নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বুজে গিয়েছে নিকাশি খাল। তার ওপর টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টি। আপাতত বৃষ্টি কিছুটা ধরায় হাওড়া শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে জল নেমেছে। কিন্তু পরিস্থিতি একটুও বদলায়নি পুরসভার ৫০ নম্বর ওয়ার্ডে বালিটিকুরি খালধার পাড়া এলাকায়। এখানে প্রায় প্রতিটি বাড়ির ভিতরে জল ঢুকে রয়েছে। শিকেয় উঠেছে রান্নাবান্না, ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা। মুড়ি খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে শতাধিক বাসিন্দাকে। জমা জলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের পাশাপাশি বাড়ছে জ্বরের প্রবণতাও।
গত দু’দিন সেভাবে বৃষ্টি না হলেও খালধার পাড়ায় জলযন্ত্রণার ছবি রয়ে গিয়েছে একইরকম। এলাকার প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই শোবার ঘর পর্যন্ত জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। দুর্গন্ধযুক্ত জলে ঘরে টেকাই দায় হয়ে উঠেছে। সব জিনিসপত্র তুলে রাখতে হচ্ছে বিছানার উপর। ফলে রাতে ঘুমনো একপ্রকার অসম্ভব হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মধুসূদন দত্ত বলেন, ‘প্রতি বছরই বর্ষার সময় নরক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়। পুরসভার কোনও উদ্যোগ চোখে পড়ে না। জানি না, জমা জল কতদিনে সরবে।’ আরেক বাসিন্দা অনিতা মণ্ডল বলছিলেন, ‘জমা জলে থাকতে থাকতে জ্বর হচ্ছে অনেকের। ঠান্ডায় গলা ধরে গিয়েছে। প্রশাসন ব্যবস্থা নিক।’
বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ১৫ দিন ধরে গোটা এলাকা জলমগ্ন হয়ে থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের কারও দেখা মেলেনি। রান্নাবান্না না হওয়ায় মুড়ি, চিঁড়ে, শুকনো খাবার খেয়ে দিনের পর দিন কাটাতে হচ্ছে তাঁদের। আরও অভিযোগ, দিন কয়েক আগে জমা জল সরাতে একটি পাম্প চালানো হয়েছিল। কিন্তু তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় সেটি এখন বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। এলাকায় বড় নিকাশি খাল থাকলেও সেখান দিয়ে জল খুব বেশি প্রবাহিত হচ্ছে না। কমবেশি একই অবস্থা কোনা, জগাছার শরৎপল্লি এলাকাতেও। সেখানেও প্রায় প্রতিটি বাড়ির মধ্যে হাঁটুসমান জল। ঘরে ঘরে বাড়ছে চর্মরোগের সমস্যা। শনিবার ডোমজুড়ের কোলোরা পঞ্চায়েত এলাকায় ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ কর্মসূচিতে গিয়েছিলেন জেলাশাসক পি দীপাপ্রিয়া। সেখানে এলাকার বেহাল নিকাশি, পুকুর সংস্কার না হওয়া নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন স্থানীয় মহিলারা। দ্রুত নিকাশির সমস্যা মেটানোর আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সেচদপ্তরের বেশ কিছু নিকাশি খাল সংস্কার না হওয়ায় প্রায় সম্পূর্ণ বুজে গিয়েছে। হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘নিয়মিত পাম্প চালানো হচ্ছে। বহু জায়গা থেকে জল সরেও গিয়েছে। কিন্তু সেচদপ্তরের অধীন কয়েকটি খাল সংকীর্ণ হয়ে থাকার ফলে হাওড়া শহর ও সংলগ্ন বেশ কিছু এলাকা থেকে জমা জল সরছে না। তবে ইতিমধ্যেই সেচদপ্তর খাল সাফাইয়ের কাজ শুরু করেছে।’ নিজস্ব চিত্র