নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দলীয় সাংসদ সৌমিত্র খাঁ ইস্যুতে প্রবল অস্বস্তিতে বঙ্গ বিজেপি। সৌমিত্র-ইস্যুকে সামনে রেখে দলের সমস্ত সাংসদের উদ্দেশে নির্দেশিকা জারির পথে হাঁটতে চলেছে বাংলার গেরুয়া শিবির। বিরোধীরা যেন কোনওমতেই বলতে না পারে, বিজেপি এমপির জন্য সভার কাজ চালানো যাচ্ছে না। সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, এহেন বিতর্কে যেন কখনও বিজেপির বঙ্গ ব্রিগেডের নাম না জড়ায়। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, একপ্রকার এই মর্মেই দলের সাংসদদের জন্য বিশেষ ‘পাঠ’ দেওয়ার ভাবনায় রয়েছে বঙ্গ বিজেপি। দীর্ঘদিন সংসদীয় রীতিনীতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন, এমন কেন্দ্রীয় নেতারাই এই সংক্রান্ত ‘ক্লাস’ নিতে পারেন বলে বৃহস্পতিবার বিজেপি সূত্রে জানানো হয়েছে।
গত বুধবার লোকসভায় মণিপুর নিয়ে আলোচনায় বিজেপির সঙ্গে তুমুল বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা। এই সময়ই রীতিমতো ‘আগ্রাসী’ ভঙ্গিমায় নিজের আসন ছেড়ে তৃণমূল এমপি কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দিকে আক্রমণাত্মক হয়ে এগিয়ে আসেন সৌমিত্রবাবু। এক মহিলা সাংসদের প্রতি অপর এক সংসদ সদস্যের এহেন ‘আচরণ’-এর প্রতিবাদে সরব হন তৃণমূলের মহিলা এমপিরা। বিরোধী মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’র মহিলা এমপিরাও প্রতিবাদে শামিল হন। বছর ঘুরলেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে এই ইস্যুতে কিছুটা হলেও কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বিজেপি। কারণ তৃণমূল কংগ্রেস বুঝিয়ে দিয়েছে, এর শেষ না দেখে ছাড়া হবে না। লোকসভার রুলবুক সামনে রেখে সৌমিত্র খাঁয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগ বাড়াচ্ছে রাজ্যের শাসকদল। লোকসভায় রুলবুকের ৩৪৯ ধারার দুই এবং নয় উপধারাকে হাতিয়ার করে সোচ্চার হচ্ছেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
ওই নিয়মে বলা হয়েছে, কোনও সদস্য যখন বক্তব্য রাখবেন, তখন তাঁকে বিরক্ত করা বা বাধা দেওয়া যায় না। একইসঙ্গে নিজের আসনে বসে কারও নামে মন্তব্যও করা যায় না। তৃণমূলের অভিযোগ, এক্ষেত্রে সৌমিত্রবাবু বুধবার নিজের আসন ছেড়ে দলের বক্তা কাকলিদেবীর প্রায় সামনে চলে এসেছিলেন। এই ব্যাপারে বৃহস্পতিবার কাকলিদেবী বলেন, আমি লোকসভার স্পিকারের কাছে অভিযোগ জানাব। বিজেপি এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে দলীয় সাংসদদের একাংশ স্পষ্টই জানিয়েছে, এক্ষেত্রে এমপিদের আরও সংযত হওয়াই কাম্য। কোনও মন্তব্যের প্রতিবাদ করা এক বিষয়। কিন্তু যাবতীয় ‘এথিক্স’ ভুলে গিয়ে মারমুখী হয়ে ওঠা অন্য বিষয়। সৌমিত্রবাবুর তা মাথায় রাখা উচিৎ।