সংবাদদাতা, সিউড়ি: সিউড়ি মহকুমাজুড়ে বেআইনি মিনি গ্যাস সিলিন্ডারের রমরমা ব্যবসা চলছে। ছোট্ট দোকান ঘরের ভেতরেই চলছে রিফিলিং। দুর্ঘটনার আশঙ্কা করে সরকারি গ্যাস বন্টন সংস্থার পক্ষ থেকে মাস খানেক আগে জেলা পুলিস ও প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও আর্জি রাখা হয়েছে। দুর্গাপুরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরও টনক নড়ছে না কোনওপক্ষের। বড় সিলিন্ডারে গ্যাসের দাম থেকে মুক্তি পেতে বহু পরিবার ছোট সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন।
সিউড়ি শহরে বিভিন্ন জায়গায় একাধিক দোকান থেকে বড় সিলিন্ডার থেকে ভরা হচ্ছে ছোট সিলিন্ডারগুলিতে। স্বাভাবিকভাবে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে আশেপাশের বাসিন্দারা। সিউড়ি, সাঁইথিয়া, দুবরাজপুর সহ বেশকিছু শহরে রমরমিয়ে চলছে ছোট রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের ব্যবসা। ৫ কেজি, ৮ কেজি, ১২ কেজি সহ একাধিক পরিমাপের ছোট সিলিন্ডার বিকোচ্ছে বাজারে। সেই সঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে ছোট গ্যাসের ওভেন ও রেগুলেটর। সব কিছুই বিক্রি হচ্ছে বেআইনি ভাবে। জানা গিয়েছে, এইসব ছোট সিলিন্ডার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝোঁক রয়েছে গরিব লোকেদের।
শুক্রবার গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের জেরে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ঘটে বর্ধমানের দুর্গাপুরে। সেখানে এক সাইকেল দোকানের মধ্যে রান্নার গ্যাসের রিফিলিং করার সময় বিস্ফোরণটি ঘটে। আশপাশের একাধিক দোকান ভস্মীভূত হয়ে যায়। রান্নার গ্যাসের অনুমোদিত রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বীরভূম জোনের সেলস ম্যানেজার সুশান্ত সাহা বলেন, ‘বীরভূমে বেআইনি ছোট গ্যাসের ব্যবসা বিভিন্ন পাড়ায় ব্যাপক হারে চলছে। এর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাস খানেক আগেই আমরা পুলিস ও প্রশাসনকে জানিয়েছি। আমরা ওদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারব না। মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে এই কাজটি প্রশাসনকেই করতে হবে।’ জেলা প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক বলেন, ‘ছোট রান্নার গ্যাস একেবারেই অবৈধ। এই গ্যাস রিফিল করা বা ব্যবহার করা দু’টিই বিপজ্জনক। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’