শান্তনু দত্তগুপ্ত: যাহা বলিব সত্য বলিব। পরিসংখ্যান ছাড়া অভিযোগ করিব না। প্রথমেই এই অঙ্গীকার করে রাখা ভালো। কারণ, এখন যুগটা ঘোর কলির পাশাপাশি অন্ধ ভক্তিরও। ধর্মযুদ্ধ চলছে নিরন্তর। যদিও সেটা মাঠেঘাটে, কুরুক্ষেত্রে নয়। মাথার মধ্যে। এ যুদ্ধের অস্ত্র হল ‘প্রচার’। যা আমার-আপনার মাথার ভিতর ঢুকে পারসেপশন বা ধারণা তৈরি করছে। বদ্ধমূল ধারণা। তার বাইরে আসার জন্য ‘যুক্তি’ নামক দরজাটাই বন্ধ। চারদিকে শুধু দেওয়াল ছাড়া কিছু নজরে আসবে না। আমরা ওই ঘরের ভিতর বসে থাকব। ধীরে ধীরে ওই চার দেওয়ালের মধ্যে লাগাতার চলতে থাকা প্রোপাগান্ডাকে সত্যি বলে মনে করব। আর তাই কোনওকিছু দেখার, শোনার বা বোঝার আগেই কিছু একটা ভেবে রেখে দেব। সেই ধারণার আশপাশ দিয়ে না গেলেই উলটোদিকের বক্তা বা লেখক মিথ্যেবাদী হয়ে যাবে। কিংবা অমুক তমুক শামুক দলের এজেন্ট। তাই প্রথমেই অঙ্গীকার করে রাখা ভালো। পরিসংখ্যানের অঙ্গীকার। তথ্যের অঙ্গীকার।
বিষয়, বিহার ভোট। সেই ভোটের ফল। এবং তার থেকে উঠে আসা একঝাঁক প্রশ্ন। বিহারে বিপুল জনাদেশ পেয়ে ক্ষমতা দখল করেছে এনডিএ। নরেন্দ্র মোদি এবং নীতীশ কুমারের জোট। নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন... এটা কেউ আটকাতে পারবে না। বিজেপি, জেডিইউ, এলজেপির (রামবিলাস) আসনও কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। সবচেয়ে বড়ো কথা, এত বড়ো ম্যান্ডেটে কারচুপি হতে পারে, সেটা ভাবাটাও অপরাধ। ১২২ ম্যাজিক ফিগার। সেখানে যদি শাসক জোট শ’দেড়েকও পেত, তাহলেও ধোঁয়ার পিছন পিছন ছুটে আগুনের হদিশ করা যেত। কিন্তু এনডিএ পেয়েছে ২০০ প্লাস। লোকে বলবে, এত আসনে কারচুপি করা যায় নাকি? প্রমাণ কী? সত্যিই তো! প্রমাণ নেই। মিলবেও না। তাও মানুষের চরিত্রের দোষ। সর্বত্র খুঁত খোঁজে। বিহার ভোটের ফলপ্রকাশের পরও তাই কিছু প্রশ্ন থাকছে। নিছক দুধভাত প্রশ্ন। সেগুলোই না হয় প্লেটে সাজানো থাক।
ভোটার সংখ্যা নিয়ে গোলমাল কেন?
