সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়, মারগাও: এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু’তে গোল করা প্রথম ভারতীয় ফুটবলার! সাদিও মানে, জোয়াও ফেলিক্সদের আল নাসেরের বিরুদ্ধে জাল কাঁপিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম তোলেন এফসি গোয়ার ব্রাইসন ফার্নান্ডেজ। গোয়ান তরুণ ফুটবলারের চোখে মুখে আত্মবিশ্বাস ভরপুর। সুপার কাপ ফাইনালের আগেই সদর্পে ঘোষণা করেছিলেন, ‘চ্যাম্পিয়ন আমরাই হব।’ আর সেটাই হয়েছে। খেতাব জয়ের সেলিব্রেশনের পর ‘বর্তমান’কে একান্ত সাক্ষাত্কারে অকপট ব্রাইসন ফার্নান্ডেজ।
প্রশ্ন: টানা দু’বার সুপার কাপ চ্যাম্পিয়ন। এবার তো ঘরের মাঠে খেতাব জিতলেন। অনুভূতিটা কীরকম?
ব্রাইসন: এ এক অনন্য অনুভূতি। ফাইনালে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। পেনাল্টি-শ্যুট আউটেও পরতে পরতে ছিল উত্তেজনা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরাই চ্যাম্পিয়ন। ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে সুপার কাপ জেতাটা সত্যিই স্পেশাল।
প্রশ্ন: ঐতিহ্যশালী ক্লাব ইস্ট বেঙ্গলের বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতা কেমন? ভবিষ্যতে কলকাতার কোনও ক্লাবের জার্সিতে কি আপনাকে দেখা যেতে পারে?
ব্রাইসন: ছোট থেকেই ইস্ট বেঙ্গল, মোহন বাগানের নাম শুনছি। তবে বর্তমানে আমি এফসি গোয়াতে খুশী। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে লাল-হলুদ জার্সি গায়ে চাপাতে চাইব।
প্রশ্ন: এএফসি চাম্পিয়ন্স লিগ টু’তে গোল করা প্রথম ভারতীয় ফুটবলার আপনি। তাও আবার সৌদি আরবের শক্তিশালী আল নাসেরের বিরুদ্ধে! সেই ম্যাচ সম্পর্কে বলুন। অনুভূতি কেমন ছিল?
ব্রাইসন: কেরিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় ম্যাচ। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো আমার আইডল। তাঁর বিরুদ্ধে খেলার জন্য মুখিয়ে ছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনি আসেননি। তবে আল নাসের দলে সাদিও মানে, ইনিগো মার্তিনেজরাও ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে খেলার অনুভূতি স্পেশাল তো হবেই।
প্রশ্ন: আল নাসের এবং ভারতীয় ক্লাবের মধ্যে ফারাক কতটা?
ব্রাইসন: বিস্তর। ওদের খেলোয়াড়দের গতি, স্কিল অনেক বেশি। হ্যাঁ, ওই লেভেলে পৌঁছতে আমাদের সময় লাগবে। তবে অসম্ভব নয়।
প্রশ্ন: গোয়ায় ব্রহ্মানন্দ, ব্রুনো কুটিনহোর মতো কিংবদন্তি রয়েছেন। আগামী দিনে আপনার লক্ষ্য কী?
ব্রাইসন: আমি ওঁদের খেলা দেখিনি। তবে শুনেছি অনেক। আমিও এফসি গোয়া এবং ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে নাম লেখাতে চাই। তার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে যাব।