


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শীত ঘিরে সর্বত্রই উৎসবের আবহ। ঘুরতে বেরিয়ে বাইরের খাবারের প্রতি ঝোঁক বাড়ে সাধারণ মানুষের। কিন্তু সেখানে কি তাঁরা নিরাপদ খাবার পান? রাস্তার ধারের দোকান বা রেস্তরাঁর খাবার কতটা স্বাস্থ্যসম্মতভাবে তৈরি করা ও পরিবেশিত হয়? এসব নিয়ে কি আদৌ সচেতন সাধারণ ক্রেতারা? এসব কারণে শীতের মরশুমে এবার রাস্তায় নেবে সাধারণ ক্রেতাদের খাবার সম্পর্কিত সচেতনতার পাঠ দিতে উদ্যোগী হল ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া’ বা এফএসএসএআই। পাশাপাশি দোকানদারদের স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশনের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে তারা।
খাবারের গুণমান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কাজ করে এফএসএসএআই। নির্দিষ্ট নিয়ম না মানলে খাদ্যপ্রস্তুতকারক ও সরবরাহকারী সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তাদের। সেসবের পাশাপাশি এবার সচেতনতা বৃদ্ধির পথেও হাঁটতে শুরু করল তারা। উত্তর ২৪ পরগনা জেলাকে কেন্দ্র করে এই কাজ শুরু হয়েছে। এখানকার জেলা খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক প্রসেনজিৎ বটব্যাল জানিয়েছেন, সল্টলেক, রাজারহাট, নিউটাউনের মতো জায়গায় যেখানে বেশি ভিড় হচ্ছে ও মানুষ বাইরের খাবারদাবারের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন, সেখানে গিয়ে সচেতনতার পাঠ দিচ্ছেন তারা। তাঁর কথায়, ‘কোন কোন উপকরণ ব্যবহার করে এবং কী কী উপায়ে স্বাস্থ্যকর রান্না করা উচিত সেই বিষয়ে জানানো হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। পাশাপাশি ক্রেতারা কী খাবেন, কোন খাবার এড়িয়ে যাবেন, সেই সংক্রান্ত পাঠও দেওয়া হচ্ছে।’ ফুড সেফটি অফিসার সাকির হুসাই এবং সৌরভ ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমরা ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের থেকেই দারুণ সাড়া পাচ্ছি। আমাদের সঙ্গেই থাকছে ফুড সেফটি ভ্যান বা খাদ্যসুরক্ষা যান। মানুষ কী কিনে খাচ্ছেন, তার গুণমান বিচার হয়ে যাচ্ছে সেখানেই। আমরা পরীক্ষা করে দেখিয়ে দিচ্ছি, তাঁদের কেনা খাবার কতটা নিরাপদ বা সেখানে কতটা ভেজাল আছে। আপাতত আমাদের এই ধরনের সচেতনতা শিবির চলবে। আশা, বহু মানুষ এর ফলে উপকৃত হবেন।’