Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘বাংলার সম্মান বুঝে নেব’, হুঁশিয়ারি মমতার, একুশের মঞ্চ থেকে আজ ভোটযুদ্ধের ডাক

রবিবার থেকেই জনস্রোত কলকাতামুখী। ভরা বর্ষায় লক্ষ মানুষের ভিড়ে ভরে উঠবে ধর্মতলা চত্বর। কারণ, আজ ২১ জুলাই। তৃণমূল কংগ্রেসের শহিদ তর্পণ। সেই সঙ্গে গোটা রাজ্য থেকে আসা কর্মী-সমর্থকদের আগামীর লড়াইয়ের রসদ নিয়ে ঘরে ফেরার দিন।

‘বাংলার সম্মান বুঝে নেব’, হুঁশিয়ারি মমতার, একুশের মঞ্চ থেকে আজ ভোটযুদ্ধের ডাক
  • ২১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০৫
Prefer us on Google

রাহুল চক্রবর্তী , কলকাতা: রবিবার থেকেই জনস্রোত কলকাতামুখী। ভরা বর্ষায় লক্ষ মানুষের ভিড়ে ভরে উঠবে ধর্মতলা চত্বর। কারণ, আজ ২১ জুলাই। তৃণমূল কংগ্রেসের শহিদ তর্পণ। সেই সঙ্গে গোটা রাজ্য থেকে আসা কর্মী-সমর্থকদের আগামীর লড়াইয়ের রসদ নিয়ে ঘরে ফেরার দিন। ফি-বছর এই মেগা কর্মসূচি থেকে দলের ভবিষ্যৎ রাজনীতির অভিমুখ ঠিক করে দেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারও তার কোনও ব্যতিক্রম হবে না। তবে এবার ২১ জুলাইয়ের বাড়তি তাৎপর্য রয়েছে। বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। সেই ভোটযুদ্ধে দলের রণকৌশল বাতলে দেওয়ার জন্য নেত্রী যে একুশের মঞ্চকেই বেছে নেবেন, নিশ্চিত রাজনৈতিক মহল। মঞ্চ থেকে তিনি কী বার্তা দেন, তারই অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন কাকদ্বীপ থেকে কোচবিহার, দীঘা থেকে দার্জিলিংয়ের আপামর তৃণমূল কর্মী-সমর্থক। 
ইতিমধ্যে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের দূরবর্তী জেলার হাজার হাজার মানুষ কলকাতায় এসে পড়েছেন। তাঁদের মুখে একটাই স্লোগান, ‘ছাব্বিশের নির্বাচন/ বাংলা বিরোধীদের বিসর্জন’। জনগণের এই ‘মুড’ যে আসন্ন ভোটযুদ্ধে তাঁর তুরুপের তাস, রবিবারই তা কার্যত স্পষ্ট করে দিয়েছেন নেত্রী। বিজেপির উদ্দেশে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘বাংলার সম্মান বুঝে নেব।’ এই অবস্থায় রাজনীতির কারবারিরাও মনে করছেন, বিধানসভা ভোটে বিজেপিকে কোণঠাসা করতে বাঙালি অস্মিতাই তৃণমূলের প্রধান অস্ত্র হতে চলেছে। তার প্রেক্ষাপটও প্রস্তুত। মহারাষ্ট্র, ওড়িশার মতো একের পর এক বিজেপি শাসিত রাজ্যে যেভাবে বাংলাভাষীদের বাংলাদেশি তকমা দিয়ে হেনস্তা চলছে, যেভাবে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বাঙালিদের ‘বিদেশি’ দেগে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাতে বিজেপির ‘মুখোশ’ খসে গিয়ে বাংলা বিরোধী ‘মুখ’ সামনে চলে এসেছে বলে দাবি তৃণমূলের। এই ‘বাংলা বিরোধীদের’ হুঁশিয়ারির মাধ্যমেই আসন্ন ভোটযুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দেবেন মমতা। সেই সঙ্গে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কী বলেন, সেদিকেও নজর থাকবে সবার। 
তৃণমূল সূত্রে খবর, রাজ্যে রাজ্যে বাংলাভাষীদের অপমান, হেনস্তা নিয়ে আজ সভামঞ্চ থেকে আরও একবার সোচ্চার হবেন মমতা-অভিষেক। মূলত বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলা ভাষাভাষীদের হেনস্তার যে অভিযোগ সামনে আসছে, তার বিরুদ্ধেই আজ বার্তা দেবে তৃণমূল। ঘোষিত হবে কলকাতা থেকে দিল্লি পর্যন্ত আন্দোলনের কর্মসূচি। ‘বাংলা বিরোধী’ বিজেপিকে এ রাজ্য থেকে উৎখাতের ডাক দেওয়া হবে। তৃণমূলের কাছে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হল কেন্দ্রের মোদি সরকারের ধারাবাহিক আর্থিক বঞ্চনা। ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা, গ্রাম সড়ক যোজনা সহ একাধিক প্রকল্পে মোট ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকার বেশি কেন্দ্রের কাছে পাওনা বাংলার। তা নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য নেই কেন্দ্রের। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দিন তিনেক আগে বাংলা সফরে এলেও রাজ্যের ন্যায্য প্রাপ্য নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি। এনিয়েও মমতা আজ মোদির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলবেন। 
পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলা, সীমান্তে অনুপ্রবেশ ইত্যাদি ইস্যুতেও বিজেপি তথা কেন্দ্রীয় সরকারকে কাঠগড়ায় তুলবে জোড়াফুল শিবির। নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়েও মঞ্চ থেকে নেত্রী সুর চড়াবেন বলে খবর। কমিশন নিরপেক্ষ না হলে প্রয়োজনে তাদের দপ্তর ঘেরাও বা অভিযানের কর্মসূচি নেওয়া হবে কি না, আজ মঞ্চ থেকে তাও জানিয়ে দিতে পারেন নেত্রী। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে দিল্লি, মহারাষ্ট্র, বিহারের পর বাংলাই যে বিজেপির টার্গেট, সেই কথা জানিয়ে বিজেপি বিসর্জনের ডাক দেবে তৃণমূল।  

