নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চলতি সপ্তাহেই শুরু হচ্ছে এসআইআর প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপ, শুনানি পর্ব। তার আগে সোমবার নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে দাঁড়িপাল্লার দু’দিকে বসিয়ে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানালেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দলীয় সভায় গেরুয়া শিবিরের দিকে তাঁর চ্যালেঞ্জ, ‘যতই করুন এসআইআর, বাংলা হবে না আপনার। বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপিকে জিরো (শূন্য) করে দেব।’ এখানেই শেষ নয়, ভরা নেতাজি ইন্ডোর থেকে পরের টার্গেটও ঘোষণা করে দিয়েছেন তিনি। দেশে বিজেপি বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মুখ মমতার কথায়, ‘বাংলা জিতলে দিল্লি কেড়ে নেব। ওদের সরকার পড়ে যাবে।’
গত ৪ নভেম্বর বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর দিনেই পথে নেমেছিলেন মমতা। বিজেপি-কমিশনের বিরুদ্ধে তুলেছিলেন চক্রান্তের অভিযোগও। দিন যত এগিয়েছে ততই নেত্রীর আক্রমণের সুর সপ্তমে উঠেছে। আর এদিন তাঁর মেজাজ ছিল আরও উচ্চগ্রামে। শহরাঞ্চলের ৪০টি বিধানসভার তৃণমূলের বুথ লেভেল এজেন্ট এবং দলীয় নেতৃত্বকে নিয়ে নেতজি ইন্ডোরে কর্মিসভা করেন মমতা। সেখানেই এক ঘণ্টার ঝোড়ো ভাষণে বাছা বাছা বিশেষণ প্রয়োগ করেছেন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে। বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনের এসআইআর এ টু জেড ব্লান্ডার (বড় ভুল)! ভ্যানিশ কুমারবাবুরা বিজেপির হয়ে দালালি করছেন।’ তৃণমূলনেত্রীর আরও অভিযোগ, ‘ভোটার তালিকা থেকে কাদের নাম বাদ যাবে সেটা বিজেপির পার্টি অফিসে ঠিক করা হচ্ছে। অপদার্থ কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই এসআইআরের সবটা কন্ট্রোল করছেন। প্রধানমন্ত্রী এবং দেশকেও কন্ট্রোল করছেন তিনি।’ ১০০ দিনের প্রকল্প থেকে গান্ধীজির নাম বাদ দেওয়া নিয়েও এদিন সরব হন মমতা। তাঁর সাফ কথা, দেশকে বিনাশের দিকে নিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার।
কেন এমন অভিযোগ, তার সপক্ষে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। উল্লেখ করেছেন, ৪৬ জনের প্রাণ গিয়েছে। এর দায় কমিশনের। বিজেপির কথায় চলেই পরিকল্পনাহীন এসআইআর। বিএলওদের অ্যাপ ঠিকমতো কাজ করেনি। খসড়া তালিকায় ভোটারদের বাংলা ও ইংরেজি নামের বানানে অজস্র ভুল। পদবি পরিবর্তন কিংবা কোনও মহিলার বিয়ে হয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় নাম বাদের ঘটনাও সামনে এসেছে। বাংলা ভাষা জানেন না এমন লোকেদের গুজরাত ও রাজস্থান থেকে নিয়ে এসে ভোট করানোর চেষ্টা হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, ‘এসআইআর করতে গিয়ে কতজন রোহিঙ্গাকে খুঁজে পেলেন? তাই বলব, সংখ্যালঘু, আদিবাসী, তপশিলি, রাজবংশী, মতুয়া সহ সবাই সংঘবদ্ধ হন। জোট বাঁধুন, লড়াইয়ের জন্য তৈরি হোন।’
বিজেপিকে ভোটের বাক্সে জবাব দিতে তৃণমূলকর্মীদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে লড়াইয়ের শপথ নিয়েছেন মমতা। আওয়াজ তুলেছেন, ‘২০২৬ সালে বিজেপি ও সাম্প্রদায়িক শক্তির বিসর্জন। আমার এতদিনের সংগ্রামকে যদি আপনারা সম্মান জানান, তাহলে লড়তে হবে এবং জিততে হবে। বিজেপিকে বিদায় দিতে হবে।’