নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: স্বামী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও কাঁথির যুবতী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। তিনি পেশায় পুলিশকর্মী। স্ত্রীর ওই সম্পর্কের কথা ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে জেনেছিলেন তাঁর স্বামী। স্ত্রীকে হাতেনাতে ধরার জন্য শনিবার প্রেম দিবসকেই বেছে নিয়েছিলেন। বিশেষ এই দিনে স্ত্রী তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেনই, সেব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন ওই যুবক। দু’জনকে দেখলেই হেস্তনেস্ত করে ছাড়বেন বলে শপথ নিয়েছিলেন ওই যুবক। সেইমতো সকাল থেকেই তক্কেতক্কে ছিলেন। বেলা ১২টা নাগাদ স্ত্রী ও তার প্রেমিক কাঁথি শহরে ১১৬বি জাতীয় সড়কে হাত ধরাধরি করে হাঁটার সময়ই আচমকা সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন ওই যুবক। লোকজনকে জড়ো করে স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্কের কথা জানান। তারপর যা করলেন তার জন্য সম্ভবত কেউই প্রস্তুত ছিলেন না। রজনীগন্ধার মালা ও সিঁদুর এনে তাঁদের বিয়ে দিয়ে দিলেন। স্ত্রীর প্রেমিকের হাতে সিঁদুর তুলে দিয়ে সিঁথি রাঙিয়ে দিতে চাপ দেন। সেইমতো ওই যুবক বিবাহিত প্রেমিকার সিঁথিতে সিঁদুর রাঙিয়ে দেন। ওই ঘটনার পর যুগলকে নিয়ে সোজা কাঁথি থানায় হাজির হন ওই যুবক। সন্ধ্যার পর অবশ্য স্বামীর বিরুদ্ধেই নির্যাতনের কেস দায়ের করেছেন বধূ।
জানা গিয়েছে, ওই যুবকের বাড়ি খেজুরি থানার কলাগেছিয়া গ্রামে। সাত বছর আগে তাঁর সঙ্গে কাঁথি থানার আঁউরাই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ওই যুবতীর বিয়ে হয়। ২০১৬সালে ওই যুবতী পুলিশের চাকরি পান। তিনি কাঁথিতে কর্মরত। তাঁর স্বামী ছোট ব্যবসা করেন। দম্পতির ছ’বছরের এক ছেলে আছে। প্রায় তিন বছর তাঁরা কাঁথি শহরে ঘরভাড়া নিয়ে বসবাস করেন। গত এক বছর তাঁদের দাম্পত্য জীবনে তৃতীয় ব্যক্তির প্রবেশ ঘটে। তারপর বাড়িতে অশান্তি বাড়ে। জানা গিয়েছে, ওই পুলিশকর্মীর প্রেমিকের বাড়ি উত্তর ২৪পরগনায়। তিনি কর্মসূত্রে বিদেশে থাকতেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় দু’জনের আলাপ। গত তিন মাস ওই যুবক কাঁথি শহরে দীঘা বাইপাস এলাকায় ঘরভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন। সেখানে ওই পুলিশকর্মীকে নিজের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। মাঝেমধ্যে ওই পুলিশকর্মী সেখানে যেতেন বলে স্থানীয়রা জানান। এলাকার লোকজনই ওই পুলিশকর্মীর স্বামীকে এই খবর দেন। তারপর মানসিকভাবে বিধ্বস্ত ওই যুবক হেস্তনেস্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। শনিবার দুপুরে দীঘা বাইপাস সংলগ্ন জাতীয় সড়কে প্রেমিকের হাত ধরে হেঁটে যাচ্ছিলেন ওই মহিলা পুলিশকর্মী। তখনই সেখানেই হাজির হন যুবতীর স্বামী। হাতে ছিল রজনীগন্ধার মালা আর সিঁদুরের কৌটো। দু’জনকে আটকে রাস্তায় মালা বদল ও সিঁদুর দান করিয়ে স্ত্রীকে প্রেমিকের হাতে তুলে দেন। আইনি ঝঞ্ঝাট এড়াতে ওই যুবক সিঁদুরদানের পরই স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিককে নিয়ে সোজা কাঁথি থানায় হাজির হন। পুলিশকে ঘটনার কথা খুলে বলেন। তারপর নিজে বাড়ি ফিরে যান। সন্ধ্যায় ওই যুবতী স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর স্বামী প্রায়শই মারধর করতেন এবং ছেলের উপর অত্যাচার করতেন বলে অভিযোগে জানিয়েছেন। স্বামীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের আর্জিও জানিয়েছেন। ওই পুলিশকর্মীর স্বামী বলেন, আমি অত্যাচার করলে এতদিন অভিযোগ করেনি কেন? চাকরি করা সত্ত্বেও স্ত্রী বাড়িতে টাকা দিত না। আমার রোজগারের টাকায় বাড়ি ভাড়া থেকে অন্যান্য খরচ ও ছেলের পড়াশোনা খরচ জোগানো হয়। স্ত্রী রাতে বাড়িতে আসত। আলাদা বিছানায় ঘুমাত। সকাল হলেই বেরিয়ে যেত। স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওরা প্রায়ই একসঙ্গে সময় কাটাত।