প্রচুর মামলা মোকদ্দমা, বিতর্কের পর বিহারে যেদিন এসআইআর আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হল, সেদিন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ঠোঁটে যুদ্ধজয়ের হাসি। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। তিনি নিজে ঘোষণা করলেন, বিহারে মোট ভোটার সংখ্যা ৭ কোটি ৪২ লক্ষ। নির্বাচন কমিশন সেই মর্মে বিজ্ঞপ্তিও জারি করল। এই পর্যন্ত অসুবিধা নেই। এবার আসা যাক ১১ নভেম্বরের হিসেবে। বিহারে দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের হিসেব বেরিয়ে গিয়েছে। তাদের হিসেব,
দফা মহিলা ভোটার পুরুষ ভোটার মোট
প্রথম ১,৭৬,৭৭,২১৯ ১,৯৮,৩৫,৩২৫ ৩,৭৫,১৩,৩০২
দ্বিতীয় ১,৭৪,৬৮,৫৭২ ১,৯৫,৪৪,০৪১ ৩,৭০,১৩,৫৫৬
মোট ৩,৫১,৪৫,৭৯১ ৩,৯৩,৭৯,৩৬৬ ৭,৪৫,২৬,৮৫৮ (৬৬.৯১%)
এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সময় ৭ কোটি ৪২ লক্ষ ভোটার কীভাবে নির্বাচনের শেষ দিনে ৭ কোটি ৪৫ লক্ষ হয়ে গেল, সেটা ভাবনার বিষয় বটে। এরও অবশ্য উত্তর আছে। এসআইআরের চূড়ান্ত ভোটার তালিকার পরও অনেকেই নাম তুলেছেন। নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে তালিকায়। ধরে নেওয়া যাক, তাঁরা সবাই বৈধ ভোটার। অপেক্ষা করছিলেন, কবে এসআইআর শেষ হবে, তারপর নাম তুলবেন ভোটার তালিকায়। খসড়া তালিকা বেরনোর পরও তাঁদের মধ্যে ভোটার হওয়ার তাড়া পড়েনি। ভোটের ঠিক আগের একমাসে ওইটে হয়েছে আর ৩ লক্ষ ২৬ হাজার ৮৫৮ জন বিহারিবাবু তালিকায় নাম তুলে ফেলেছেন। এখানেও অসুবিধা নেই। অন্তত যুক্তিতক্কের দিক থেকে তো নেই-ই। মুশকিল হল, নির্বাচন কমিশনই জানিয়েছে, বিহারে দু’দফা মিলিয়ে ভোট পড়েছে ৬৬.৯১ শতাংশ। অর্থাৎ, সংখ্যার হিসেবে প্রায় ৫ কোটি মানুষ বিহারে এবার ভোট দিয়েছেন। গত বেশ কয়েকটি নির্বাচনে এমন নজির নেই। সাদা চোখে দেখে মনে হচ্ছে, এসআইআর’ই সেই পথ খুলে দিয়েছে। অন্তত নিন্দুকের আস্ফালন তেমনই। ভোটার তালিকা শুদ্ধকরণের পর যত সংখ্যক নাম জুড়েছে, অতিরিক্ত ‘নির্বাচক’ তারাই নয় তো? এমনও একটা নিরামিষ প্রশ্ন বাজারে ঘুরছে।
এসআইআরের প্রভাব কি পড়েছে?
