নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রোজ হাজার টন জঞ্জাল পুড়িয়ে তৈরি হবে বিদ্যুৎ। এমনটাই পরিকল্পনা পুরসভার। জঞ্জাল প্রক্রিয়াকরণ করে যে অপ্রচলিত বিদ্যুৎ তৈরি হবে, তা পাঠিয়ে দেওয়া হবে সরকারি বা বেসরকারি বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার গ্রিডে। নতুন যে ৭৩ হেক্টর জমি হাতে এসেছে, সেখানে এমনই একাধিক পরিকল্পনা রয়েছে কলকাতা পুরসভার। এজন্য কনসালট্যান্ট বা পরামর্শদাতা সংস্থাও নিয়োগ করতে চলেছে কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে ধাপার আয়ু ফুরিয়েছে। সেখানে জঞ্জাল ফেলার জায়গা নেই। এই অবস্থায় ইতিমধ্যেই ধাপার পুরনো জমিতে সার কারখানা থেকে শুরু করে বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের একাধিক ইউনিট তৈরি হয়েছে। কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয়। তাই ধাপায় নতুন পরিবেশবান্ধব বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট বানাতে সক্রিয় পুর কর্তৃপক্ষ। তাই কেনা হচ্ছে এই ৭৩ হেক্টর জমি। ইতিমধ্যেই সত্তর একর জমি কিনেছে পুরসভা। ধাপার মতো জঞ্জালের পাহাড় নয়, শহরে হবে এই নয়া পরিবেশবান্ধব আধুনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রকল্প। পরিবেশ আদালতের চাপে আধুনিক, বিজ্ঞানসম্মত ‘ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ল্যান্ড ফিল্ড’ তৈরির প্রয়োজন হয়ে পড়ে। কারণ ধাপায় আর জঞ্জাল ফেলার জায়গা নেই।
এই প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক অফিসার বলেন, দীর্ঘ টালবাহানার পর ২৫ বছরের প্রয়াস সফল হল। ধাপার আয়ু শেষ হয়ে গিয়েছে। বহু বছর ধরেই আমরা নতুন জায়গার খোঁজ চালাচ্ছিলাম। ২০১১ সালের পর ধাপা লাগোয়া মাত্র ১০ হেক্টর জমি কেনা হয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার রসপুঞ্জতেও জমি দেখা হয়েছিল। অবশেষে বাসন্তী হাইওয়ের ধারেই জায়গা পাওয়া গিয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, পুরসভার ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডে বাসন্তী হাইওয়ের ধারে খানাবেড়িয়া এবং দুর্গাপুর গ্রাম। সেখানেই এই জমি মিলেছে। ইতিমধ্যেই সেখানকার কৃষক ও মৎস্যজীবীদের থেকে জমি কেনা হয়েছে।
কী ধরনের হবে এই পরিবেশ বান্ধব বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট? কোন কোন প্রকল্প থাকবে সেখানে? জানা গিয়েছে, জঞ্জাল পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি জঞ্জাল থেকে তৈরি হবে এক ধরনের ফুয়েল বা জ্বালানি, যা বিভিন্ন সিমেন্ট কারখানা বা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিক্রি করা যাবে। এছাড়া তৈরি করা হবে চিকিৎসা-বর্জ্য প্রসেসিং ইউনিটও। ইতিমধ্যে ধাপায় চলে থার্মোকল প্রসেসিং ব্যবস্থা। সেটিও সম্প্রসারণ করা হবে। সম্প্রসারিত হবে সার কারখানাও। অন্যদিকে বর্তমানে ধাপায় একটি বায়ো সিএনজি প্লান্ট রয়েছে। নতুন জমিতে আরও বড় ধরনের বায়ো সিএনজি প্লান্ট তৈরি হবে। যাতে পুরসভার জঞ্জাল সাফাইয়ের কাজে ব্যবহৃত গাড়িগুলি বায়ো সিএনজি দিয়ে চালানো যায়। সেক্ষেত্রে পুরসভার খরচ কমার সম্ভাবনা থাকবে। পাশাপাশি ই-বর্জ্য প্রসেসিং ইউনিট তৈরিরও পরিকল্পনা রয়েছে।
জঞ্জাল সাফাই এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, এজন্য কনসালট্যান্ট নিয়োগ করা হবে। টেন্ডার ডাকা হয়েছিল। অভূতপূর্বভাবে সাতটি সংস্থা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছে। এখন চূড়ান্ত সংস্থা বাছাই প্রক্রিয়া চলছে। আমরা যে ধরনের প্রকল্পগুলি করতে চাইছি, তার কোনটার জন্য কতটা জমি প্রয়োজন, যে সংস্থাগুলি সেগুলি বানাবে, তাদের সঙ্গে কী ধরনের চুক্তি হবে, পুরসভা কতটা লাভবান হবে, খরচ কত হবে– এ সবকিছুই খতিয়ে দেখে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে এই পরামর্শদাতা সংস্থা নিয়োগ করা হচ্ছে।