নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: খুনের দিন বিকেলে বাবার সঙ্গে নিজেদের পুকুরে ছিপ নিয়ে মাছ ধরতে গিয়েছিল হুমায়ুন। দু’টি মাছ ধরে আনার পর মাকে তার পছন্দের পদ রান্না করতে বলে। ছেলের ইচ্ছেপূরণ করতে সেটাই করেছিলেন তার মা মমতাজ পারভিন। পেট ভরে খাওয়ার পরই হুমায়ুন তার বাবা ও মাকে নৃশংসভাবে খুনের ছক কষে। এক প্রতিবেশী বলেন, ওই সন্ধ্যায় মাছ ধরে বাড়ি ফেরার সময় তাঁদের সঙ্গে দেখা হয়। হুমায়ুন কথা বলেনি। ওর বাবা মোস্তাফিজুর রহমান হাসিমুখে মাথা নেড়েছিল। সে এত
বড় কাণ্ড ঘটাতে চলেছে বলে তখনও হুমায়ুনকে দেখে বোঝা যায়নি।
পুলিস জানতে পেরেছে, রাতে খাওয়ার পর হুমায়ুনের বাবা ও মা নিজেদের ঘরে ঘুমাতে যান। পাশের রুমে হুমায়ুন ল্যাপটপ দেখছিল। রাত আড়াইটে নাগাদ বাবা ও মায়ের গলায় ছুরি চালিয়ে সে খুন করে! এক পুলিস আধিকারিক বলেন, ‘তাকে ঠিকভাবে জেরা করাও যাচ্ছে না। মাঝেমধ্যেই মারমুখী হয়ে যাচ্ছে। আবার কোনও কোনও সময় তাক লাগানো কথাও বলছে। বিভিন্ন লেখকের বইয়ের রেফারেন্স তুলে কথা বলছে। কেন গরিবদের পাশে দাঁড়ানো উচিত, তা বইয়ের রেফারেন্সের মাধ্যমে তুলে ধরছে। সমাজে কীভাবে পাপ বা অন্যায় কাজ বন্ধ করা যাবে, তার টিপসও দিচ্ছে সে।’ অতিরিক্ত পুলিস সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ওকে হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। হেফাজতে পাওয়া গেলে ওকে জেলায় এনে জেরা করা হবে। তবে খুনের কথা সে নিজেই স্বীকার করে নিয়েছে।’
আর এক পুলিস আধিকারিক বলেন, ‘দিল্লিতে চাকরি করার সময়ই তার মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। প্রথম দিকে বাড়ির লোকজন তা বুঝতে পারেননি। সে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খুব বেশি কথা বলত না। কিন্তু, হঠাৎ করে চাকরি ছেড়ে হিমাচল প্রদেশে চলে যাওয়ার পর বাড়ির লোকজন বিষয়টি টের পান। ছেলেকে সুস্থ করার জন্য তার বাবা দিল্লিতে কয়েকমাস ছিলেন। কিন্তু তার মানসিক অবস্থার পরিবর্তন না-হওয়ায় তাকে মেমারিতে এনে চিকিৎসা করা হয়। মাঝে কিছুদিন সে অনেকটাই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু গত একমাস ধরে তার মধ্যে অস্বাভাবিকতা বেশি দেখা যায়। সর্বক্ষণ সঙ্গে ছুরি নিয়ে থাকত সে। এ নিয়ে কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করলেই সে বলত, আত্মরক্ষার জন্য এসব রাখতে হবে। এটা সবারই রাখা দরকার। কিন্তু, আত্মরক্ষার কাজে না লাগিয়ে সেই ছুরি দিয়ে নির্মমভাবে তার বাবা এবং মাকে খুন করেছে হুমায়ুন!’