানাখন্দে ভর্তি। নিউ বারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান প্রবীর সাহা বলেন, শহরের বিভিন্ন রাস্তায় জল, বিদ্যুৎ, গ্যাস লাইনের কাজ চলছে। ফলে রাস্তা খোঁড়া রয়েছে। এদিকে নিম্নচাপের একটানা বৃষ্টিতে রাস্তার হাল আরও খারাপ হয়েছে। তবে সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শহরজুড়ে বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ রাস্তার মেরামতি শুরুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, কাঁচরাপাড়া, নৈহাটি, ভাটপাড়া ও বারাকপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জলের তলায়। কাঁচরাপাড়ায় রেলের আন্ডারপাসে হাঁটুজল। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের ধারে ভাটপাড়া পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড যথারীতি জলমগ্ন। বারাকপুর শহরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এদিন দুপুরের পর জলের তলায় চলে যায়। বারাকপুর স্টেশনের সামনে দেখা দেয় দীর্ঘ যানজট। জল নামাতে বারাকপুর পুরসভা ছ’টি পাম্প চালাচ্ছে।
অন্যদিকে, টানা বৃষ্টির জেরে জল জমে বেগতিক পরিস্থিতি বনগাঁ-চাকদহ সড়কের। অতিষ্ঠ হয়ে রাস্তায় নৌকা চালিয়ে, জাল ফেলে মাছ ধরে ও রাস্তায় ধানগাছের চারা পুঁতে প্রতিবাদ জানিয়েছে বিরোধী বামফ্রন্টের বিভিন্ন শাখা সংগঠন। বৃহস্পতিবারই বিক্ষোভ হয় চাকদহ-বনগাঁ রাজ্য সড়কে চাকদহ বাসস্ট্যান্ডের কাছে। ‘দুয়ারে নৌকা’ নাম দিয়ে এই বিক্ষোভে প্রায় আড়াই ঘণ্টা রাস্তা বন্ধ থাকে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, টানা ২ মাস ধরে চাকদহের বিভিন্ন এলাকার রাস্তায় জল জমে রয়েছে। কারও হুঁশ নেই। এই বিষয় চাকদহ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অশোক মণ্ডল বলেন, পুজোর পরেই ওই রাস্তার কাজ শুরু হবে। রাস্তা চওড়া করার পাশাপাশি ড্রেনও তৈরি হবে।
তবে, দু’দিনেও জমা জল সরেনি বারুইপুর পুরসভা এলাকায়। পুরসভার ২, ৩, ৪, ১০, ১১, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে এখনও রাস্তায় জমে জল। অনেক বাড়ির ঘরে, উঠোনে জল। ফি বছর জল জমছে। তবুও কেন সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে না, এই প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। বারুইপুর পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান গৌতম দাস অবশ্য বলেন, জল সরাতে চারটি পাম্প চলছে। জল জমেছে মদারাট পপুলার অ্যাকাডেমি স্কুলের সামনেও। পড়ুয়ারা স্কুলে যেতে হিমশিম খাচ্ছে। বারুইপুরের হরিহরপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও জমে জল। চিকিৎসক থেকে রোগীদের জমা জল পেরিয়ে আসতে হচ্ছে। ডাক্তাররা বলেন, জমা জল থেকে অনেকের পায়ে সংক্রমণ হচ্ছে। অন্যদিকে, মহেশতলা এবং ঠাকুরপুকুর মহেশতলা ব্লক ও বজবজ পঞ্চায়েত এলাকায় জল আগের মতোই জমেছে। মহেশতলা পুর এলাকায় সম্প্রতি একটি টালির বাড়ি ভেঙেছে। যদিও কোনও প্রাণহানি হয়নি।
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সাগরে ১৩৯ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এটাই জুলাই মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টির পরিমাণ। এর আগে ৭ জুলাই সর্বোচ্চ ১৭৪ মিমি বৃষ্টি হয়েছিল। এছাড়া গোসাবায় প্রায় ১০০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়। বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির জেরে চারদিকে বিক্ষিপ্তভাবে জল জমে রয়েছে। রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার বোড়াল এলাকাতেও জল থই থই পরিস্থিতি।