অভিনয় ও রাজনীতি, দুই কেরিয়ার নিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিনয় ও রাজনীতি, দুই কেরিয়ার নিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়।
‘অভিনেত্রী’, এই একটি শব্দের মধ্যেই আপনার দু’টি পরিচয় রয়েছে...ঠিকই। অভিনেত্রী এবং নেত্রী (হাসি)। আসলে প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই অভিনয় সত্তা লুকিয়ে রয়েছে। বাড়িতে দেখেছি মাকে দেখেছি। ধরুন, বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়েছি। আমার ফিরতে রাত হবে। বাবা রাগ করবেন। মা কিন্তু ঠিক ম্যানেজ করে দিতেন।
রাজনৈতিক কেরিয়ারের প্রথম বেশ কয়েক বছর অভিনয় করেননি কেন?
রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে আমি বিনোদনে যাইনি। কারণ রাজনীতি সম্পূর্ণ নতুন পেশা ছিল। সেখানকার দায়িত্ব অন্যরকম। আর্থ সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী এলাকার মানুষের প্রত্যাশা আলাদা। সেই কাজ করতে গেলে আর অন্য কাজ করা যায় না।
প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন কবে?
আমি তো লেডি অব দ্য মিলেনিয়াম। ‘মিস ক্যালকাটা’ ছিলাম। প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো ২০০০ সালের আশপাশে। তখন আমার মডেলিংয়ের কেরিয়ার। বিউটি পেজেন্ট জিতেছিলাম। এরপর রাজনীতি। আমার রাজনীতিতে আসা নট বাই চান্স, ইট ইজ বাই চয়েস।
রাজনীতিতে আপনার ফ্রেন্ড, ফিলোজফার, গাইড কে?
অবশ্যই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রতি আমার অসীম কৃতজ্ঞতা। কারণ তিনি আমাকে বিশ্বাস না করলে, সুযোগ না দিলে কাজ করতে পারতাম না।
গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ড থেকে রাজনীতিতে যাঁরা অংশ নেন, তাঁদের কি অন্য চোখে দেখা হয়?
অভিনয় থেকে রাজনীতিতে এসছেন, সত্যিই এমন উদাহরণ প্রচুর রয়েছে। ‘পহেলে দর্শনধারী, ফের গুণবিচারি’— এই বিষয়টা সাধারণ মানুষের মধ্যে কাজ করে তো। সেই জায়গা থেকে মানুষ তাঁদের ভোটও দেন। তাঁরা জনপ্রতিনিধি হন। তাঁদের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজন রাজনীতিকে সিরিয়াসলি নেন, সময় দেন। বাকিরা হয়তো সময়ের অভাবে ব্যালেন্স করতে পারেন না। আমার ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু আলাদা। আমি রাজনীতি থেকে অভিনয় করছি। এমন উদাহরণ কিন্তু কম।
আপনার রাজনৈতিক কেরিয়ারের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বাংলার মেয়েরা কতটা এগিয়েছে বলে মনে করেন?
বাংলার মেয়েদের স্বনির্ভর করার জন্য রাজ্য সরকারের অনেক প্রকল্প রয়েছে। শহুরে এবং প্রান্তিক মেয়েরা হাতে কিছু টাকা পান। নানা রকম প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে। সেই দিক থেকে মেয়েরা তো অবশ্যই এগিয়েছেন।
অভিনয়ের ক্ষেত্রে আপনার ফ্রেন্ড, ফিলোজফার, গাইড কে?
একজনের নাম বললে ঠিক হবে না। আমি অনেকের কাছ থেকে শিখেছি। ধারাবাহিক করতে গিয়েও বহু পরিচালক হাতে ধরে টেকনিক্যাল বিষয়গুলো বুঝিয়ে দিয়েছেন।
চিত্রনাট্য হাতে এলে কী দেখে পছন্দ করেন?
আমার চরিত্রের গভীরতা কতটা, সেটা দেখি। কিন্তু পরিচালক কে সেটাও আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
অবসরে কী করেন?
আমি ঘরকুনো মানুষ। কাজ না থাকলে বাড়িতেই থাকি। বই পড়ি, ইনস্ট্রুমেন্টাল মিউজিক শুনি।
আপশোস রয়েছে কিছু?
বাড়িতে কোয়ালিটি টাইম কাটাতে পারছি না। অনেক বই পড়ার ইচ্ছে, সেগুলো পড়ার তেমন সুযোগ পাচ্ছি না। আর ক’দিন পর যখন কর্মক্ষমতা থাকবে না, তখন কি এগুলোর জন্য খুব আপশোস হবে? এটা ভাবি।
ভয় কীসে পান?
আমরা তো সামাজিক জীব। ফলে কেউ ভুল বুঝবেন, সেই ভয় থাকে। সত্যিই কি নিজের জন্য বাঁচতে পারি আমরা? বাবা, মা ভালো না থাকলে, বন্ধুরা ভালো না থাকলে আমি একা ভালো থাকব কী করে?
কোন স্বপ্ন নিয়ে বাঁচেন?
আমি ঈশ্বর বিশ্বাসী। কর্মে বিশ্বাসী। যে জায়গাটা পেয়েছি, সেই প্ল্যাটফর্ম থেকে ১০০ শতাংশ মানুষের জন্য গঠনমূলক কিছু করার স্বপ্ন আমার রয়েছে।
স্বরলিপি ভট্টাচার্য