নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সকালেই বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু সোমবার ভোররাতে এল দুঃসংবাদ। গোডাউনে আগুন লেগেছে। ১৫ মিনিটের মধ্যে না উদ্ধার করা গেলে, আর বাঁচব না। স্ত্রী মৌসুমি হালদারকে ফোন করে এমনই উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন স্বামী পঙ্কজ হালদার। নাজিরাবাদে মোমো প্রস্তুতকারী সংস্থার গোডাউনে কর্মরত ছিলেন পঙ্কজ। সোমবার ভোররাতে আগুন লাগার পর প্রাণে বাঁচার মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছিলেন পঙ্কজ ও তাঁর দুই সহকর্মী। স্বামীর আকুতি শুনে পড়িমরি দৌড়ে এসেছিলেন স্ত্রী। কিন্তু ঘটনাস্থলে এসে আর যোগাযোগ করতে পারেননি স্বামীর সঙ্গে। নাগাড়ে ফোন বেজে গেলেও ফোন ধরেননি প্রিয় মানুষটি। রিং করলেও কিছুক্ষণ পর আর বাজেনি পঙ্কজের মোবাইল। স্বামী কোথায় কেমন আছেন? কী অবস্থায় আছেন? নানা আশঙ্কায় উদভ্রান্তের মতো দৌড়াদৌড়ি শুরু করেছিলেন মৌসুমি। পুলিশ ও দমকল তাঁর প্রশ্নের জবাব দিতে পারেনি। সোমবার সারাদিন ঘটনাস্থলের অদূরেই বসেছিলেন মৌসুমি ও তাঁর পরিবারের লোকজন। দিনভর কোনও খবর না পেয়ে হাউ হাউ করে কাঁদতে শুরু করলেন তিনি। কান্নাভেজা গলায় মৌসুমি বলেন, মেয়ের শরীর খারাপ ছিল। ওর বাবা বলে গিয়েছিল সকালে ওষুধ নিয়ে আসবে। মেয়েকে এখন কী বলব! জানিনা! আক্ষেপ করছিলেন, একবার ও ফিরে আসুক। আর মান-অভিমান, কিছুই করব না। কঙ্কালসার মোমো কারখানার গেটের মুখে পুড়ে যাওয়া বাইকটা পঙ্কজের। ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও যেন মালিকের অপেক্ষায়।