সমালোচকদের সত্যিই খেয়েদেয়ে কাজ নেই। সর্বক্ষণ খুঁচিয়ে চলেছে। নির্বাচন কমিশনই যেখানে জানিয়ে দিয়েছে, একটিও ভুল হয়নি... সেখানে এসআইআর নিয়ে প্রশ্ন ওঠে কীভাবে? এই অধম প্রতিবেদকও তুলছে না। শুধু কয়েকটা তথ্য সামনে রাখছে। যেমন, রামদেব পাসোয়ান। ভদ্রলোক ৩০ বছর ধরে সরকারি নিরাপত্তারক্ষীর (চৌকিদার) কাজ করেন। বিভিন্ন জায়গায় ডিউটি পড়ে। ভোটেও। আরারিয়ার ভোটার তিনি। বুথ নম্বর, ২১৪। আপাতত তিনি মৃত। ভোটে ডিউটি করেছেন। তারপরও তিনি মৃত। জেলাশাসকের কাছে নালিশ করেছেন। তারপরও তিনি বেঁচে ওঠেননি। কমিশন কী বলছে? একটিও ভুল হয়নি।
বারাচট্টী বিধানসভার ১৬৫ নম্বর বুথ। দুপুর ১টা বেজে গিয়েছে। প্রিসাইডিং অফিসারকে প্রশ্ন করা হচ্ছে, এখন পর্যন্ত কত ভোট পড়েছে এখানে? তিনি বলছেন, মাত্র একটি। মজাদার বিষয় বটে। এই কেন্দ্রে জিতেছে এনডিএ শরিক জিতন রাম মাঝির পার্টি। মাত্র ৮ হাজার ৮৯৩ ভোটে। বারাচট্টী বিধানসভা কেন্দ্র আসে গয়া জেলার অধীনে। এই জেলায় এসআইআরে কত ভোটার বাদ গিয়েছেন? ২ লক্ষ ৪৫ হাজার ৬৬৩ জন। গয়ার অধীনে বিধানসভা কেন্দ্র মোট ১০টি। অর্থাৎ, গড়ে প্রতি কেন্দ্র থেকে নাম বাদ গিয়েছে সাড়ে ২৪ হাজার। আর এই ১০টি আসনে এনডিএ কোথাও জিতেছে ৮৮১ ভোটে, কোথাও ২ হাজার, কোথাও সাড়ে ৮ হাজার। সবচেয়ে বেশি ব্যবধান, ২৬ হাজার ২৪৩। বলতে ইচ্ছে করে, ‘কুছ তো গড়বড় হ্যায় দয়া’। সবচেয়ে বড়ো কথা, ২০২০ সালে এই গয়া জেলার ১০টি আসনই জিতেছিল আরজেডি ও কংগ্রেস মিলে। অর্থাৎ, সবটাই ইন্ডিয়া। এবার পুরোটাই ঘুরে গেল! হতে পারে... জনাদেশ বলে কথা। তবে, গয়া তো স্রেফ উদাহরণ মাত্র। ভোটের দিন বহু কেন্দ্রের এমন বেশ কয়েকটি বুথের হিসেব পাওয়া গিয়েছিল, যেখানে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত একটি করে ভোট পড়েছে। তারপরও তো জনাদেশ উপেক্ষা করা যায় না! হোক না এসআইআর। উঠুক ইভিএম বদলে দেওয়ার অভিযোগ। রাস্তার ধারে পড়ে থাকুক শত শত ভিভিপ্যাট স্লিপ। ওইগুলো গোনা হয়নি... তাতে কী? জনাদেশ তো আর আটকে থাকেনি! কয়েকটা জেলার হিসেব দেখা যাক। এমনি এমনি। জানি, জনাদেশে প্রভাব পড়বে না। তাও...
জেলা আসন বাদ যাওয়া ভোটার গড়
কিষানগঞ্জ ৪ ১,৪৫,৬৬৮ ৩৬,৪১৭
পূর্ণিয়া ৭ ২,৭৩,৯২০ ৩৯,১৩১
কাটিহার ৭ ১,৮৪,২৫৪ ২৬,৩২২
আরারিয়া ৬ ১,৫৮,০৭২ ২৬,৩৪৫
পাটনা ১৪ ৩,৯৫,৫০০ ২৮,২৫০
