নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: চাবি হস্তান্তরের পরও জলপাইগুড়িতে তালাবন্ধ চারতলা ভবনে বহু সরকারি ফ্ল্যাট। শহরে বসবাসকারী ভূমিহীন মানুষজনকে বিনা পয়সায় দেওয়ার জন্য ওই ফ্ল্যাট তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু তৈরির পর দীর্ঘদিন পড়ে থাকলেও কেন ওই সরকারি ফ্ল্যাটগুলি উপভোক্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে না, এনিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জলপাইগুড়ি শহরে গোশালা মোড়ের কাছে বেশ কয়েক বছর আগে ফ্ল্যাটগুলি তৈরি করে শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এসজেডিএ)। কিন্তু তৈরির পর থেকে সেগুলি তালাবন্ধ অবস্থাতেই পড়ে রয়েছে। সম্প্রতি এসজেডিএ’র পক্ষ থেকে সবক’টি ফ্ল্যাটের চাবি হস্তান্তর করা হয়েছে পুরসভাকে। কিন্তু তারপরও ফ্ল্যাটগুলি উপভোক্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে না কেন, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। বাড়ছে চাপানউতোর।
পুরসভার অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, গোশালা মোড়ের কাছে ওই সরকারি কমপ্লেক্সে এই মুহূর্তে ৬৪টি ফ্ল্যাট রয়েছে। শহরের ২৫টি ওয়ার্ড থেকে ৬৪ জন উপভোক্তা বাছতেই নাকি কালঘাম ছুটছে পুর কর্তৃপক্ষের। আবার অন্য একটি সূত্রের খবর, ওই সরকারি ফ্ল্যাটগুলি আয়তনে এতটাই ছোট যে, সেখানে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করছেন না উপভোক্তারা। এনিয়ে এসজেডিএ’র চেয়ারম্যান দিলীপ দুগার বলেন, আমরা সরকারি ফ্ল্যাটের চাবি জলপাইগুড়ি পুর কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিয়েছি। এখন কেন সেখানে উপভোক্তারা যাননি, সেটা পুর কর্তৃপক্ষই বলতে পারবে। তবুও বিষয়টি নিয়ে আমি পুরসভার সঙ্গে কথা বলব। জলপাইগুড়ি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের অবশ্য দাবি, গোশালা মোড়ের কাছে ওই সরকারি কমপ্লেক্সে প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন ২৮০ বর্গফুট। কারা সেখানে ফ্ল্যাট পাবেন, তার তালিকা প্রস্তুত হয়ে গিয়েছে। উপভোক্তারা ওই সরকারি ফ্ল্যাট হাতে পাওয়ার পর কাউকে বিক্রি করতে, ভাড়া দিতে কিংবা লিজ দিতে পারবেন না, এই মর্মে পুরসভার সঙ্গে চুক্তি বাকি। সেটা হয়ে গেলেই আমরা উপভোক্তাদের হাতে ওই সরকারি ফ্ল্যাটের চাবি তুলে দেব। ভাইস চেয়ারম্যানের দাবি, শহর এলাকায় বসবাসকারী যাঁরা ভূমিহীন, তাঁরা ওই সরকারি ফ্ল্যাট পাওয়ার উপযুক্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন। অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে উপভোক্তা নির্বাচন করা হয়েছে। যদিও জলপাইগুড়ি পুরসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলার অম্লান মুন্সির দাবি, নিখরচায় সরকারি ফ্ল্যাট পাওয়ার জন্য পুরসভার তরফে আমার ওয়ার্ড থেকে দু’জন উপভোক্তার নাম চাওয়া হয়েছিল। সেইমতো আমি উপভোক্তাদের নাম পাঠিয়েওছিলাম। কিন্তু তাঁরা আদৌও ফ্ল্যাট প্রাপক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কি না, সে ব্যাপারে পুরসভার তরফে আমাকে আর কিছু জানানো হয়নি। পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইব। বিরোধী কাউন্সিলারকে অন্ধকারে রেখে ফ্ল্যাট বণ্টন হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।