Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘আগামী দিনে মেডিক্যাল কলেজের অনুমোদন পরিদর্শক-নির্ভর হবে না’, দুর্নীতি বিতর্কের পর সাক্ষাৎকারে বললেন এনএমসি চেয়ারম্যান

দেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের অনুমোদনের ক্ষেত্রে পরিদর্শন এবং পরিদর্শকদের (অ্যাসেসর) নিয়ে সাত কাণ্ড রামায়ণ হয়ে গেল!

‘আগামী দিনে মেডিক্যাল কলেজের অনুমোদন পরিদর্শক-নির্ভর হবে না’, দুর্নীতি বিতর্কের পর সাক্ষাৎকারে বললেন এনএমসি চেয়ারম্যান
  • ২৩ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: দেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের অনুমোদনের ক্ষেত্রে পরিদর্শন এবং পরিদর্শকদের (অ্যাসেসর) নিয়ে সাত কাণ্ড রামায়ণ হয়ে গেল! সিবিআই হানা, হাজার কোটির বেশি দুর্নীতির খোঁজ, এফআইআর, গ্রেপ্তার— বাকি নেই কিছুই! বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়ল দেশের অ্যালোপ্যাথিক পঠনপাঠন ও চিকিৎসার সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশনের (এনএমসি) স্বচ্ছতা-সততা। এই কঠিন এবং চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার এনএমসি’র চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়েছে ডিএনবি বোর্ডের চেয়ারম্যান ডাঃ অভিজাত শেঠকে। ‘বর্তমান’-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ডাঃ শেঠ জানালেন, ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ বা নতুন কোনও কোর্স অথবা আসন বৃদ্ধির অনুমোদন পরিদর্শক নির্ভর থাকবে না। সিস্টেম নির্ভর হবে। তাঁর কথায়, ‘অনুমোদনের ব্যাপারে  বাড়াবাড়ি রকম কড়াকড়ি হলেই অ্যাসেসরদের উপর নির্ভরতা বাড়ে।’ তিনি যে সেই পথে হাঁটবেন না, স্পষ্ট করে দিয়েছেন এনএমসি শীর্ষকর্তা। তিনি জানিয়েছেন, কোন চিকিৎসক কোন কোর্স পাশ করেছেন, সেটা নয়, কে কেমন পারফর্ম করছেন, হাতেকলমে কতটা দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন—ভবিষ্যতে সেটাই হবে চিকিৎসকদের গুণগত মান যাচাইয়ের প্রধান সূচক। সাক্ষাৎকারে এনএমসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘সমস্ত সদস্যের সঙ্গে বৈঠকে বসি। তখন আরও স্পষ্ট হবে ব্যাপারটা। তাও এটা বলতে পারি, বিশ্বজুড়ে চিকিৎসকদের গুণগত মান যাচাইয়ের সুনির্দিষ্ট মাপকাঠি স্থির করা আছে। আমরাও ধাপে ধাপে সেই মাপকাঠি গ্রহণ করব।’ দেশের সাতশোর বেশি মেডিক্যাল কলেজে পঠনপাঠনের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই শীর্ষকর্তা বলেন, ‘বর্তমানে দেশে ১.১৮ লক্ষ এমবিবিএস এবং প্রায় ৭০ হাজার পিজি (এমডি-এমএস ইত্যাদি) আসন রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হবে এমবিবিএস এবং এমডি-এমএস আসনের অনুপাত ১:১ করা। তাতে এমবিবিএস পাশ প্রত্যেক চিকিৎসকই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবেন। সার্বিকভাবে মান বাড়বে ডাক্তারি পড়াশোনার।

Advertisement

ডাক্তারি পেশায় চাকরির সঙ্কট দেখা যাচ্ছে, পড়ুয়ারা কি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন? এই প্রশ্নের উত্তরে ডাঃ শেঠ বলেন, ‘সমস্যা হল চিকিৎসকরা প্রত্যেকেই চাইছেন বড় শহরে কাজ করতে। তাই শহরাঞ্চলে এমনটা মনে হচ্ছে। গ্রামে কিন্তু এই অবস্থা নেই। দেশের সর্বত্রও কিন্তু এমন অবস্থা নয়। হু’র নিদান হল, ডাক্তার রোগীর আদর্শ অনুপাত হবে ১:১০০০। কয়েকটি রাজ্য এই লক্ষ্যে পৌঁছতে পারলেও বেশিরভাগই এর থেকে অনেক দূরে।’ দিন দিন আয়ুষ চিকিৎসার জনপ্রিয়তা বাড়ছে এবং অ্যালোপ্যাথি ও আয়ুষের মধ্যে সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে। এ প্রসঙ্গে এনএমসি চেয়ারম্যানের সাফ বক্তব্য, ‘আলাদা প্যাথি আলাদাই থাকা উচিত। অ্যালোপ্যাথির আলাদা গুণ, আলাদা সীমাবদ্ধতা। হোমিওপ্যাথি এবং আয়ুষের অন্যান্য শাখার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এক্ষেত্রে সমন্বয়ের মানে হয় না।’ অনুভব ও উপলব্ধি নির্ভর ডাক্তারির বদলে যন্ত্র এবং পরীক্ষা নির্ভর ডাক্তারির রমরমা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন মেডিসিন সেই আগের মতো নেই। আধুনিক প্রযুক্তিকে গ্রহণ করতে হবে। তবে এটা মনে হয়, ভবিষ্যতে অ্যালোপ্যাথিক ডাক্তারি সম্পূর্ণভাবে পার্সোনালাইজড বা ব্যক্তিনির্ভর হবে।’  -ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