


ফের শুরু হয়েছে কোভিডের হানা। চিকিৎসকরা বলছেন, এখন থেকেই ইমিউনিটি বাড়িয়ে তুললে সহজে কাবু হবেন না। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাই ইমিউনিটি। জন্মের পর থেকেই শরীরের সহজাত ইমিউনিটি তৈরি শুরু হয়ে যায়। এছাড়া শিশুদের বিভিন্ন টিকা দিয়েও ইমিউনিটি তৈরি করা হয়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছু বদভ্যাসের জন্য এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। তাই ইমিউনিটি বাড়িয়ে তোলা একান্ত জরুরি। আমরা অনেকেই ভাবি দিনকয়েক একটানা কিছু ওষুধ ও ভিটামিন খেলেই বুঝি ইমিউনিটি বেড়ে যাবে। তা কিন্তু নয়। বরং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে নজর দিতে হবে ইমিউনিটি বাড়াতে চাইলে নজর দিতে হবে বিশেষ কিছু দিকে। তবেই ইমিউনিটিকে ‘বুস্ট’ করা সম্ভব।
বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ সুশ্রুত বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন ইমিউনিটি বাড়ানোর কিছু উপায়।
কী করলে বাড়বে ইমিউনিটি?
রোজ দিনের মধ্যে অন্তত কিছুটা সময় শরীরচর্চা করুন। ৩০ মিনিট সময় পেলেই যথেষ্ট। হাঁটা, সাঁতার, সাইক্লিং এসবের সঙ্গে সুযোগ পেলেই লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন। শরীরচর্চার একান্ত সময় না পেলে কোন জায়গা থেকে বাড়ি ফেরার সময় দু তিনটি স্টপ আগে নামুন। বাকি রাস্তা হেঁটে ফিরুন। এতেও হাটার উপকার পাবেন। তবে যেন হাঁটার সময় পিঠে ভারী ব্যাগ বা হাতে ভারী বোঝা না থাকে।
ইমিউনিট সক্রিয় রাখতে সুষম আহারও খুব প্রয়োজনীয়। খাবারের তালিকায় কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, খনিজের ভারসাম্য রাখতে হবে। এছাড়া মরশুমের টাটকা শাকসবজি, ফল রাখুন ডায়েটে।
শরীরের প্রয়োজন অনুসারে খেতে হবে, প্রয়োজনীয় মাছ মাংস ডিম সহ প্রাণীজ প্রোটিন ও দুগ্ধজাত পণ্য। টাটকা মাছ-মাংস, ডিম, দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য। তেল, ঝাল, মশলা যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। তবেই মিলবে পুষ্টি। ঠিক ডায়েট মেনে ওজন ঝরানোও জরুরি। স্থূলত্ব ইমিউনিটির উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সজীব রাখতে ঘুম খুব প্রয়োজনীয়। পর্যাপ্ত সময় ধরে মন শান্ত করে ঘুমান। দিনে অন্তত সাত ঘণ্টা শান্তিতে ঘুমাতে হবে।
চিন্তাকে দুশ্চিন্তায় পরিণত করবেন না। কাজের ক্ষেত্রে স্ট্রেস, মানসিক চাপ খানিকটা থাকবে। তবে সেই চাপ যেন মানসিক শান্তির উপর প্রভাব ফেলতে না পারে। পারলে মেডিটেশন করুন।প্রয়োজনে স্ট্রেস কমাতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
বিভিন্ন নেশার জিনিস যেমন: মদ, বিড়ি, সিগারেট ইত্যাদি খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একধাক্কায় অনেকটা কমে যায়। তাই নিজেকে সুস্থ রাখতে চাইলে এই অভ্যেস এখনই ছাড়ুন।
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া মুড়ি-মুড়কির মতো পেন কিলার এবং অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না। ওষুধের কোর্স শেষ না করা, মুঠো মুঠো অ্যান্টাসিড খাওয়া ইত্যাদিতে শরীরের ইমিউনিটি পাওয়ার অনেকটা কমে যায়।
লিখেছেন মনীষা মুখোপাধ্যায়