সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: কালভার্টের কাছাকাছি সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছে। কোনওভাবে যদি ওই কালভার্টের মুখ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে নিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে বাবলারি পঞ্চায়েতের বেশ কিছু এলাকায়। বর্ষা এবং বন্যার সময় জমা জল বের হতে পারবে না। আতঙ্কে ভুগছেন বাবলারি পঞ্চায়েতের বাবলারি কলোনি, নিতাই নগর, প্রাণগোপাল নগর, মিলননগর সহ আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের গ্রামবাসী ও নলগাড়িএলাকার জমির মালিকরা। পাশাপাশি আতঙ্কে বাবলারি সংলগ্ন নবদ্বীপ পুর এলাকার বাসিন্দারাও। যদিও পঞ্চায়েত প্রধান বলেছেন, কালভার্টের মুখ কোনওভাবেই বন্ধ করা যাবে না। সেই মুচলেকা দিয়েছেন ওই জমির মালিক।
নবদ্বীপ পুরসভা ও বাবলারি পঞ্চায়েতের সংযোগস্থলে বাবলারির বিষ্ণুপুরে নিকাশি নালার ওই কালভার্ট রয়েছে। ওই কালভার্ট দিয়ে বাবলারি পঞ্চায়েতের বাবলারি কলোনি, প্রাণগোপাল নগর, নিতাই নগর, মিলননগর বন্যা ও বর্ষার জমা জল বের হয়। এমনকী বাবলারি সংলগ্ন নবদ্বীপ পুরসভার এক ও চার নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কিছু এলাকার জল বের হয়। পাশাপাশি নবনির্মিত ডাম্পিং গ্রাউন্ডের জলও আগামী দিনেওখান দিয়ে বের করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেজন্য নালা তৈরির কাজ চলছে। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে কালভার্ট সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণ কাজ করছিলেন সংশ্লিষ্ট জমির মালিক। ফলে গ্রামবাসীরা আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন, ওই নির্মাণ কাজের জন্য নিকাশি নালার মুখ বন্ধ হয়ে যাবে না তো! এমনকী ওই জল বের না হতে পারলে ক্ষতি হবে সংশ্লিষ্ট নলগাড়ি এলাকার কৃষিজমির। কেননা এই কালভার্ট দিয়ে বর্ষা এবং বন্যার জল কালিনগর হয়ে ছাড়িগঙ্গায় গিয়ে পড়ে। কিন্তু কালভার্ট বন্ধ হয়ে গেলে জল আটকে চাষের জমির ক্ষতি হবে।
তবে এব্যাপারে প্রাচীর নির্মাণকারী জমির মালিক বলেন, কালভার্টের জায়গা ছেড়ে দিয়েই প্রাচীরের কাজ করছি। বাবলারি কলোনি বাসিন্দা শুভঙ্কর ঘোষ বলেন, যেভাবে নির্মাণ কাজ চলছে তাতে কালভার্টের মুখ প্রায় বন্ধের মুখে। আর তা বন্ধ হলে বর্ষায় সমস্যা হবে নিতাইনগর, প্রাণ-গোপালনগর, মিলননগর এবং নলগাড়ি অঞ্চলের কৃষকদের। এমনিতেইজল বেরতে এক মাস সময় লেগে যায়। কিন্তু কালভার্ট বন্ধ হলে কৃষিজমিতে পাঁচ-ছয় মাস জল দাঁড়িয়ে থাকবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রামবাসী জানালেন, বিগত পঞ্চায়েত নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু আবারও সেই কালভার্ট সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। কালভার্টের জায়গার মালিকানা কার, তা অবিলম্বে স্পষ্ট করতে হবে।
বাবলারি পঞ্চায়েতের প্রধান নারায়ণ কর্মকার বলেন, আমরা যখন জানতে পারি কালভার্টের জায়গায় নির্মাণ কাজ হচ্ছে। আমরা সেই জমির মালিককে নোটিস দিয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ করি।এই কালভার্ট দিয়ে যেহেতু শুধু বাবলারি পঞ্চায়েত এলাকা নয়, পুরসভার বেশ কিছু এলাকার জলও বের হয়, সেজন্য আমরা বিষয়টি নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যানকে জানাই। পুরসভা জানার পরে পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার এবং পঞ্চায়েতের ইঞ্জিনিয়ার ঘটনাস্থলে যান। তারা দেখেন জল নিকাশির জন্য জায়গা ছাড়া রয়েছে। তখন পঞ্চায়েত থেকে ওই জমি মালিককে নির্মাণ কাজের অনুমতি দেওয়া হয়। এমনকী জমির মালিকের থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়, কোনওমতেই ওই কালভার্ট আটকানো যাবে না।