নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: আর তিন বছরের মধ্যে আর কোনও অস্তিত্বই থাকবে না হাওড়ার বেলগাছিয়া ভাগাড়ের। বায়ো মাইনিংয়ের মাধ্যমে আবর্জনার পাহাড় কেটে ফেলা হবে। তৈরি হবে বিশাল আয়তনের মাঠ। এই ভাগাড় থেকে আবর্জনা তুলে নিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে অন্য জায়গায়। পাশাপাশি গোটা হাওড়া থেকেই খোলা ভ্যাট তুলে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। সোমবার বেলগাছিয়ায় ভূমিধস পরিস্থিতি দেখার পর এ সংক্রান্ত এবং আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।
গত রবিবার রাজ্যের তরফে ভাগাড় পরিদর্শনে গিয়েছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞানীদের একটি দল। মাটির উপরিতলের চাপ কমাতে আবর্জনার পাহাড়ে দ্রুত বায়ো মাইনিংয়ের পরামর্শ দিয়েছিল তারা। এরপর সিদ্ধান্ত হয়, বড়সড় বিপর্যয় এড়াতে আশপাশের দেড় বর্গ কিলোমিটার পরিধির মধ্যে থাকা বসতি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। এদিন পুরমন্ত্রী বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বেলগাছিয়া ভাগাড় তৈরি হয়েছে। মিথেন গ্যাস মানুষের জন্য ক্ষতিকর। আগে যাঁরা এখানে ভাগাড় তৈরি করেছিলেন তাঁরা এসব ভাবেননি। এখন থেকে ভাগাড়ের বিপজ্জনক জায়গাগুলি থেকে প্রতিদিন ৮০ গাড়ি আবর্জনা অন্য জায়গায় নিয়ে গিয়ে প্রসেস করা হবে। পাশাপাশি এখানেই দু’মাসের মধ্যে তৈরি হবে একটি প্রসেসিং ইউনিট।’ জানা গিয়েছে, এবার থেকে প্রতিদিন হাওড়ার তিনশো টন জঞ্জাল কলকাতার ধাপায় আসবে। বাকি আড়াইশো টন পাঠানো হবে বৈদ্যবাটিতে।
একইসঙ্গে জানা গিয়েছে, পাহাড়ে বায়ো মাইনিং করে আবর্জনা ব্যালেস্টিক সেপারেটর মেশিনের সাহায্যে ওই জায়গাতে পৃথকীকরণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বন্দোবস্ত করবে কেএমডিএ। তবে হাওড়ার বাসিন্দাদের বক্তব্য, ‘বায়ো মাইনিংয়ের কথা তো গত কয়েকবছর ধরে শুনছেন তাঁরা। কিন্তু তার বাস্তবায়ন এখনও পর্যন্ত চোখে পড়েনি।’ এদিকে ভূমিধসের ফলে বিপর্যস্ত হাওড়ার অন্যতম মূল নিকাশি নালাগুলিও। নিকাশির পথ বন্ধ হয়ে জলমগ্ন অবস্থা তৈরি হয়েছে সাত ও আট নম্বর ওয়ার্ডের একাধিক জায়গায়। এ সমস্যা সমাধানে সিল পাইলিং করে নিকাশি সংস্কার হবে বলে জানান পুরমন্ত্রী। বেলগাছিয়া শুধু নয়, শহরজুড়ে খোলা ভ্যাট তুলে দিতেও তৎপর পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। আজ, মঙ্গলবার একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছেন পুরমন্ত্রী। সেখানে হাওড়া ও বালি পুরসভার আধিকারিক, ইঞ্জিনিয়াররা থাকবেন। বৈঠকে কলকাতা ও বৈদ্যবাটিতে জঞ্জাল পাঠানো নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে। এছাড়া হাওড়া ও বালির কোন জায়গায় রাস্তা খারাপ, কোথায় ভ্যাটের সমস্যা তা নিয়েও হবে আলোচনা। ভ্যাট তুলে দিয়ে পোর্টেবল কম্প্যাক্টর মেশিন বসানোর কথাও ভেবে দেখা হচ্ছে বলে এদিন
জানান পুরমন্ত্রী।