নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়ার ডুমুরজলা ইন্ডোর স্টেডিয়াম তথা সবুজসাথী ক্রীড়াঙ্গনের আধুনিকীকরণের কাজে হাত দিচ্ছে হাওড়া পুরসভা। স্টেডিয়ামটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করা হবে। কাজ শেষ হলে এখানে টেবিল টেনিস, যোগা, দাবার মতো ছোট ছোট গেমসের আয়োজন করা যাবে। আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করতে চায় পুরসভা।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ইন্ডোর স্টেডিয়ামটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত না হওয়ার কারণে গরমের সময় টুর্নামেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। তাই এবার ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বসানো হবে সেন্ট্রালাইজড এসি।
পাশাপাশি তৈরি করা হবে একটি আধুনিক ব্যাঙ্কোয়েট হল। ইন্ডোর স্টেডিয়ামের উপরের অংশে বেশ কয়েকটি ঘর অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেগুলিতে টেবিল টেনিস, যোগা, ক্যারম, দাবার মতো ছোট ছোট প্রতিযোগিতার আয়োজন করাযেতে পারে। সেভাবেই উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। সব মিলিয়ে খরচ হবে প্রায় তিন কোটি টাকা। হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘ইন্ডোর স্টেডিয়ামের পরিকাঠামো বৃদ্ধি পেলে পুরসভার রাজস্ব খাতে আয় বাড়বে। বিভিন্ন সংস্থা প্র্যাকটিস কিংবা প্রতিযোগিতা আয়োজনের ক্ষেত্রে ঘরগুলিকে ব্যবহার করতে পারবে। চলতি মাসেই কাজ শুরু হয়ে যাবে।’
আজ থেকে প্রায় ২৭ বছর আগে জেলাস্তরে খেলাধুলোর চর্চা উন্নত করতে হাওড়ার ডুমুরজলায় তৈরি হয়েছিল ইন্ডোর স্টেডিয়াম। বাম জমানায় পর্যাপ্ত পরিকাঠামো না থাকার কারণে বছরের পর বছর এখানে খেলাধুলোর আয়োজন করা যায়নি। পরবর্তীকালে স্টেডিয়ামটি একপ্রকার অনুষ্ঠান ভবন হিসেবেই কাজে লাগানো হতো।
২০১৯ সালে ডুমুরজলা স্টেডিয়াম অর্থাৎ বর্তমানে সবুজসাথী ক্রীড়াঙ্গনের আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নেয় রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। দায়িত্ব দেওয়া হয় হাওড়া পুরসভাকে। কিন্তু পুরসভার তরফে যে সংস্থাকে স্টেডিয়াম সংস্কারের বরাত দেওয়া হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে নিয়ম বহির্ভূতভাবে একাধিক কাজের অভিযোগ সামনে আসে। পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর টেন্ডারে অস্বচ্ছতার বিষয়টি ধরে। সব মিলিয়ে স্টেডিয়ামের প্রায় ২৫ শতাংশ কাজ বাকি থেকে যায়। তারপরেও ধাপে ধাপে স্টেডিয়ামের সংস্কার করে প্রতিযোগিতা আয়োজনের ব্যবস্থা করে। ইতিমধ্যেই এখানে জাতীয় স্তরের বাস্কেটবল চ্যাম্পিয়নশিপ, স্টেট স্কুল গেমস আয়োজিত হয়েছে। নিজস্ব চিত্র