মধুবনী ১০ ৩,৫২,৫৪৫ ৩৫,২৫৪
পূর্ব চম্পারণ ১২ ৩,১৬,৭৯৩ ২৬,৩৯৯
মুজফফরপুর ১১ ২,৮২,৮৪৫ ২৫,৭১৩
সমস্তিপুর ১০ ২,৮৩,৯৫৫ ২৮,৩৯৫
দ্বারভাঙা ১০ ২,০৩,৩১৫ ২০,৩৩১
সারণ ১০ ২,৭৩,২২৩ ২৭,৩২২
নালন্দা ৭ ১,৩৮,৫০৫ ১৯,৭৮৬
শেখপুরা ২ ২৬,২৫৬ ১৩,১২৮
গোপালগঞ্জ ৬ ৩,১০,৩৬৩ ৫১,৭২৭
ভাগলপুর ৭ ২,৪৪,৬১২ ৩৪,৯৪৪
এবার দেখা যাক, এর মধ্যে কয়েকটি জেলার পরিসংখ্যান। পাঁচ বছর আগে কী ফল ছিল, আর এখন কী হয়েছে।
জেলা ফল (২০২০) ফল (২০২৫)
ইন্ডিয়া এনডিএ ইন্ডিয়া এনডিএ
কিষানগঞ্জ ২ ০ ১ ১
পূর্ণিয়া ১ ৪ ০ ৫
কাটিহার ৩ ৪ ১ ৬
আরারিয়া ১ ৪ ৩ ২
পাটনা ৯ ৫ ৩ ১১
মুজফফরপুর ৫ ৬ ১ ১০
সমস্তিপুর ৫ ৫ ৩ ৭
সারণ ৭ ৩ ৩ ৭
শেখপুরা ১ ১ ০ ২
গোপালগঞ্জ ২ ৪ ০ ৬
অধিকাংশ জেলাতেই কিন্তু ফল স্রেফ উলটে গিয়েছে। মানে, ২০২০ সালে ভোটের যা ফল ছিল, এসআইআরের পর ঠিক তার উলটোটি দেখা গিয়েছে। কোনও কোনও জেলায় তো একটিও আসন বিরোধীদের জন্য ছেড়ে রাখেনি শাসক জোট। তারা বলতেই পারে, ২০২০ সালে ভুয়ো ভোটের কলকাঠিতে এতগুলো আসন পেয়েছিল আরজেডি এবং তার শরিকরা। এখানেও একটা প্রশ্ন আছে—২০২০ সালে নির্বাচনের সময় তো নীতীশ কুমারেরই সরকার ছিল! ভোটার তালিকায় কারচুপি হলে তিনি তা মেনে নিতেন? নাকি তা পরবর্তীকালে ফাঁস করতেন না? এবার যদি তুলসিপাতা ধুয়ে ভোট হয়ে থাকে, তাহলে সর্বত্র প্যাটার্ন সন্দেহজনক কেন? ঠিক কী কারণে উপরের উল্লেখ করা জেলাগুলির বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই যত সংখ্যক মানুষ এসআইআরে বাদ গিয়েছেন, জয়ের ব্যবধান তার গড়ের নিরিখে কম হয়? মোট ১৭৪টি এমন আসন পাওয়া যাচ্ছে... যেখানে এসআইআরে যত ভোটার বাদ গিয়েছেন, এনডিএর জয়ের ব্যবধান তার নীচে। এবার যদি বিরোধীরা বলে, বেছে বেছে বিরোধীদের শক্ত ঘাঁটিতে ভোটার বাদ দেওয়া হয়েছে... একেবারে ফেলে দেওয়া যাবে না।
আর একটা প্যাটার্ন দেখা যাক। কয়েকজন বিজেপি প্রার্থীর জয়ের প্যাটার্ন।
নাম প্রাপ্ত ভোট
বিজয়কুমার সিনহা ১,২২,৪০৮
সম্রাট চৌধুরী ১,২২,৪৮০
কৃষ্ণকুমার ঋষি ১,২২,৪৯৪
নীরজকুমার সিং ১,২২,৪৯১
কমিশন, শাসক, কেন্দ্র, রাজ্য... সবাই বলবে কাকতালীয়। কিন্তু এমন বিস্ময়কর মিলমিশের তল কাকেও খুঁজে পাবে কি না সন্দেহ।
ভোটপ্রাপ্তির হার কি সন্দেহজনক?
