সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: জলাভূমি ভরাট, গাছ কাটা থেকে পারিপার্শ্বিক নানা কারণে বনাঞ্চল কমে গিয়েছে। ফলে হাওড়া জেলায় পশুপাখি সহ বন্যপ্রাণের বাসস্থানের অভাব দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন সময় উদ্ধার হওয়া পশুপাখিদের পুনর্বাসন দেওয়ার ক্ষেত্রেও বড় সমস্যা হচ্ছে। এই সমস্যা কাটাতে এবার বাগনানে প্রায় ১০ কিলোমিটার নদী তীরবর্তী এলাকা জুড়ে বনাঞ্চল তৈরির পরিকল্পনা করেছে হাওড়া জেলা পরিষদ।
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে এই ব্যাপারে প্রোজেক্ট রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সরকারি ছাড়পত্র পাওয়া গেলে কাজ শুরু হবে। হাওড়া জেলার যেসব জায়গায় এখনও কিছু বনাঞ্চল অবশিষ্ট আছে, সেখানে সজারু, বাঘরোল, বনবিড়াল, ভাম, কচ্ছপ, গোসাপ থেকে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির বসবাস। আর মাঝেমধ্যেই এইসব বন্যপ্রাণী নানা কারণে আহত হয় বা উদ্ধার হয়। পরে এইসব বন্যপ্রাণীকে পুনর্বাসন দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হয় উদ্ধারকারী থেকে বনদপ্তরের কর্মীদের।
জেলায় অস্বাভাবিকভাবে বনাঞ্চল কমে যাওয়ায় বর্তমানে এটা একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাওড়া জেলা পরিষদ সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া বন্যপ্রাণীদের পুনর্বাসন দেওয়ার লক্ষ্যে বাগনান বিধানসভার বাঙালপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এবং হাটুরিয়া ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের দামোদর নদী তীরবর্তী এলাকা জুড়ে বনাঞ্চল তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
হাওড়া জেলা পরিষদের বন ও ভূমিদপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ মানসকুমার বসু জানান, ওই এলাকার ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বনাঞ্চল তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেখানে উদ্ধার হওয়া বন্যপ্রাণীদের আশ্রয়স্থল তৈরি করা হবে। ইতিমধ্যে উদ্ধার করা কিছু বন্যপ্রাণীকে ওখানে ছাড়া হয়েছে। বর্তমান যুগে দেশের মধ্যে এটা একটা মডেল প্রোজেক্ট হবে বলে দাবি করেন মানসবাবু। জেলা পরিষদের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পরিবেশকর্মী থেকে বন্যপ্রাণ উদ্ধারকারীরা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।