Advertisement

 

  •  কথায় কথায় চোর-ডাকাত বলা! বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের উপর অত্যাচার! আমরা সব ভাষা, সব রাজ্যের মানুষকে সম্মান করি। কিন্তু তার মানে এটা নয়, বাংলায় কথা বললেই তাকে জেলে পুরে দিতে হবে। 
  • যাঁরা প্রতি বছর অনেক দূর থেকে আসেন, কষ্ট করে থাকেন, তাঁদের আমার আন্তরিক অভিনন্দন। জলে প্লাবিত অনেক এলাকা। তারপরও প্রাণের টানে, শহিদ স্মরণে এসেছেন। কুৎসা সত্ত্বেও আপনারা এসেছেন।
  • সিপিএম আমলে কাউকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে দেওয়া হতো না। সেই আমলে গণতন্ত্র ছিল না। কলকাতার মাল্টিস্টোরিড বিল্ডিংয়ে তালা লাগিয়ে দেওয়া হতো, যাতে কেউ বাইরে বের হতে না পারেন। সেই অবস্থায় আমাদের বিরাট আন্দোলন হয়েছিল। সিপিএমের কোনও ক্ষমতা ছিল না সেদিনের সেই আন্দোলন থামানোর। তাই গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের জন্য গুলি চালিয়েছিল। ১৩ জন মারা যান। টি এন শেসন একজনকে অবজার্ভার করে পাঠান। তারপর ভোট দেওয়ার অধিকার মেলে। আর এখন ডাবল ইঞ্জিন রাজ্য তো ভোটই দিতে দেয় না। 
  • এই জায়গায় এতদিন ধরে সভা করি। কারণ, এখানে অনেক প্রাণ লুটিয়ে পড়েছিল। রক্তের বন্যা বয়েছিল। কেন এই জায়গা, তা নিয়েও অনেকের আপত্তি আছে। ওরা যখন নবান্ন অভিযান করে, তখন তো পুলিসের অনুমতি নেয় না! ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি চিরকাল চলবে। আপনারা আসেন, আসবেন। ২১ জুলাই চলবে, বন্ধ হবে না। সাধারণ মানুষের একটু সমস্যা হবে। সকলকে আমার কৃতজ্ঞতা। সকলের সহযোগিতা চাইছি। সবাইকে আবেদন, শান্তিপূর্ণভাবে আসবেন, ফিরবেন।    ------মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  মুখ্যমন্ত্রী
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