এই একটি বিষয় নিয়েও রীতিমতো তোলপাড় চলছে। প্রশ্ন হল আরজেডিকে নিয়ে। লালু-তেজস্বীর দল গত ভোটে ১৪৪টি আসনে লড়েছিল। তখন তাদের ভোটপ্রাপ্তির হার ছিল ২৩.১১ শতাংশ। জিতেছিল ৭৫টি আসন। এবার তারা লড়েছে ১৪৩টি আসনে। ভোটপ্রাপ্তির হার ২৩ শতাংশ। কিন্তু জয়? মাত্র ২৫টি আসনে। প্রায় একই সংখ্যক আসনে লড়ে, গতবারের জয়ের কেন্দ্রগুলি ধরে রেখে এবং কমবেশি একই ভোট শতাংশে দাঁড়িয়ে থাকার পরও ৫০টি আসন আরজেডির কমে গেল কেন? একটি থিওরি অবশ্যই হল, জোটের নিরিখে ভোটপ্রাপ্তির হার দেখতে হবে। দলভিত্তিক নয়। তাহলেই ফারাকটা নজরে আসবে। ঠিক কথা। সব মিলিয়ে হিসেব কষলে এবার এনডিএ ৪৬.৫৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে, আর মহাগঠবন্ধন ৩৭.৯৪ শতাংশ। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই অঙ্কটাই ছিল যথাক্রমে ৩৭.২৬ এবং ৩৭.২৩ শতাংশ। অর্থাৎ, একেবারে গায়ে গায়ে। সেই বছর ওয়েইসির এআইএমআইএম, বিএসপি, এলজেপি, নির্দলরা মিলে বাকি ভোটের দখল নিয়েছিল। এবার এলজেপি (রামবিলাস) এসে গিয়েছে সরাসরি এনডিএর ছাতার তলায়। ফলে চিরাগ পাসোয়ানের প্রায় ৫ শতাংশ ভোট চলে এসেছে বিজেপির শিবিরে। পাশাপাশি আসন ভাগাভাগি নিখুঁত হওয়ায় গেরুয়া পার্টি ও নীতীশের দলের ভোটও ঢুকেছে তাঁর ঝুলিতে। কিন্তু একটা বিষয়... গতবারের তুলনায় এলজেপির ভোটপ্রাপ্তির হার কিন্তু এক শতাংশের মতো কমে গিয়েছে। ভোটব্যাংকে কার্যত ধস নেমেছে মিম সহ অন্যান্য দলগুলির। কীভাবে? বিকাশ? জাতি গণনা? মুসলিম-যাদব ভোট? ভোটের আগেই মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা? নাকি এসআইআর? সবক’টি ফ্যাক্টর কাজ করেছে এই ফলের নেপথ্যে। আর এই খেলায় এনডিএ শিবির এতটুকু হাঁকপাঁক করেনি। কোনও বুথে ভোটার সংখ্যার তুলনায় ভোট বেশি পড়েনি। সব আসন বিরোধীদের থেকে কেড়ে নেওয়া হয়নি। জয়ের স্ট্রাইক ১০০ শতাংশে কেউ যায়নি... বিজেপি হোক, জেডিইউ, বা চিরাগ—৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ আসন জিতেই থেমে গিয়েছে তারা। ভোটের যে ৪ শতাংশের মতো স্যুইং হয়েছে, তার পুরো সুবিধাটা দেওয়া হয়েছে নীতীশ কুমারকে। তাঁর দলের ভোটপ্রাপ্তির হারই ১৫.৩৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৯.২৫ শতাংশ হয়েছে। বিজেপি গতবারের তুলনায় এক শতাংশ ভোট বাড়িয়েছে। আর আসন সংখ্যা ৭৪ থেকে নিয়ে গিয়েছে ৮৯তে। সঙ্গে একটা বার্তা নীতীশকেও—আমাদের ছত্রচ্ছায়ায় থাকো। পালটি খেয়ো না। তাহলে তোমাকে ছাড়াই বিহারে আমরা সরকার গড়ে ফেলব।
এসআইআর বিহারে কতটা প্রভাব ফেলেছে, তার উত্তর দিতে পারলাম না। কিন্তু প্রশ্নগুলো রাখলাম। আশা করি, এইসবের উত্তর পেলেই এসআইআর রহস্যের সমাধান হবে। অবশ্যই যদি কিছু থাকে। বাংলার কাছে যদিও রয়েছে। কারণ, আমাদের রাজ্যে আতঙ্কটা এখন ট্রেন্ডিং।